
কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি:
নিয়তির কী নির্মম পরিহাস। যে হাতের তৈরি ফাস্টফুডের স্বাদে এক সময় মুগ্ধ ছিল গোটা শহর, সেই হাতের মালিক আজ নিঃস্ব। দুই দফা ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তিল তিল করে গড়া প্রায় ২৫ লাখ টাকার স্বপ্ন পুড়ে ছাই হয়ে গেছে সাজ্জাদ হোসেন খাঁন-এর। এক সময়ের সফল এই ফাস্টফুড ব্যবসায়ী এখন পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।
কোটচাঁদপুর পৌর শহরের বেনেপাড়ার মৃত আবু নাইমুদ্দিন খাঁনের একমাত্র ছেলে সাজ্জাদ হোসেন খাঁন। স্থানীয়দের কাছে তিনি ‘সাজ্জাদ মামু’ নামেই বেশি পরিচিত। শহরের মেইন বাজারের কালু মিয়ার মার্কেটে তাঁর ফাস্টফুডের দোকানই ছিল পাঁচ সদস্যের পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস।
সবকিছু বদলে যায় ২০২১ সালের এপ্রিল মাসে। হঠাৎ শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগে পুড়ে যায় দোকানটি। সেই অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতি হয় প্রায় ১৪ লাখ টাকা। সে সময় হাল না ছেড়ে ধারদেনা ও কিস্তির ওপর ভর করে আবারও দোকান দাঁড় করিয়েছিলেন সাজ্জাদ। আশা ছিল, হয়তো সুদিন ফিরবে।
কিন্তু দুর্ভাগ্য যেন পিছু ছাড়েনি। ২০২৬ সালের ১৭ জানুয়ারি আবারও দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে তাঁর দোকান। দ্বিতীয় দফায় ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১১ লাখ টাকা। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়। এক বস্তা ব্যবসায়ীর সঙ্গে পূর্ব বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে আগুন দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন হলেও আজ পর্যন্ত কোনো বিচার মেলেনি।
দুই মেয়ে ও এক ছেলের জনক সাজ্জাদ এখন দিশেহারা। সন্তানরা স্কুল ও কলেজে পড়লেও তাদের পড়াশোনার খরচ মেটানো তো দূরের কথা, দু’বেলা খাবারের ব্যবস্থাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এক সময়ের স্বচ্ছল পরিবার আজ নেমে এসেছে চরম দুর্দশায়।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে সাজ্জাদ বলেন,
“আমি এখন পুরোপুরি নিঃস্ব। প্রশাসন কিংবা সমাজের বিত্তবানরা যদি আমাকে একটি ইজি বাইক বা আবার দোকান করার মতো সামান্য সহযোগিতা করেন, তাহলে আমার পরিবারটা বেঁচে যাবে। না হলে আমার সন্তানদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”
সফলতা থেকে নিঃস্ব হয়ে যাওয়া এই উদ্যমী তরুণকে আবার ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দিতে পারে আপনার সামান্য সহানুভূতি।
একটু সহযোগিতাই বদলে দিতে পারে একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ।
সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা:
বিকাশ / মোবাইল নম্বর:
📳 +৮৮০১৭২৮-০১৭৩৩৯
আসুন, মানবিকতার হাত বাড়িয়ে অসহায় সাজ্জাদের পাশে দাঁড়াই।
নিজস্ব প্রতিবেদক 




















