০৮:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীতে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার উদ্বোধন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু

 

রাজশাহী :

রাজশাহীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত। শহিদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে রাজশাহী কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু।

মহান ভাষা আন্দোলনের প্রায় ৭৪ বছর পর অবশেষে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার পেল রাজশাহীর মানুষ। নগরীর রাজারহাতা এলাকায় জেলা পরিষদের উদ্যোগে প্রায় সাড়ে ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত রাজশাহী কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের একটি প্রত্যাশার অবসান ঘটেছে। একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে নবনির্মিত মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা এক মিনিটে শহিদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। এ সময় রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন, রাজশাহীর জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধন শেষে শহিদ মিনারটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এরপর রাজনৈতিক দল, সাংবাদিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের মানুষ শহিদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় ভরে ওঠে শহিদ মিনার প্রাঙ্গণ।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে রাজশাহীতে একটি কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছিল বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। সেই দাবির প্রেক্ষিতে ২০২০ সালের ১৬ ডিসেম্বর নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন রাজশাহী জেলা পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা মীর ইকবাল। জেলা পরিষদের মালিকানাধীন সরকারি সার্ভে ইনস্টিটিউট নগরীর নওদাপাড়ায় স্থানান্তরিত হলে রাজারহাতায় প্রায় এক বিঘা জমি খালি হয়। পরবর্তীতে ওই জমিই কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়।

তবে জেলা পরিষদ ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মধ্যে মালিকানা ও বাস্তবায়নসংক্রান্ত জটিলতার কারণে নির্মাণকাজ কিছু সময় স্থবির হয়ে পড়ে। পরে জেলা পরিষদের নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্পের কাজ পুনরায় শুরু হয় এবং শেষ পর্যন্ত নির্মাণ সম্পন্ন হয়। আধুনিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত এই শহিদ মিনারটি এখন রাজশাহীর নতুন এক প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়েছে।

রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক ও অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার হাবিবুর রহমান বলেন, মহান ভাষা আন্দোলন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এবং ভাষাসহ সকল শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের লক্ষ্যেই এই শহিদ মিনার নির্মাণ করা হয়েছে। এটি রাজশাহীবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল, যা আজ বাস্তবায়িত হয়েছে।

উদ্বোধনের পর একুশের প্রথম প্রহরে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষ সারিবদ্ধভাবে শহিদ মিনারে ফুল দেন। ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানের সুরে প্রাঙ্গণ মুখর হয়ে ওঠে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার পাওয়ায় রাজশাহীবাসী সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের আশা, এই শহিদ মিনার শুধু শ্রদ্ধা নিবেদনের স্থানই নয়, ভাষা আন্দোলনের চেতনা ধারণ ও প্রজন্মের মাঝে তা ছড়িয়ে দেওয়ার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে।

Tag :
এখন আলোচনায়

রাজশাহীতে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার উদ্বোধন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু

রাজশাহীতে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার উদ্বোধন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু

আপডেট সময় : ০৬:০৯:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

রাজশাহী :

রাজশাহীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত। শহিদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে রাজশাহী কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু।

মহান ভাষা আন্দোলনের প্রায় ৭৪ বছর পর অবশেষে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার পেল রাজশাহীর মানুষ। নগরীর রাজারহাতা এলাকায় জেলা পরিষদের উদ্যোগে প্রায় সাড়ে ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত রাজশাহী কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের একটি প্রত্যাশার অবসান ঘটেছে। একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে নবনির্মিত মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা এক মিনিটে শহিদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। এ সময় রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন, রাজশাহীর জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধন শেষে শহিদ মিনারটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এরপর রাজনৈতিক দল, সাংবাদিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের মানুষ শহিদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় ভরে ওঠে শহিদ মিনার প্রাঙ্গণ।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে রাজশাহীতে একটি কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছিল বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। সেই দাবির প্রেক্ষিতে ২০২০ সালের ১৬ ডিসেম্বর নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন রাজশাহী জেলা পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা মীর ইকবাল। জেলা পরিষদের মালিকানাধীন সরকারি সার্ভে ইনস্টিটিউট নগরীর নওদাপাড়ায় স্থানান্তরিত হলে রাজারহাতায় প্রায় এক বিঘা জমি খালি হয়। পরবর্তীতে ওই জমিই কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়।

তবে জেলা পরিষদ ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মধ্যে মালিকানা ও বাস্তবায়নসংক্রান্ত জটিলতার কারণে নির্মাণকাজ কিছু সময় স্থবির হয়ে পড়ে। পরে জেলা পরিষদের নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্পের কাজ পুনরায় শুরু হয় এবং শেষ পর্যন্ত নির্মাণ সম্পন্ন হয়। আধুনিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত এই শহিদ মিনারটি এখন রাজশাহীর নতুন এক প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়েছে।

রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক ও অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার হাবিবুর রহমান বলেন, মহান ভাষা আন্দোলন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এবং ভাষাসহ সকল শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের লক্ষ্যেই এই শহিদ মিনার নির্মাণ করা হয়েছে। এটি রাজশাহীবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল, যা আজ বাস্তবায়িত হয়েছে।

উদ্বোধনের পর একুশের প্রথম প্রহরে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষ সারিবদ্ধভাবে শহিদ মিনারে ফুল দেন। ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানের সুরে প্রাঙ্গণ মুখর হয়ে ওঠে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার পাওয়ায় রাজশাহীবাসী সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের আশা, এই শহিদ মিনার শুধু শ্রদ্ধা নিবেদনের স্থানই নয়, ভাষা আন্দোলনের চেতনা ধারণ ও প্রজন্মের মাঝে তা ছড়িয়ে দেওয়ার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে।