০১:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে তারুণ্যের ভাবনা ও প্রত্যাশা

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশের প্রতিটি জনগণের মধ্যে নতুন উদ্দিপনা জাগ্রত হচ্ছে। জনগণ ভাবছে নতুন বাংলাদেশকে নিয়ে। নতুন বাংলাদেশ হবে সংস্কারের বাংলাদেশ, যেখানে কথা বলা যাবে নির্বিঘ্নে, থাকবে না প্রতিহিংসার অপরাজনীতি। যেখানে মানুষ হবে সংবেদনশীল, মানবতাবাদী। জনগণের মৌলিক অধিকারকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। তারুণ্যের ভাবনায় উঠে এসেছে বাংলার সাধারণ মানুষের কথা।
দেশে বইছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আমেজ। প্রায় দেড় দশক পর আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী সংগ্রহ মূলক জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাওয়ায় দেশবাসী উচ্ছ্বসিত। রাজনৈতিক দলগুলো শেষ দিনগুলোতে প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছে। এবারের নির্বাচনে তরুণ ভোটারদের ভুমিকা জয় পরাজয়ের বড় মাধ্যম হিসাবে কাজ করবে। কেননা দেশে এবার তরুণ ভোটার সাড়ে ৪ কোটি, যা দেশের মোট ভোটারের এক তৃতীয়াংশ। তরুণ ভোটারদের নিজ দলে টানতে দলগুলোর অনলাইন ও অফলাইনে বিভিন্ন প্রচারণা চালাচ্ছে।

দেশের তরুণ সমাজ জুলাই বিপ্লব ২০২৪ এর মাধ্যমে স্বৈরাচারী সরকারের উৎখাত করেছিল। দেশকে বৈষম্যহীন, মানবিক মর্যাদাবোধ এবং শোষনবিহীন দেশ বিনির্মানের প্রত্যয়ে। তাই এবার তরুণ ভোটারগণ যথেষ্ট বাচবিচার করে তাদের জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করবেন। তরুণরা এবার পরিবর্তন চায়। রাজনৈতিক দলগুলোর গতানুগতিক নির্বাচন পূর্বক মুখরোচক ইশতেহার এবং পেশিশক্তি দিয়ে খুব একটা কায়দা করতে পারবে না। তরুণ সমাজসহ দেশের মানুষ, যে দল দেশকে বাস্তবসম্মত উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রনয়ণ, যুগোপযোগী ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ার প্রতিশ্রুতি দিবে তাকেই নির্বাচিত করবে।

নির্বাচন কমিশনকে ভোটারদের ভয়বিহীন ভোটের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। কোন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটলে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন দেশের ইতিহাসে অন্যতম উৎসব মুখর নির্বাচন হতে যাচ্ছে।

শামীম আহমেদ
শিক্ষার্থী, ঢাকা কলেজ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে তরুণরা। যারা প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে তাদের গণতান্ত্রিক ও মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। একটি প্রজন্মকে ভোট প্রদানের থেকে যেভাবে দমিয়ে রাখা হয়েছিল তা এই নির্বাচনের মাধ্যমে অবসান হবে । তাই তরুণদের এই নির্বাচনে প্রত্যাশা অনেক বেশি। তরুণরা আগামী নির্বাচনে এমন এক প্রতিনিধি চায় যারা দেশের স্বার্থে সর্বদা কাজ করবে,যারা মানুষের গণতান্ত্রিক ও মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে দিবে। যারা চিকিৎসা , শিক্ষা, গবেষণা ক্ষেত্রকে আরো শক্তিশালী করবে।

যেখানে থাকবে না কোন বৈষম্য, চাকরি ক্ষেত্রে কোন ধরনের কোটা, লাগবে না কোন ধরনের সুপারিশ। যেখানে থাকবে না কোনধরনের রাজনীতিক প্রতিহিংসা। দেশের সার্বভৌমত্বকে রক্ষায় যারা কাজ করবে। ইনসাফের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় যারা কাজ করবে। প্রায় ৪ কোটি তরুণ ভোটার এই নির্বাচনে “হ্যা” ভোটের পক্ষে নিজের মূল্যবান ভোট প্রদান করতে চায়। যাতে দেশের কোন স্বৈরশাসক তৈরি না হয়। ভোট যেহেতু একটি আমানত তাই প্রত্যেকের নাগরিক নৈতিক দায়িত্ব হওয়া উচিত জাতির সার্বিক কল্যাণে যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশ ও জাতির সার্বিক মঙ্গলে নিজেকে নিয়োজিত রাখা।

মোঃ ইমন আলী
শিক্ষার্থী, মনোবিজ্ঞান বিভাগ,ঢাকা কলেজ
মোবাইলঃ ০১৭২২১৭১৩২৫

তারুণ্যের ভাবনায় আগামীর নির্বাচন

ভোটাধিকার একটি মানুষের মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার। এই অধিকার প্রয়োগের মাধ্যমেই জনগণ তাদের পছন্দের জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করে এবং একটি দেশের শাসনব্যবস্থার ভিত্তি নির্ধারণ করে। ফলে শাসক নির্বাচনের ক্ষেত্রে সততা, ন্যায়নিষ্ঠতা ও দায়িত্ববোধ—এই তিনটি বিষয় সর্বাগ্রে গুরুত্ব পাওয়া উচিত।

বাংলাদেশের একটি প্রজন্ম দীর্ঘ সময় ধরে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত ছিল। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে চলা এই বঞ্চনার বিরুদ্ধে জনগণ ধারাবাহিক সংগ্রাম চালিয়ে গেছে। সেই দীর্ঘ সংগ্রামের ফসল হিসেবেই আজ আমরা একটি জাতীয় নির্বাচনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছি। আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচন নিঃসন্দেহে জাতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও আনন্দঘন মুহূর্ত।

এই নির্বাচন যেন সত্যিকার অর্থে গণতন্ত্রের উৎসবে পরিণত হয়—সেদিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। ভোটারদের জন্য নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও ভয়হীন পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের দায়িত্ব। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অস্থিতিশীলতা, সহিংসতা কিংবা আতঙ্কের কোনো স্থান থাকা উচিত নয়। বরং সকল রাজনৈতিক দল ও মতের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনই হতে পারে জনগণের প্রত্যাশা পূরণের সঠিক পথ।

একই সঙ্গে ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। কোনো নাগরিক যেন ভোট প্রদান করতে গিয়ে হয়রানি, হুমকি বা বাধার সম্মুখীন না হন—সে বিষয়েও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণ, ভোটের মাঠে আক্রমণাত্মক মানসিকতা পরিহার এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনই একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পরিচয় বহন করে।

তরুণ সমাজ হিসেবে আমাদের দায়িত্ব আরও বেশি। ভোটাধিকারের মাধ্যমে আমাদের এমন প্রতিনিধি নির্বাচন করতে হবে, যারা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশকে ধারণ ও লালন করবে, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে আন্তরিকভাবে কাজ করবে এবং প্রয়োজনে দেশের স্বার্থে ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকবে। যোগ্য, সৎ ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বই পারে একটি সমৃদ্ধ ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তুলতে।

সবশেষে বলা যায়, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় একটি গ্রহণযোগ্য, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অপরিহার্য। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একজন যোগ্য শাসক নির্বাচন করাই হোক আমাদের সম্মিলিত অঙ্গীকার—যার মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হতে পারে।

মো. মাহমুদুল হাসান
ইতিহাস বিভাগ, ঢাকা কলেজ
সেশন:২০২১-২২

নির্বাচন নিয়ে তরুণের স্বপ্ন: সহিংসতার নয়, উৎসবের বাংলাদেশ:

পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই নির্বাচন মানে উৎসব, নতুন আশা, নতুন স্বপ্ন। বাংলাদেশেও নির্বাচনকে উৎসব হিসেবে আয়োজনের প্রচেষ্টা থাকে, কিন্তু দুঃখজনকভাবে অতীতে এই নির্বাচনই সহিংসতা, রক্তপাত ও প্রতিহিংসার রাজনীতির জন্ম দিয়েছে। ২৪-এর রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থান–পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে মানুষ তাই এবার একটি সুন্দর, সুস্থ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের অপেক্ষায়। বর্তমান সরকারও এই নির্বাচনকে সত্যিকারের উৎসবে রূপ দিতে সচেষ্ট যা নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক।

স্বাধীনতার পর এই প্রথম সাধারণ মানুষের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে এত প্রবল আগ্রহ ও উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে। একজন তরুণ হিসেবে আমি চাই, এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের অতীতের ব্যর্থতার গ্লানি মুছে যাক এবং নতুন স্বপ্নের ভিত্তি গড়ে উঠুক। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে তরুণদের সর্বোচ্চ অংশগ্রহণ এবং জাতীয় সংসদে তাদের শক্তিশালী প্রতিনিধিত্ব দেখতে চাই। কারণ তরুণদের হাতেই আছে আগামীর বাংলাদেশ, উদ্ভাবন, সততা ও দায়িত্বশীল রাজনীতির বাংলাদেশ।

মোঃ আবুজর গিফারী,
রাষ্ট্রবিজ্ঞান (২৩-২৪),
শিক্ষার্থী ঢাকা কলেজ।

আমি একজন তরুণ ভোটার হিসেবে বিশ্বাস করি, আগামী নির্বাচন তরুণদের হাতে দেশের ভবিষ্যত গড়ার সোনার সুযোগ। জুলাইয়ের অভ্যুত্থানে আমরা দেখছি যে তরুণদের ঐক্য কীভাবে ইতিহাস গড়তে পারে। আসন্ন নির্বাচনে আমার প্রত্যাশা একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ, যেখানে:স্বচ্ছ নির্বাচন হবে। যুবকদের জন্য চাকরি, স্টার্টআপ এবং দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ প্রাধান্য পাবে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বিশ্বমানের বিনিয়োগ হবে, যাতে আমরা প্রতিযোগিতামূলক হতে পারি। দেশের সশস্ত্র বাহিনী আরো শক্তিশালী হয়ে উঠবে।এছাড়া ধর্ম ও সংখ্যালঘু বৈষম্য দূরীকরণ সহ নারীদের নিরাপদ কর্মক্ষেত্র, প্রতিবন্ধীদের জন্য অবকাঠামো এবং আদিবাসীদের অধিকার প্রাধান্য পাবে।

মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক অবকাঠামো পরিবর্তন সহ জুলাই সনদ অনুসারে দেশের সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে দেশকে একটি নতুন রূপে দেখতে চাই। যেখানে দক্ষতার ভিত্তিতে চাকুরী পাওয়া যাবে, সকলের মৌলিক অধিকার রক্ষা হবে, ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ হবে এবং সর্বোপরি জনগণ দেশের মালিকানা পাবে। দেশের মানুষের অধিকার রক্ষা করা হোক সকল দলের মূলনীতি। অন্যথায় দেশে আবার নতুন স্বৈরাচারের জন্ম হবে। এছাড়া আমরা (জনগণের) উচিত নিজের অধিকার বুঝে নেওয়া এবং যোগ্য লোককে নির্বাচিত করে ক্ষমতায় আনা।

মো: ফেরদৌস আব্দুল্লাহ্
ব্যবস্থাপনা বিভাগ (২২-২৩)

১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন: স্বচ্ছতার প্রশ্ন ও গণতান্ত্রিক বাস্তবতা

১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন কতটুকু স্বচ্ছ—এই প্রশ্ন আজ কেবল রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় নয়, বরং সাধারণ নাগরিকের বিবেকের প্রশ্ন। একটি নির্বাচন তখনই প্রকৃত অর্থে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য হয়, যখন দেশের সব প্রধান রাজনৈতিক দল অবাধভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে এবং জনগণ ভয়মুক্ত পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পায়। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। এর আগে অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়েও একই প্রশ্ন উঠেছিল।

কারণ সেই নির্বাচনেও বাংলাদেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপি অংশগ্রহণ করেনি। ফলে প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচনের যে ধারা তৈরি হয়েছে, তা গণতন্ত্রের মৌলিক চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। একটি পক্ষ অনুপস্থিত থাকলে নির্বাচন কেবল সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকে—জনমতের প্রকৃত প্রতিফলন সেখানে অনুপস্থিত থাকে। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, প্রতিটি নির্বাচনের সময়ই ভোটকেন্দ্র দখল, ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং নানা ধরনের অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে। এসব ঘটনা এখন যেন ব্যতিক্রম নয়, বরং নিয়মে পরিণত হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, যে আসনে ক্ষমতাসীনদের প্রভাব বেশি, সেখানে বিরোধী প্রার্থীদের স্বাভাবিক প্রচারণার সুযোগ পর্যন্ত দেওয়া হয় না।

এতে নির্বাচন প্রক্রিয়ার সমান সুযোগ ও ন্যায্য প্রতিযোগিতার নীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই বাস্তবতার আলোকে আবারও প্রশ্ন ওঠে—যে নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দল অংশ নিতে পারে না, যেখানে ভোটার ও প্রার্থীদের সমান অধিকার নিশ্চিত হয় না, সেই নির্বাচন কতটুকু স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক বলা যায়?

গণতন্ত্র টিকে থাকে অংশগ্রহণ, প্রতিযোগিতা ও জবাবদিহিতার ওপর। এই তিনটি উপাদান অনুপস্থিত থাকলে নির্বাচন কেবল লোক দেখানো আয়োজনেই সীমাবদ্ধ থাকে। তাই জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সত্যিকার অর্থে গ্রহণযোগ্য করতে হলে সব দলের অংশগ্রহণ, স্বাধীন প্রচারণা এবং নিরপেক্ষ ভোটের পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

রাশেদুল মৃধা
শিক্ষার্থী, ঢাকা কলেজ
বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম

আগামী নির্বাচন যা বাংলাদেশে অনেক বিরল একটি বহুদলীয় ও অংশগ্রহণ মূলক নির্বাচন। এটি বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও আনন্দের বিষয়। নির্বাচনে অংশগ্রহনকারী প্রতিযোগীদের পরস্পর বিনয়ী ও সহযোগী মনোভাব দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনকে সফল ও শান্তিপূর্ন করেব বলে আশাব্যক্ত করছি। আসন্ন নির্বাচনে দুটি বিষয়ে নির্বাচন হবে প্রথমত সরকার নির্বাচন, দ্বিতীয়ত গনভোট। একটি বিপ্লবী সরকার দেশকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। সেই সরকারকে বেছে নেয় সেই দেশের জনগন।

সরকার হচ্ছে জনগনের প্রতিনিধি। অর্থাৎ দেশের জনগন যেরকম হবে তার প্রতিনিধি বা সরকার তেমনই হবে। আমাদের সেই সুশিক্ষিত প্রতিনিধি বেছে নিতে হবে। সুশিক্ষিত হয় সুশিক্ষা ও সুন্দর পরিবেশের মাধ্যমে। কিন্তু আমাদের ইতিহাসে বেশি একটা সুশিক্ষার উদাহরণ পাওয়া যায় না, পাওয়া যায় সব গাদ্দার ও জুলুমকারিদের। এইসব এখনো রয়ে গেছে। এখনো এইসব জুলুমকারিদের কাছে হেরে যায় বাংলা। প্রান যায় বিপ্লবী জনতাদের। অর্থাৎ আমাদের আরো সুশিক্ষিত, সচেতন ও সুনাগরিক হতে হবে।

বাছাই করতে হবে উত্তম ও বিপ্লবী প্রতিনিধিদের যারা দেশকে ভালোবাসবে। দেশের উন্নতিতে নিজের সবটুকু বিলিয়ে দিবে, এরকম মানসিকতার প্রতিনিধি দরকার। কারো ক্ষমতা দাপটে মাথা নত না করা বা অর্থের লোভে সরকার নির্বাচন করা উচিত নয়। আমাদের উচিত ন্যায় কে ন্যায় বলা, অন্যায় কে অন্যায় বলা। জুলুমকারিকে নির্বাচন করলে নিজে ও একদিন জুলুমের শিকার হতে হয়। ভোট জনগনের অধিকার, এবং এটি দেওয়া বাধ্যতামূলক কারণ আপনি যদি ভোট না দেন তাহলে আপনি কোনো প্রতিনিধিকে জবাবদিহি করাতে বাধ্য করতে পারবেন না। অবশ্যই যে প্রতিনিধি ভোট দিবেন তার পূর্বের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানা উচিত বা এটা জানার অধিকার আপনার আছে। দ্বিতীয় বিষয় গনভোট এটি বাংলাদেশের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই গনভোট আগামী বাংলাদেশকে বদলে দিতে পারে।

আমার মতে গনভোটে হ্যাঁ জয় যুক্ত হোক। এই গনভোটে হ্যাঁ এর জয় হয় তবে সংবিধানের অনেক পরিবর্তন আসবে। গনভোটের একটি বিষয় সবচেয়ে বেশি ভালো লাগার সেটা হচ্ছে সংবিধান পরিবর্তনের ক্ষেত্রে জনগণের মতামত বা গনভোটের ব্যবস্থা করতে হবে। এটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট অনেক ভালো পদক্ষেপ। আরেকটি বিষয় এই গনভোটে রাখলে অনেক ভালো হতো সেটা হচ্ছে সরকার, প্রশাসন ও সকল সামরিক আর বেসামরিক এবং আধাসামরিক সংগঠন গুলোয় কোনো প্রকার দুর্নীতির প্রমান পেলে মৃত্যুদন্ড বা আজীবন কারাবাস এর আইন পাশ হবে। তবেই দেশের দুর্নীতি থেকে মুক্তি পাবে। সকলে সতর্ক হবে ও সকলে ন্যায় পাবে। পরিশেষে বলতে চাই নির্বাচন এই দেশের মূল বিষয় নয় মূল বিষয় দেশের জনগনের উন্নতি করা, মৌলিক অধিকার প্রদান করা ও সুশিক্ষা প্রদান করা।”

সিয়াম আহমেদ
শিক্ষার্থী, ঢাকা কলেজ

Tag :
এখন আলোচনায়

রঘুনাথপুরে জামায়াতে ইসলামীর পথসভা: জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে তারুণ্যের ভাবনা ও প্রত্যাশা

আপডেট সময় : ০৯:৪০:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশের প্রতিটি জনগণের মধ্যে নতুন উদ্দিপনা জাগ্রত হচ্ছে। জনগণ ভাবছে নতুন বাংলাদেশকে নিয়ে। নতুন বাংলাদেশ হবে সংস্কারের বাংলাদেশ, যেখানে কথা বলা যাবে নির্বিঘ্নে, থাকবে না প্রতিহিংসার অপরাজনীতি। যেখানে মানুষ হবে সংবেদনশীল, মানবতাবাদী। জনগণের মৌলিক অধিকারকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। তারুণ্যের ভাবনায় উঠে এসেছে বাংলার সাধারণ মানুষের কথা।
দেশে বইছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আমেজ। প্রায় দেড় দশক পর আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী সংগ্রহ মূলক জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাওয়ায় দেশবাসী উচ্ছ্বসিত। রাজনৈতিক দলগুলো শেষ দিনগুলোতে প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছে। এবারের নির্বাচনে তরুণ ভোটারদের ভুমিকা জয় পরাজয়ের বড় মাধ্যম হিসাবে কাজ করবে। কেননা দেশে এবার তরুণ ভোটার সাড়ে ৪ কোটি, যা দেশের মোট ভোটারের এক তৃতীয়াংশ। তরুণ ভোটারদের নিজ দলে টানতে দলগুলোর অনলাইন ও অফলাইনে বিভিন্ন প্রচারণা চালাচ্ছে।

দেশের তরুণ সমাজ জুলাই বিপ্লব ২০২৪ এর মাধ্যমে স্বৈরাচারী সরকারের উৎখাত করেছিল। দেশকে বৈষম্যহীন, মানবিক মর্যাদাবোধ এবং শোষনবিহীন দেশ বিনির্মানের প্রত্যয়ে। তাই এবার তরুণ ভোটারগণ যথেষ্ট বাচবিচার করে তাদের জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করবেন। তরুণরা এবার পরিবর্তন চায়। রাজনৈতিক দলগুলোর গতানুগতিক নির্বাচন পূর্বক মুখরোচক ইশতেহার এবং পেশিশক্তি দিয়ে খুব একটা কায়দা করতে পারবে না। তরুণ সমাজসহ দেশের মানুষ, যে দল দেশকে বাস্তবসম্মত উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রনয়ণ, যুগোপযোগী ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ার প্রতিশ্রুতি দিবে তাকেই নির্বাচিত করবে।

নির্বাচন কমিশনকে ভোটারদের ভয়বিহীন ভোটের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। কোন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটলে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন দেশের ইতিহাসে অন্যতম উৎসব মুখর নির্বাচন হতে যাচ্ছে।

শামীম আহমেদ
শিক্ষার্থী, ঢাকা কলেজ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে তরুণরা। যারা প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে তাদের গণতান্ত্রিক ও মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। একটি প্রজন্মকে ভোট প্রদানের থেকে যেভাবে দমিয়ে রাখা হয়েছিল তা এই নির্বাচনের মাধ্যমে অবসান হবে । তাই তরুণদের এই নির্বাচনে প্রত্যাশা অনেক বেশি। তরুণরা আগামী নির্বাচনে এমন এক প্রতিনিধি চায় যারা দেশের স্বার্থে সর্বদা কাজ করবে,যারা মানুষের গণতান্ত্রিক ও মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে দিবে। যারা চিকিৎসা , শিক্ষা, গবেষণা ক্ষেত্রকে আরো শক্তিশালী করবে।

যেখানে থাকবে না কোন বৈষম্য, চাকরি ক্ষেত্রে কোন ধরনের কোটা, লাগবে না কোন ধরনের সুপারিশ। যেখানে থাকবে না কোনধরনের রাজনীতিক প্রতিহিংসা। দেশের সার্বভৌমত্বকে রক্ষায় যারা কাজ করবে। ইনসাফের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় যারা কাজ করবে। প্রায় ৪ কোটি তরুণ ভোটার এই নির্বাচনে “হ্যা” ভোটের পক্ষে নিজের মূল্যবান ভোট প্রদান করতে চায়। যাতে দেশের কোন স্বৈরশাসক তৈরি না হয়। ভোট যেহেতু একটি আমানত তাই প্রত্যেকের নাগরিক নৈতিক দায়িত্ব হওয়া উচিত জাতির সার্বিক কল্যাণে যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশ ও জাতির সার্বিক মঙ্গলে নিজেকে নিয়োজিত রাখা।

মোঃ ইমন আলী
শিক্ষার্থী, মনোবিজ্ঞান বিভাগ,ঢাকা কলেজ
মোবাইলঃ ০১৭২২১৭১৩২৫

তারুণ্যের ভাবনায় আগামীর নির্বাচন

ভোটাধিকার একটি মানুষের মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার। এই অধিকার প্রয়োগের মাধ্যমেই জনগণ তাদের পছন্দের জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করে এবং একটি দেশের শাসনব্যবস্থার ভিত্তি নির্ধারণ করে। ফলে শাসক নির্বাচনের ক্ষেত্রে সততা, ন্যায়নিষ্ঠতা ও দায়িত্ববোধ—এই তিনটি বিষয় সর্বাগ্রে গুরুত্ব পাওয়া উচিত।

বাংলাদেশের একটি প্রজন্ম দীর্ঘ সময় ধরে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত ছিল। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে চলা এই বঞ্চনার বিরুদ্ধে জনগণ ধারাবাহিক সংগ্রাম চালিয়ে গেছে। সেই দীর্ঘ সংগ্রামের ফসল হিসেবেই আজ আমরা একটি জাতীয় নির্বাচনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছি। আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচন নিঃসন্দেহে জাতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও আনন্দঘন মুহূর্ত।

এই নির্বাচন যেন সত্যিকার অর্থে গণতন্ত্রের উৎসবে পরিণত হয়—সেদিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। ভোটারদের জন্য নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও ভয়হীন পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের দায়িত্ব। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অস্থিতিশীলতা, সহিংসতা কিংবা আতঙ্কের কোনো স্থান থাকা উচিত নয়। বরং সকল রাজনৈতিক দল ও মতের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনই হতে পারে জনগণের প্রত্যাশা পূরণের সঠিক পথ।

একই সঙ্গে ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। কোনো নাগরিক যেন ভোট প্রদান করতে গিয়ে হয়রানি, হুমকি বা বাধার সম্মুখীন না হন—সে বিষয়েও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণ, ভোটের মাঠে আক্রমণাত্মক মানসিকতা পরিহার এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনই একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পরিচয় বহন করে।

তরুণ সমাজ হিসেবে আমাদের দায়িত্ব আরও বেশি। ভোটাধিকারের মাধ্যমে আমাদের এমন প্রতিনিধি নির্বাচন করতে হবে, যারা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশকে ধারণ ও লালন করবে, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে আন্তরিকভাবে কাজ করবে এবং প্রয়োজনে দেশের স্বার্থে ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকবে। যোগ্য, সৎ ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বই পারে একটি সমৃদ্ধ ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তুলতে।

সবশেষে বলা যায়, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় একটি গ্রহণযোগ্য, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অপরিহার্য। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একজন যোগ্য শাসক নির্বাচন করাই হোক আমাদের সম্মিলিত অঙ্গীকার—যার মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হতে পারে।

মো. মাহমুদুল হাসান
ইতিহাস বিভাগ, ঢাকা কলেজ
সেশন:২০২১-২২

নির্বাচন নিয়ে তরুণের স্বপ্ন: সহিংসতার নয়, উৎসবের বাংলাদেশ:

পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই নির্বাচন মানে উৎসব, নতুন আশা, নতুন স্বপ্ন। বাংলাদেশেও নির্বাচনকে উৎসব হিসেবে আয়োজনের প্রচেষ্টা থাকে, কিন্তু দুঃখজনকভাবে অতীতে এই নির্বাচনই সহিংসতা, রক্তপাত ও প্রতিহিংসার রাজনীতির জন্ম দিয়েছে। ২৪-এর রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থান–পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে মানুষ তাই এবার একটি সুন্দর, সুস্থ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের অপেক্ষায়। বর্তমান সরকারও এই নির্বাচনকে সত্যিকারের উৎসবে রূপ দিতে সচেষ্ট যা নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক।

স্বাধীনতার পর এই প্রথম সাধারণ মানুষের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে এত প্রবল আগ্রহ ও উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে। একজন তরুণ হিসেবে আমি চাই, এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের অতীতের ব্যর্থতার গ্লানি মুছে যাক এবং নতুন স্বপ্নের ভিত্তি গড়ে উঠুক। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে তরুণদের সর্বোচ্চ অংশগ্রহণ এবং জাতীয় সংসদে তাদের শক্তিশালী প্রতিনিধিত্ব দেখতে চাই। কারণ তরুণদের হাতেই আছে আগামীর বাংলাদেশ, উদ্ভাবন, সততা ও দায়িত্বশীল রাজনীতির বাংলাদেশ।

মোঃ আবুজর গিফারী,
রাষ্ট্রবিজ্ঞান (২৩-২৪),
শিক্ষার্থী ঢাকা কলেজ।

আমি একজন তরুণ ভোটার হিসেবে বিশ্বাস করি, আগামী নির্বাচন তরুণদের হাতে দেশের ভবিষ্যত গড়ার সোনার সুযোগ। জুলাইয়ের অভ্যুত্থানে আমরা দেখছি যে তরুণদের ঐক্য কীভাবে ইতিহাস গড়তে পারে। আসন্ন নির্বাচনে আমার প্রত্যাশা একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ, যেখানে:স্বচ্ছ নির্বাচন হবে। যুবকদের জন্য চাকরি, স্টার্টআপ এবং দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ প্রাধান্য পাবে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বিশ্বমানের বিনিয়োগ হবে, যাতে আমরা প্রতিযোগিতামূলক হতে পারি। দেশের সশস্ত্র বাহিনী আরো শক্তিশালী হয়ে উঠবে।এছাড়া ধর্ম ও সংখ্যালঘু বৈষম্য দূরীকরণ সহ নারীদের নিরাপদ কর্মক্ষেত্র, প্রতিবন্ধীদের জন্য অবকাঠামো এবং আদিবাসীদের অধিকার প্রাধান্য পাবে।

মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক অবকাঠামো পরিবর্তন সহ জুলাই সনদ অনুসারে দেশের সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে দেশকে একটি নতুন রূপে দেখতে চাই। যেখানে দক্ষতার ভিত্তিতে চাকুরী পাওয়া যাবে, সকলের মৌলিক অধিকার রক্ষা হবে, ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ হবে এবং সর্বোপরি জনগণ দেশের মালিকানা পাবে। দেশের মানুষের অধিকার রক্ষা করা হোক সকল দলের মূলনীতি। অন্যথায় দেশে আবার নতুন স্বৈরাচারের জন্ম হবে। এছাড়া আমরা (জনগণের) উচিত নিজের অধিকার বুঝে নেওয়া এবং যোগ্য লোককে নির্বাচিত করে ক্ষমতায় আনা।

মো: ফেরদৌস আব্দুল্লাহ্
ব্যবস্থাপনা বিভাগ (২২-২৩)

১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন: স্বচ্ছতার প্রশ্ন ও গণতান্ত্রিক বাস্তবতা

১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন কতটুকু স্বচ্ছ—এই প্রশ্ন আজ কেবল রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় নয়, বরং সাধারণ নাগরিকের বিবেকের প্রশ্ন। একটি নির্বাচন তখনই প্রকৃত অর্থে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য হয়, যখন দেশের সব প্রধান রাজনৈতিক দল অবাধভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে এবং জনগণ ভয়মুক্ত পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পায়। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। এর আগে অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়েও একই প্রশ্ন উঠেছিল।

কারণ সেই নির্বাচনেও বাংলাদেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপি অংশগ্রহণ করেনি। ফলে প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচনের যে ধারা তৈরি হয়েছে, তা গণতন্ত্রের মৌলিক চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। একটি পক্ষ অনুপস্থিত থাকলে নির্বাচন কেবল সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকে—জনমতের প্রকৃত প্রতিফলন সেখানে অনুপস্থিত থাকে। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, প্রতিটি নির্বাচনের সময়ই ভোটকেন্দ্র দখল, ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং নানা ধরনের অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে। এসব ঘটনা এখন যেন ব্যতিক্রম নয়, বরং নিয়মে পরিণত হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, যে আসনে ক্ষমতাসীনদের প্রভাব বেশি, সেখানে বিরোধী প্রার্থীদের স্বাভাবিক প্রচারণার সুযোগ পর্যন্ত দেওয়া হয় না।

এতে নির্বাচন প্রক্রিয়ার সমান সুযোগ ও ন্যায্য প্রতিযোগিতার নীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই বাস্তবতার আলোকে আবারও প্রশ্ন ওঠে—যে নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দল অংশ নিতে পারে না, যেখানে ভোটার ও প্রার্থীদের সমান অধিকার নিশ্চিত হয় না, সেই নির্বাচন কতটুকু স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক বলা যায়?

গণতন্ত্র টিকে থাকে অংশগ্রহণ, প্রতিযোগিতা ও জবাবদিহিতার ওপর। এই তিনটি উপাদান অনুপস্থিত থাকলে নির্বাচন কেবল লোক দেখানো আয়োজনেই সীমাবদ্ধ থাকে। তাই জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সত্যিকার অর্থে গ্রহণযোগ্য করতে হলে সব দলের অংশগ্রহণ, স্বাধীন প্রচারণা এবং নিরপেক্ষ ভোটের পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

রাশেদুল মৃধা
শিক্ষার্থী, ঢাকা কলেজ
বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম

আগামী নির্বাচন যা বাংলাদেশে অনেক বিরল একটি বহুদলীয় ও অংশগ্রহণ মূলক নির্বাচন। এটি বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও আনন্দের বিষয়। নির্বাচনে অংশগ্রহনকারী প্রতিযোগীদের পরস্পর বিনয়ী ও সহযোগী মনোভাব দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনকে সফল ও শান্তিপূর্ন করেব বলে আশাব্যক্ত করছি। আসন্ন নির্বাচনে দুটি বিষয়ে নির্বাচন হবে প্রথমত সরকার নির্বাচন, দ্বিতীয়ত গনভোট। একটি বিপ্লবী সরকার দেশকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। সেই সরকারকে বেছে নেয় সেই দেশের জনগন।

সরকার হচ্ছে জনগনের প্রতিনিধি। অর্থাৎ দেশের জনগন যেরকম হবে তার প্রতিনিধি বা সরকার তেমনই হবে। আমাদের সেই সুশিক্ষিত প্রতিনিধি বেছে নিতে হবে। সুশিক্ষিত হয় সুশিক্ষা ও সুন্দর পরিবেশের মাধ্যমে। কিন্তু আমাদের ইতিহাসে বেশি একটা সুশিক্ষার উদাহরণ পাওয়া যায় না, পাওয়া যায় সব গাদ্দার ও জুলুমকারিদের। এইসব এখনো রয়ে গেছে। এখনো এইসব জুলুমকারিদের কাছে হেরে যায় বাংলা। প্রান যায় বিপ্লবী জনতাদের। অর্থাৎ আমাদের আরো সুশিক্ষিত, সচেতন ও সুনাগরিক হতে হবে।

বাছাই করতে হবে উত্তম ও বিপ্লবী প্রতিনিধিদের যারা দেশকে ভালোবাসবে। দেশের উন্নতিতে নিজের সবটুকু বিলিয়ে দিবে, এরকম মানসিকতার প্রতিনিধি দরকার। কারো ক্ষমতা দাপটে মাথা নত না করা বা অর্থের লোভে সরকার নির্বাচন করা উচিত নয়। আমাদের উচিত ন্যায় কে ন্যায় বলা, অন্যায় কে অন্যায় বলা। জুলুমকারিকে নির্বাচন করলে নিজে ও একদিন জুলুমের শিকার হতে হয়। ভোট জনগনের অধিকার, এবং এটি দেওয়া বাধ্যতামূলক কারণ আপনি যদি ভোট না দেন তাহলে আপনি কোনো প্রতিনিধিকে জবাবদিহি করাতে বাধ্য করতে পারবেন না। অবশ্যই যে প্রতিনিধি ভোট দিবেন তার পূর্বের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানা উচিত বা এটা জানার অধিকার আপনার আছে। দ্বিতীয় বিষয় গনভোট এটি বাংলাদেশের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই গনভোট আগামী বাংলাদেশকে বদলে দিতে পারে।

আমার মতে গনভোটে হ্যাঁ জয় যুক্ত হোক। এই গনভোটে হ্যাঁ এর জয় হয় তবে সংবিধানের অনেক পরিবর্তন আসবে। গনভোটের একটি বিষয় সবচেয়ে বেশি ভালো লাগার সেটা হচ্ছে সংবিধান পরিবর্তনের ক্ষেত্রে জনগণের মতামত বা গনভোটের ব্যবস্থা করতে হবে। এটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট অনেক ভালো পদক্ষেপ। আরেকটি বিষয় এই গনভোটে রাখলে অনেক ভালো হতো সেটা হচ্ছে সরকার, প্রশাসন ও সকল সামরিক আর বেসামরিক এবং আধাসামরিক সংগঠন গুলোয় কোনো প্রকার দুর্নীতির প্রমান পেলে মৃত্যুদন্ড বা আজীবন কারাবাস এর আইন পাশ হবে। তবেই দেশের দুর্নীতি থেকে মুক্তি পাবে। সকলে সতর্ক হবে ও সকলে ন্যায় পাবে। পরিশেষে বলতে চাই নির্বাচন এই দেশের মূল বিষয় নয় মূল বিষয় দেশের জনগনের উন্নতি করা, মৌলিক অধিকার প্রদান করা ও সুশিক্ষা প্রদান করা।”

সিয়াম আহমেদ
শিক্ষার্থী, ঢাকা কলেজ