
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি;
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে নির্বাচন-পরবর্তী দফায় দফায় হামলা ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় স্বতন্ত্র কাপ পিরিচ প্রতিকের প্রায় ২৮ জন সমর্থক ও ধানের শীষ প্রতিকের ২ জন সমর্থক আহতসহ স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী অফিস ভাংচুর করা হয়েছে বলে জানা গেছে। আহতদের কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ ও যশোর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার (১৩ ফেব্রæয়ারি) সকাল থেকে বেলা সাড়ে ১২ টা পর্ষন্ত ঝিনাইদহ-৪ নির্বাচনী বিভিন্ন এলাকায় ওইসব হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন ইউনিয়নে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও ভূক্তভোগীদের সূত্রে জানা যায়, এবারের নির্বাচনে ঝিনাইদহ-৪ আসন থেকে জামায়াত প্রার্থী আবু তালিব বিজয়ী হয়। এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী কাপ পিরিচ প্রতিকের সাইফুল ইসলাম ফিরোজ ও ধানের শীষের রাশেদ খান পরাজিত হয়। পরাজিত এ ফলাফল প্রকাশ হবার পর গভীর রাত থেকেই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়াতে থাকে। এরপর শুক্রবার সকাল থেকেই অত্র আসনের নির্বাচনী এলাকা কোলা, জামাল, নিয়ামতপুর, নলডাঙ্গা ইউনিয়ন ও কালীগঞ্জ শহরে দফায় দফায় হামলা শুরু হয়। বেলা ১১ টার দিকে ধানের শীষের সমর্থকরা কালীগঞ্জ শহরের থানা রোডে স্বতন্ত্র প্রার্থী ফিরোজের অফিসে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও ৩ জনকে কুপিয়ে জখম করে। বেলা সাড়ে ১২ টা পর্ষন্ত একইভাবে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে দফায় দফায় হামলায় প্রায় ২৮ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর সর্মথক ও ২ জন ধানের শীষের সমর্থক জখম হয়। আহতদের মধ্যে সাবেক বহিস্কৃত পৌর বিএনপির নেতা জবেদ আলী, ছাত্রদল নেতা ইভন, খোকন ও মোশারেফ শেখ সহ একাধিক ব্যাক্তিকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধিন আহত মোশারেফ শেখ বলেন, আমি স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক। ধানের শীষের কর্মীরা অন্যায় ভাবে আমাকে আহত করেছে।
এসব হামলার ঘটনা নিয়ে বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী ফিরোজ তার প্রধান নির্বাচনী অফিসের সামনে সাংবাদিকেদের বলেন, অন্যায় ভাবে আমার নির্বাচনী অফিসে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও কর্মী সমর্থকদের কুপিয়ে জখম করেছে ধানের শীষের সমর্থকরা। তিনি প্রশাসনের নির্লিপ্ততার অভিযোগ তুলে বলেন, আইনশৃংখলা বাহিনী থানা পুলিশ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। যে কারনে এ আসনের বিভিন্ন এলাকার আমার কর্মী সমর্থকদের উপর একের পর এক হামলা চালাচ্ছে তারা।
এসব অভিযোগের বিষয়ে ধানের শীষের প্রার্থী রাশেদ খান বলেন, কে বা কারা স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী অফিস ভাংচুর করেছে আমার জানা নেই। আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জেল্লাল হোসেন জানান, বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষের খবর পেয়েই পুলিশ পাঠানো হচ্ছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে, এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা রয়েছে বলে জানান তিনি।
সুজন হোসেন 























