০৬:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠনে ব্যাংকিং খাতের স্বচ্ছতা ও জনবান্ধব সেবার বিকল্প নেই: চুয়াডাঙ্গায় ড. আহসান এইচ মনসুর

স্টাফ রিপোর্টার, চুয়াডাঙ্গা।

দেশের ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাংকিং সেবাকে আরও জনবান্ধব করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।

গতকাল ২৩ জানুয়ারি চুয়াডাঙ্গা জেলায় তাঁর সফর উপলক্ষে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

শুক্রবার সন্ধ্যা ০৭:৩০ ঘটিকায় চুয়াডাঙ্গা সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে চুয়াডাঙ্গায় কার্যরত সকল ব্যাংকের পক্ষ থেকে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্থনীতির অন্যতম কান্ডারি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের মাননীয় গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানকে অলঙ্কৃত করেন গভর্নর মহোদয়ের সহধর্মিনী জনাব দিলরুবা রহমান। এছাড়াও আমন্ত্রিত বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সোনালী ব্যাংক পিএলসি, চুয়াডাঙ্গার ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ইনচার্জ) মোঃ হারুনূর রশিদ।

সংবর্ধনার জবাবে ড. আহসান এইচ মনসুর দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ব্যাংকিং খাতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দীর্ঘ বক্তব্য প্রদান করেন।

তাঁর বক্তব্যের মূল পয়েন্টগুলো ছিল নিম্নরূপ:

আর্থিক অন্তর্ভুক্তি: প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনতে ‘আর্থিক অন্তর্ভুক্তি’ (Financial Inclusion) বৃদ্ধির ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন।

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা: ব্যাংকিং খাতে সুশাসন ফিরিয়ে আনা এবং অনিয়ম দূর করে গ্রাহকের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।

স্থানীয় ব্যাংকিং সেবা: স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাংকারদের জনবান্ধব হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ যেন ব্যাংকে এসে কোনো প্রকার হয়রানির শিকার না হয়, সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে।

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা: মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং মুদ্রাবাজারের স্থিতিশীলতা রক্ষায় বাংলাদেশ ব্যাংক নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি উপস্থিত কর্মকর্তাদের আশ্বস্ত করেন।

সভার শুরুতে চুয়াডাঙ্গা জেলায় কার্যরত বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ গভর্নর কে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন তাঁর বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গার কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে সহজ শর্তে ঋণ বিতরণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম জেলার আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

চুয়াডাঙ্গা জেলার বিভিন্ন ব্যাংকের শাখা প্রধান, প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তা এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে পুরো আয়োজনটি এক সৌহার্দ্যপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়।

অনুষ্ঠানের সভাপতি মোঃ হারুনূর রশিদ আমন্ত্রিত অতিথিদের ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

Tag :
এখন আলোচনায়

রাত পোহালেই ভোট: চুুয়াডাঙ্গা ৩৫৪ কেন্দ্রে পৌঁছেছে নির্বাচনী সামগ্রী

দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠনে ব্যাংকিং খাতের স্বচ্ছতা ও জনবান্ধব সেবার বিকল্প নেই: চুয়াডাঙ্গায় ড. আহসান এইচ মনসুর

আপডেট সময় : ০৭:৩৪:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার, চুয়াডাঙ্গা।

দেশের ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাংকিং সেবাকে আরও জনবান্ধব করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।

গতকাল ২৩ জানুয়ারি চুয়াডাঙ্গা জেলায় তাঁর সফর উপলক্ষে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

শুক্রবার সন্ধ্যা ০৭:৩০ ঘটিকায় চুয়াডাঙ্গা সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে চুয়াডাঙ্গায় কার্যরত সকল ব্যাংকের পক্ষ থেকে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্থনীতির অন্যতম কান্ডারি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের মাননীয় গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানকে অলঙ্কৃত করেন গভর্নর মহোদয়ের সহধর্মিনী জনাব দিলরুবা রহমান। এছাড়াও আমন্ত্রিত বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সোনালী ব্যাংক পিএলসি, চুয়াডাঙ্গার ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ইনচার্জ) মোঃ হারুনূর রশিদ।

সংবর্ধনার জবাবে ড. আহসান এইচ মনসুর দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ব্যাংকিং খাতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দীর্ঘ বক্তব্য প্রদান করেন।

তাঁর বক্তব্যের মূল পয়েন্টগুলো ছিল নিম্নরূপ:

আর্থিক অন্তর্ভুক্তি: প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনতে ‘আর্থিক অন্তর্ভুক্তি’ (Financial Inclusion) বৃদ্ধির ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন।

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা: ব্যাংকিং খাতে সুশাসন ফিরিয়ে আনা এবং অনিয়ম দূর করে গ্রাহকের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।

স্থানীয় ব্যাংকিং সেবা: স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাংকারদের জনবান্ধব হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ যেন ব্যাংকে এসে কোনো প্রকার হয়রানির শিকার না হয়, সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে।

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা: মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং মুদ্রাবাজারের স্থিতিশীলতা রক্ষায় বাংলাদেশ ব্যাংক নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি উপস্থিত কর্মকর্তাদের আশ্বস্ত করেন।

সভার শুরুতে চুয়াডাঙ্গা জেলায় কার্যরত বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ গভর্নর কে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন তাঁর বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গার কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে সহজ শর্তে ঋণ বিতরণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম জেলার আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

চুয়াডাঙ্গা জেলার বিভিন্ন ব্যাংকের শাখা প্রধান, প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তা এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে পুরো আয়োজনটি এক সৌহার্দ্যপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়।

অনুষ্ঠানের সভাপতি মোঃ হারুনূর রশিদ আমন্ত্রিত অতিথিদের ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।