শুক্রবার, ২১ জানুয়ারী ২০২২, ০৪:৫০ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
দর্শনায় শিক্ষার্থীদের মাঝে শীতবস্ত্র প্রদান “ভালোবাসার বন্ধন দর্শনার করোনার উচ্চ ঝুঁকিতে থাকায় গতকাল বৃহস্পতিবার কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসনের তৎপরতা ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের রোগ মুক্তি কামনায় চুয়াডাঙ্গায় সুবিধা বঞ্চিতদের মাঝে খাবার বিতরণ দর্শনা থানা সেচ্ছাসেবক দলে আয়োজনে দোয়া ও মিলাদ রাতের আধারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৩ টি পরিবারের ৫০ ঘর পুরে ছাই চুয়াডাঙ্গার দর্শনা রেল বন্দরে গুলিবর্ষণ গাংনীর গাঁড়াডোব ভাগিনার হাঁসুয়ার আঘাতে মামা আহত গাংনীতে ভ্রাম্যমান আদালতে তিন মাদক ব্যবসায়ীর কারাদন্ড রাজশাহীর মোহনপুরে ১৮শ’ত স্কুল শিক্ষার্থীদের কোভিড-১৯ টিকা প্রদান দর্শনা থানা সেচ্ছাসেবক দলে আয়োজনে দোয়া ও মিলাদ

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘নিজস্ব ট্রাফিক ব্যবস্থা’ থাকতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

শিক্ষার্থীদের নিরাপদে সড়ক পারাপার নিশ্চিত করতে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘নিজস্ব ট্রাফিক ব্যবস্থা’ থাকতে হবে বলে জানিয়ে এ বিষয়ে উদ্যোগ নিতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো যাতে নিজেদের কর্মী দিয়ে এই ব্যবস্থা চালু করে, সেজন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে উদ্যোগ নিতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। খবর: বিডি নিউজ।

গতকাল সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিমানবন্দর সড়কে শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের পাশে আন্ডারপাস উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে এ নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘স্কুল যখন ছুটি বা স্কুলে যখন ছাত্রছাত্রীরা যায়, সেখানে প্রত্যেকটা স্কুল নিজ উদ্যোগে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থা নেবে। ট্রাফিক পুলিশ থাকবে তাদের সহযোগিতা করতে। স্কুল কর্তৃপক্ষ এই ব্যাপারে যথাযথভাবে সচেতন হবে এবং তাদেরও নিজস্ব লোক থাকতে হবে সেখানে, যাতে ছেলেমেয়েরা নিরাপদে সড়কটা পার হতে পারে।’

এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘অনেক সময় অন্যের কথা তারা শুনতে চায় না। কিন্তু যদি স্কুলের কর্তৃপক্ষের কেউ থাকেন, তার কথা ছাত্রছাত্রীরা শুনবে। এ ব্যাপারে আমি মনে করি শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রত্যেকটা স্কুলকে নির্দেশ দিতে পারে। একেবারে প্রাথমিক শিক্ষা থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা পর্যন্ত আমি আমাদের শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে বলব যে, আপনারা এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিন। প্রত্যেকটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সেই নির্দেশটা দেবেন।’

রাস্তায় চলাচল করার সময় ছাত্রছাত্রীদের অবশ্যই ট্রাফিক আইন মেনে চলার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের তরফ থেকে প্রত্যেকটা স্কুল-কলেজে ট্রাফিক রুলস সম্পর্কে একেবারে ছোটবেলা থেকে শিক্ষা দেয়া উচিত। প্রত্যেক স্কুলে এই ব্যবস্থাটা নিতে হবে। কলেজ-ইউনিভার্সিটিতেও নিতে হবে। রাস্তার ফুটপাত দিয়ে হাঁটলেও সব সময় যেদিক থেকে যান চলাচল করে, তার উল্টোদিক থেকে হাঁটতে হয়, যাতে সামনে থেকে দেখা যায় গাড়িটা আসছে।’

পথচারীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ট্রাফিক রুলস সম্পর্কে সবার জ্ঞান থাকা দরকার এবং সেটা মেনে চলা দরকার। ট্রাফিক রুলস সবাই মেনে চলবেন।

তিনি বলেন, ‘মোবাইল ফোন কানে নিয়ে কথা বলতে বলতে ওই সড়ক দিয়ে চলা বা রেললাইনের পাশ দিয়ে হাঁটা, রেললাইন পার হওয়া বা সড়ক পার হওয়াÑএটা কখনোই কেউ করবেন না। এটা বন্ধ করতে হবে।’

যেখান-সেখান থেকে হঠাৎ করে দৌড় দিয়ে রাস্তা পার না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘এই রাস্তা পার হতে গেলেই কিন্তু দুর্ঘটনা ঘটে। কাজেই সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। প্রতিটি জায়গায় ফুটওভার ব্রিজ করা আছে বা আন্ডারপাস করে দেয়া হচ্ছে, কাজেই সবাইকে সেটা মেনে চলতে হবে।’

যে কোনো দুর্ঘটনায় গাড়িচালককে ‘পেটানোর’ একটি প্রবণতা রয়েছে বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক সময় গণপিটুনি দিয়ে তাকে মেরেই ফেলা হয়, হত্যাই করা হয়। যখন একটা দুর্ঘটনা ঘটে, আমার এটা অনুরোধ থাকবে সবার কাছে যে, সেই দুর্ঘটনা কেন ঘটল, কী কারণে ঘটল এবং কার দোষে ঘটল, সেটা বিবেচ্য বিষয়, সেটা খুঁজে দেখা দরকার।’

কেউ যাতে আইন হাতে তুলে না নেন, সে বিষয়ে সতর্ক করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘অ্যাক্সিডেন্ট অ্যাক্সিডেন্টইÑদোষ কার সেটা পরে দেখা যাবে। সড়কে অনেক সময় গাড়ির সঙ্গে কারও হালকা ধাক্কা লেগে আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। কিন্তু গণপিটুনির ভয়ে গাড়িচালক সেই সময় গাড়ি চালিয়ে যান এবং এতে ওই আহত ব্যক্তি বেঁচে থাকার কথা থাকলেও গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে প্রাণ হারান। কাজেই যারা কিছু হলেই ড্রাইভারকে ধরে পেটাবেন, গাড়িতে আগুন দেবেন, গাড়ি পোড়াবেনÑএটা কিন্তু ঠিক নয়।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কার দোষ সেটা দেখবে। রাস্তায় মোবাইল ফোন ব্যবহারেও সতর্ক থাকতে হবে।

সরকারপ্রধান বলেন, ‘অধিকাংশ সময় দেখা যায়, কেউ কানে, হাতে মোবাইল ফোন নিয়ে কথা বলতে বলতে চলছে, অথবা রাস্তা ছেড়ে দিয়ে রাস্তার মাঝখান দিয়ে হাঁটা শুরু করছে। যানচলাচল করার সময় হঠাৎ করে তার ব্রেক কষা সম্ভব হয় না।’

ভারী যানবাহনের যান্ত্রিক ত্রুটি রয়েছে কি না, সেটা নিয়মিত পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, হাইওয়ের পাশে চালক ও যাত্রীদের জন্য বিশ্রামাগার করে দিচ্ছে সরকার। চালকের স্বল্পতা থাকায় সারাদেশে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানোর পর যখন চালক ক্লান্ত হয়ে বিশ্রাম নেন, সেই সময়টায় ভারী গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা নেই তার এমন সহযোগীকে দিয়ে গাড়ি চালানোর বিষয়টা ঠিক নয়, বরং অন্যায় কাজ। কাজেই এই বিষয়গুলোর দিকে সবাই দৃষ্টি দিলে আর বিশেষ করে যারা পথচারী তারা যদি সতর্ক থাকেন, তাহলে দুর্ঘটনা অনেক কম হবে।’

অনুষ্ঠানে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রকল্পের আওতায় সিলেট শহর বাইপাস-গ্যারিসন লিংক ৪ মহাসড়ক; বালুখালী (কক্সবাজার)-ঘুমধুম (বান্দরবান) সীমান্ত সংযোগ সড়ক ও রাঙামাটির নানিয়ারচর চেঙ্গী সেতু উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম ও সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এসএম শফিউদ্দিন আহমেদ এ সময় গণভবনে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ঢাকার শহীদ রমিজ উদ্দীন পথচারী আন্ডারপাস, সিলেট সেনানিবাস ও নানিয়ারচর চেঙ্গী সেতু এলাকার রাঙামাটি প্রান্তে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ছিলেন। সূত্র: শেয়ারবিজ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020 DailyAmaderChuadanga.com এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি