০৪:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গায় পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত: রমজানে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ

স্টাফ রিপোর্টার, চুয়াডাঙ্গা।

চুয়াডাঙ্গা জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধ দমনে নব উদ্যমে কাজ করার লক্ষ্যে জেলা পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ০২:৩০ ঘটিকায় চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপারের কার্যালয় সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গার সুযোগ্য পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে বিগত জানুয়ারি ২০২৬ মাসের অপরাধ চিত্র বিশ্লেষণ এবং আগামী মাসগুলোর জন্য বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।

সভায় জানুয়ারি মাসে জেলায় সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের ধরণ ও পরিসংখ্যান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে-

ঝুলে থাকা গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোর দ্রুত তদন্ত শেষ করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তাগিদ দেওয়া হয়।

সীমান্তঘেঁষা জেলা হওয়ায় মাদক চোরাচালান রোধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা হয়। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযানের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

ওয়ারেন্ট তামিল বা সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের গ্রেফতারে থানাভিত্তিক পারফরম্যান্স পর্যালোচনা করা হয়।

চুরি, ডাকাতি, দস্যুতা ও ছিনতাই রোধে নৈশকালীন টহল বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সামনে পবিত্র মাহে রমজানকে কেন্দ্র করে পুলিশ সুপার মহোদয় মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য-

রমজানে ইফতারের আগে এবং ঈদের কেনাকাটার সময় শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে যানজট নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক ব্যবস্থা আরও জোরদার করা।

ব্যাংক, বীমা ও বিভিন্ন বড় শপিং মলগুলোতে পুলিশের নজরদারি ও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো।

মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়কগুলোতে পুলিশি টহল জোরদার করা যাতে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে।

উক্ত পর্যালোচনা সভায় জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে অন্যতম- মোঃ মিনহাজ-উল-ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ)। জামাল আল নাসের, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্)। মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল)।মোঃ আনোয়ারুল কবীর, সহকারী পুলিশ সুপার (দামুড়হুদা সার্কেল)।
অনির্বাণ দাস, সহকারী পুলিশ সুপার (শিক্ষানবিস)।

এছাড়া জেলার সকল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি), ডিবি প্রধান এবং বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তাগণ এই সভায় অংশ নেন।

পুলিশ সুপারের সমাপনী বক্তব্য
সভাপতি মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, “পুলিশের মূল লক্ষ্য জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। বিশেষ করে রমজান মাসে সাধারণ মানুষ যেন শান্তিতে ইবাদত ও কেনাকাটা করতে পারে, সেজন্য পুলিশ বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।”

তিনি ভালো কাজের জন্য কর্মকর্তাদের উৎসাহিত করেন এবং কর্তব্যে অবহেলার ক্ষেত্রে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

Tag :
এখন আলোচনায়

ভেড়ামারায় রমজান উপলক্ষ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান; জরিমানা আদায়

চুয়াডাঙ্গায় পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত: রমজানে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ

আপডেট সময় : ০৭:৫২:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার, চুয়াডাঙ্গা।

চুয়াডাঙ্গা জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধ দমনে নব উদ্যমে কাজ করার লক্ষ্যে জেলা পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ০২:৩০ ঘটিকায় চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপারের কার্যালয় সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গার সুযোগ্য পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে বিগত জানুয়ারি ২০২৬ মাসের অপরাধ চিত্র বিশ্লেষণ এবং আগামী মাসগুলোর জন্য বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।

সভায় জানুয়ারি মাসে জেলায় সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের ধরণ ও পরিসংখ্যান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে-

ঝুলে থাকা গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোর দ্রুত তদন্ত শেষ করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তাগিদ দেওয়া হয়।

সীমান্তঘেঁষা জেলা হওয়ায় মাদক চোরাচালান রোধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা হয়। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযানের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

ওয়ারেন্ট তামিল বা সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের গ্রেফতারে থানাভিত্তিক পারফরম্যান্স পর্যালোচনা করা হয়।

চুরি, ডাকাতি, দস্যুতা ও ছিনতাই রোধে নৈশকালীন টহল বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সামনে পবিত্র মাহে রমজানকে কেন্দ্র করে পুলিশ সুপার মহোদয় মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য-

রমজানে ইফতারের আগে এবং ঈদের কেনাকাটার সময় শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে যানজট নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক ব্যবস্থা আরও জোরদার করা।

ব্যাংক, বীমা ও বিভিন্ন বড় শপিং মলগুলোতে পুলিশের নজরদারি ও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো।

মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়কগুলোতে পুলিশি টহল জোরদার করা যাতে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে।

উক্ত পর্যালোচনা সভায় জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে অন্যতম- মোঃ মিনহাজ-উল-ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ)। জামাল আল নাসের, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্)। মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল)।মোঃ আনোয়ারুল কবীর, সহকারী পুলিশ সুপার (দামুড়হুদা সার্কেল)।
অনির্বাণ দাস, সহকারী পুলিশ সুপার (শিক্ষানবিস)।

এছাড়া জেলার সকল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি), ডিবি প্রধান এবং বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তাগণ এই সভায় অংশ নেন।

পুলিশ সুপারের সমাপনী বক্তব্য
সভাপতি মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, “পুলিশের মূল লক্ষ্য জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। বিশেষ করে রমজান মাসে সাধারণ মানুষ যেন শান্তিতে ইবাদত ও কেনাকাটা করতে পারে, সেজন্য পুলিশ বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।”

তিনি ভালো কাজের জন্য কর্মকর্তাদের উৎসাহিত করেন এবং কর্তব্যে অবহেলার ক্ষেত্রে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।