০৫:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চিহ্নিত মহল গুজব ছড়িয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে: প্রধান উপদেষ্টা

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:১৯:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ Time View

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটকে সামনে রেখে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় দেওয়া এই ভাষণে তিনি দেশের রাজনৈতিক দল, প্রার্থী এবং ভোটারদের প্রতি গণতন্ত্রের প্রকৃত আদর্শ সমুন্নত রাখার আহ্বান জানান।
ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা সব প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, “নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতির বৃহত্তর স্বার্থকে প্রাধান্য দিন। বিজয় যেমন গণতন্ত্রের অংশ, পরাজয়ও এর অবিচ্ছেদ্য সত্য। নির্বাচনের পর সবাই মিলে একটি নতুন, ন্যায়ভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করুন।”

এবারের নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দল এবং স্বতন্ত্রসহ দুই হাজারেরও বেশি প্রার্থীর অংশগ্রহণের তথ্য উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন, “এটি এযাবৎকালের যেকোনও নির্বাচনের মধ্যে সর্বাধিক সংখ্যক দলের অংশগ্রহণ। স্বতন্ত্রসহ মোট প্রার্থীর সংখ্যা দুই হাজারেরও বেশি। আগের জাতীয় নির্বাচনগুলোতে এর চেয়ে বেশি প্রার্থী প্রায় কখনোই দেখা যায়নি।”

তিনি বলেন, “এবারের নির্বাচন শুধু আরেকটি নিয়মিত নির্বাচন নয়। এটি একটি গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচন। দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকা ক্ষোভ, বৈষম্য, বঞ্চনা ও অবিচারের বিরুদ্ধে জনগণের যে জাগরণ আমরা দেখেছি, এই নির্বাচন তার সাংবিধানিক প্রকাশ। রাজপথের সেই দাবি আজ আপনাদের ব্যালটের মাধ্যমে উচ্চারিত হতে যাচ্ছে। তাই এই নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক।”

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “এই নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা শুধু জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করছি না— একই সঙ্গে আমরা সিদ্ধান্ত নিচ্ছি, বাংলাদেশ কোন পথে এগোবে। আমরা কি একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গড়তে পারবো, নাকি আবারও পুরোনো ক্ষমতাকেন্দ্রিক ও অনিয়ন্ত্রিত বৃত্তে ফিরে যাবো—এই প্রশ্নের উত্তর দেবে গণভোট।”

Tag :
এখন আলোচনায়

শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দিতে প্রস্তুত প্রশাসন: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

চিহ্নিত মহল গুজব ছড়িয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে: প্রধান উপদেষ্টা

আপডেট সময় : ১০:১৯:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটকে সামনে রেখে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় দেওয়া এই ভাষণে তিনি দেশের রাজনৈতিক দল, প্রার্থী এবং ভোটারদের প্রতি গণতন্ত্রের প্রকৃত আদর্শ সমুন্নত রাখার আহ্বান জানান।
ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা সব প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, “নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতির বৃহত্তর স্বার্থকে প্রাধান্য দিন। বিজয় যেমন গণতন্ত্রের অংশ, পরাজয়ও এর অবিচ্ছেদ্য সত্য। নির্বাচনের পর সবাই মিলে একটি নতুন, ন্যায়ভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করুন।”

এবারের নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দল এবং স্বতন্ত্রসহ দুই হাজারেরও বেশি প্রার্থীর অংশগ্রহণের তথ্য উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন, “এটি এযাবৎকালের যেকোনও নির্বাচনের মধ্যে সর্বাধিক সংখ্যক দলের অংশগ্রহণ। স্বতন্ত্রসহ মোট প্রার্থীর সংখ্যা দুই হাজারেরও বেশি। আগের জাতীয় নির্বাচনগুলোতে এর চেয়ে বেশি প্রার্থী প্রায় কখনোই দেখা যায়নি।”

তিনি বলেন, “এবারের নির্বাচন শুধু আরেকটি নিয়মিত নির্বাচন নয়। এটি একটি গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচন। দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকা ক্ষোভ, বৈষম্য, বঞ্চনা ও অবিচারের বিরুদ্ধে জনগণের যে জাগরণ আমরা দেখেছি, এই নির্বাচন তার সাংবিধানিক প্রকাশ। রাজপথের সেই দাবি আজ আপনাদের ব্যালটের মাধ্যমে উচ্চারিত হতে যাচ্ছে। তাই এই নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক।”

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “এই নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা শুধু জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করছি না— একই সঙ্গে আমরা সিদ্ধান্ত নিচ্ছি, বাংলাদেশ কোন পথে এগোবে। আমরা কি একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গড়তে পারবো, নাকি আবারও পুরোনো ক্ষমতাকেন্দ্রিক ও অনিয়ন্ত্রিত বৃত্তে ফিরে যাবো—এই প্রশ্নের উত্তর দেবে গণভোট।”