০৪:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন লালমনিরহাটের অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু

লালমনিরহাট প্রতিনিধি:

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে জায়গা পেয়েছেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সভাপতি এবং ১৮, লালমনিরহাট-০৩ (লালমনিরহাট সদর) আসনের নব-নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকালে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন তিনি।

জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় এ শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

আসাদুল হাবিব দুলুর সংসদীয় রাজনীতি ও দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতা নতুন নয়। এর আগেও তিনি ২০০১ সালে চারদলীয় জোট সরকারের আমলে ১৮, লালমনিরহাট-০৩ আসন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সে সময় দেশের উত্তরবঙ্গের মঙ্গা নিরসন এবং ত্রাণ ব্যবস্থাপনায় তার ভূমিকা ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছিল। তবে এবার তিনি রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে ফিরেছেন আরও বড় পরিসরে, পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে।

আসাদুল হাবিব দুলু ৪ জুলাই ১৯৬০ সালে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি একজন রাজনীতিবিদ, সংগঠক ও নদীকেন্দ্রিক আন্দোলনের কণ্ঠস্বর। বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ আবুল কাশেম মিঞা ও প্রয়াত রত্নগর্ভা জননী হাবিবা খাতুনের সন্তান দুলু। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত এবং তাঁর সহধর্মিণী লায়লা হাবিব। তিন দুই পুত্র আহনাফ হাবিব ইনতিসার ও আহমিক হাবিব ইয়ারদানের জনক। তিনি আমবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে তাঁর শিক্ষাজীবনের সূচনা করেন। এরপর পাঙ্গারানী লক্ষ্মীপ্রিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে কিছুকাল অধ্যয়ন করে, তিনি রংপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। কারমাইকেল কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক ও অর্থনীতিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৭৬ সালে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীতে যুক্ত হয়ে তাঁর রাজনীতিতে পদার্পণ। পরবর্তীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ১৯৮৬ সালে প্রয়াত দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে যোগ দেন। একই বছরে লালমনিরহাট সদর উপজেলার বড়বাড়ী ইউনিয়নে শহীদ আবুল কাশেম মহাবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে শিক্ষাক্ষেত্রে ভূমিকা রাখেন এবং অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯০ সালে লালমনিরহাট সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং ১৯৯১ সালে লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হয়ে অদ্যাবধি সেই দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করে আসছেন। তিনি ১৯৯৬ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৮ লালমনিরহাট ৩ (সদর) থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে সেতু বিভাগ, যোগাযোগ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং একই সঙ্গে তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন “জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাই” এর প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি মনোনীত ১৮ লালমনিরহাট ৩ (সদর) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

Tag :
এখন আলোচনায়

‎লালমনিরহাটে পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন লালমনিরহাটের অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু

আপডেট সময় : ০৮:৫৫:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

লালমনিরহাট প্রতিনিধি:

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে জায়গা পেয়েছেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সভাপতি এবং ১৮, লালমনিরহাট-০৩ (লালমনিরহাট সদর) আসনের নব-নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকালে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন তিনি।

জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় এ শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

আসাদুল হাবিব দুলুর সংসদীয় রাজনীতি ও দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতা নতুন নয়। এর আগেও তিনি ২০০১ সালে চারদলীয় জোট সরকারের আমলে ১৮, লালমনিরহাট-০৩ আসন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সে সময় দেশের উত্তরবঙ্গের মঙ্গা নিরসন এবং ত্রাণ ব্যবস্থাপনায় তার ভূমিকা ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছিল। তবে এবার তিনি রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে ফিরেছেন আরও বড় পরিসরে, পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে।

আসাদুল হাবিব দুলু ৪ জুলাই ১৯৬০ সালে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি একজন রাজনীতিবিদ, সংগঠক ও নদীকেন্দ্রিক আন্দোলনের কণ্ঠস্বর। বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ আবুল কাশেম মিঞা ও প্রয়াত রত্নগর্ভা জননী হাবিবা খাতুনের সন্তান দুলু। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত এবং তাঁর সহধর্মিণী লায়লা হাবিব। তিন দুই পুত্র আহনাফ হাবিব ইনতিসার ও আহমিক হাবিব ইয়ারদানের জনক। তিনি আমবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে তাঁর শিক্ষাজীবনের সূচনা করেন। এরপর পাঙ্গারানী লক্ষ্মীপ্রিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে কিছুকাল অধ্যয়ন করে, তিনি রংপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। কারমাইকেল কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক ও অর্থনীতিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৭৬ সালে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীতে যুক্ত হয়ে তাঁর রাজনীতিতে পদার্পণ। পরবর্তীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ১৯৮৬ সালে প্রয়াত দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে যোগ দেন। একই বছরে লালমনিরহাট সদর উপজেলার বড়বাড়ী ইউনিয়নে শহীদ আবুল কাশেম মহাবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে শিক্ষাক্ষেত্রে ভূমিকা রাখেন এবং অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯০ সালে লালমনিরহাট সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং ১৯৯১ সালে লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হয়ে অদ্যাবধি সেই দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করে আসছেন। তিনি ১৯৯৬ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৮ লালমনিরহাট ৩ (সদর) থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে সেতু বিভাগ, যোগাযোগ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং একই সঙ্গে তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন “জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাই” এর প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি মনোনীত ১৮ লালমনিরহাট ৩ (সদর) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।