শুক্রবার, ২১ জানুয়ারী ২০২২, ০৫:০৪ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
দর্শনায় শিক্ষার্থীদের মাঝে শীতবস্ত্র প্রদান “ভালোবাসার বন্ধন দর্শনার করোনার উচ্চ ঝুঁকিতে থাকায় গতকাল বৃহস্পতিবার কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসনের তৎপরতা ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের রোগ মুক্তি কামনায় চুয়াডাঙ্গায় সুবিধা বঞ্চিতদের মাঝে খাবার বিতরণ দর্শনা থানা সেচ্ছাসেবক দলে আয়োজনে দোয়া ও মিলাদ রাতের আধারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৩ টি পরিবারের ৫০ ঘর পুরে ছাই চুয়াডাঙ্গার দর্শনা রেল বন্দরে গুলিবর্ষণ গাংনীর গাঁড়াডোব ভাগিনার হাঁসুয়ার আঘাতে মামা আহত গাংনীতে ভ্রাম্যমান আদালতে তিন মাদক ব্যবসায়ীর কারাদন্ড রাজশাহীর মোহনপুরে ১৮শ’ত স্কুল শিক্ষার্থীদের কোভিড-১৯ টিকা প্রদান দর্শনা থানা সেচ্ছাসেবক দলে আয়োজনে দোয়া ও মিলাদ

উচ্চ ঝুঁকিতে ঢাকা ও রাঙ্গামাটি : মাস্ক না পরলে জেল-জরিমানা, সপ্তাহের ব্যবধানে সংক্রমণ বেড়েছে দ্বিগুণ

করোনা পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেয়া তথ্য প্রতিদিনই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। নিয়ন্ত্রণে থাকা সংক্রমণ পরিস্থিতি ক্রমেই অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ছে। এদিকে ঢাকায় ওমিক্রনের গুচ্ছ সংক্রমণের কথা বলা হলেও দেশের বিভিন্ন এলাকায় করোনার এই নতুন ধরনের যে গুচ্ছ সংক্রমণ হয়েছে তা স্পষ্ট। যেসব এলাকায় সংক্রমণের হার এত দিন কম ছিল সেখানেও সংক্রমণ বাড়ছে। গত এক সপ্তাহের তথ্য বিশ্লেষণ করে এমন চিত্রই পেয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এছাড়া ঢাকা ও পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি সংক্রমণের ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ এলাকা বলে ওই বিশ্লেষণে দেখা গেছে। সীমান্তবর্তী ৬ জেলা রাজশাহী, রংপুর, নাটোর, লালমনিরহাট, দিনাজপুর, যশোর মাঝারি মাত্রার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। আর ৫৪ জেলা কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

সংক্রমণের মাত্রা বিবেচনায় সারাদেশকে লাল, হলুদ ও সবুজ- এই ৩ ভাগে ভাগ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। লাল রংকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ, হলুদকে মধ্যম এবং সবুজ কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। যেসব জেলায় নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ১০ শতাংশ থেকে ১৯ শতাংশের মধ্যে তাদের উচ্চ ঝুঁকি, শনাক্তের হার ৫ থেকে ৯ শতাংশের মধ্যে হলে মধ্যম মাত্রার ঝুঁকি আর সংক্রমণের হার শূন্য থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে যেখানে সেগুলোকে কম ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। কম ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলো হলো- চট্টগ্রাম, বগুড়া, গাজীপুর, কক্সবাজার, কুষ্টিয়া, নীলফামারী, বরগুনা, শেরপুর, মেহেরপুর, ঠাকুরগাঁও, ফেনী, সিরাজগঞ্জ, জামালপুর, পিরোজপুর, বাগেরহাট, নারায়ণগঞ্জ, নওগাঁ, ঝালকাঠি, খুলনা, পটুয়াখালী, কুড়িগ্রাম, জয়পুরহাট, ফরিদপুর, বরিশাল, চুয়াডাঙ্গা, মানিকগঞ্জ, চাঁদপুর, ল²ীপুর, ময়মনসিংহ, রাজবাড়ী, সিলেট, সাতক্ষীরা, গোপালগঞ্জ, মৌলভীবাজার, নোয়াখালী, কিশোরগঞ্জ, গাইবান্ধা, শরীয়তপুর, মুন্সীগঞ্জ, নরসিংদী, খাগড়াছড়ি, ঝিনাইদহ, পাবনা, মাদারীপুর, মাগুরা, সুনামগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুমিল্লা, নেত্রকোনা, ভোলা, টাঙ্গাইল, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নড়াইল। এতে আরো দেখা যায়, অপরবির্তত মধ্যম ঝুঁকিতে আছে নাটোর এবং নিম্ন ঝুঁকি থেকে মধ্যম ঝুঁকিতে আছে রাজশাহী ও রংপুর। আর তুলনামূলক কম ঝুঁকিতে আছে চট্টগ্রাম, বগুড়া, গাজীপুর, কক্সবাজার ও কুষ্টিয়া।

গতকাল বুধবার করোনা পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভার্চুয়াল বুলেটিনে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক (অসংক্রমক রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ) ও মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. মো. রোবেদ আমিন বলেন, গত ৭ দিনে দেশে করোনার সংক্রমণ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ১ জানুয়ারি পর্যন্ত সংক্রমণ আমাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। তারপর থেকে এটা ক্রমাগত বাড়ছে। এটা শুধু একই ধারায় বাড়ছে তা না, ‘প্রোগ্রেসিভলি’ বাড়ছে, যা আমাদের জন্য ‘অ্যালার্মিং’। পুরো ডিসেম্বরে ৪ হাজার ৫৮৮ জন রোগী আমরা শনাক্ত করতে পেরেছি, সেখানে জানুয়ারির মাত্র ১১ দিনে ১২ হাজার ৮৫০ জন রোগী ইতোমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছেন।

তিনি বলেন, গত এক সপ্তাহে বাংলাদেশে ১০ শতাংশের বেশি নমুনা পরীক্ষা বেড়েছে। ৭ দিনে দেড় লাখ পরীক্ষা হয়েছে। শনাক্ত হয়েছে ১০ হাজার ৪৭৪ জন। এর আগের সপ্তাহের তুলনায় ৭ দিনে ৬ হাজার রোগী বেশি শনাক্ত হয়েছেন। আগের সপ্তাহের তুলনায় পরের সপ্তাহে ১৬৯ দশমিক ১২ শতাংশ রোগী বেড়েছে। মোট শনাক্ত হয়েছেন ১৫ লাখ ৯৮ হাজার ৩৮৯ জন। গত ৭ দিনে ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আগের সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে মৃত্যু ২০ শতাংশ কম।

এদিকে গতকাল বিকালে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, গত কয়েক দিন আগেও সংক্রমণের হার ছিল ২ শতাংশের কাছাকাছি। মঙ্গলবার তা প্রায় ৯ শতাংশে পৌঁছেছে। এই হারে বাড়তে থাকলে আমরা ধারণা করছি, আগামী কয়েক দিনে হাসপাতালে রোগী বাড়বে। হাসপাতালেও রোগী সংখ্যা বাড়ছে, রোগীদের হাসপাতালে আসা শুরু হয়ে গেছে। আর এভাবে হাসপাতালে ৩-৪ গুণ রোগী হলে বেকায়দায় পড়তে হবে। আরো ২০ হাজার বেড প্রস্তুতের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

দেশে টিকাদান কর্মসূচি ভালো চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের টিকাদান কর্মসূচি চলছে। তাদের ডেকেও টিকা নিতে আনা যায়নি। কিন্তু যেই বলা হলো, টিকা না নিলে স্কুলে আসা যাবে না, সেই তারা আসা শুরু করল। আরো ১ কোটি ১৮ লাখ শিক্ষার্থীকে এই মাসের মধ্যে টিকা দেয়ার পরিকল্পনা আছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার এবং বিশেষজ্ঞরা বারবারই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর জোর দিয়ে আসছিলেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ১০ জানুয়ারি ১১ দফা নির্দেশনা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। আজ বৃহস্পতিবার থেকে সেই প্রজ্ঞাপন বাস্তবায়ন শুরু হবে। এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনকে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গ স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সংক্রমণের এই ঊর্ধ্বগতিতে ইতোমধ্যেই ১১ দফা নির্দেশনা জারি করে প্রজ্ঞাপন দেয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার থেকে তা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে। এর মধ্যে রয়েছে সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় সভা সমাবেশ বন্ধ থাকবে। সেই সঙ্গে সবাইকে সব জায়গায় মাস্ক পরতে হবে। যদি কেউ না পরেন, তাহলে তাকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা করা হবে এবং জেল পর্যন্ত হতে পারে। মাস্ক পরা জরুরি এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা জরুরি। মাস্ক না পরে যেন কেউ যানবাহনে না ওঠেন, সেদিকেও নজর রাখা হবে।

তবে ১১ দফা বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় রয়েই গেছে। জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, ১১ দফা নির্দেশনা বা প্রজ্ঞাপন দিয়ে দেশের করোনা সংক্রমণকে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য একটা সমন্বিত, সম্মিলিত প্রচেষ্টা দরকার, যা আগের বারও দেখা যায়নি।

১১ দফা নির্দেশনা প্রজ্ঞাপন কার্যকর প্রসঙ্গে অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন বলেন, করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ বা ১১ দফা নির্দেশনা বাস্তবায়ন কোনো একক মন্ত্রণালয় বা বিভাগের কাজ নয়। এর জন্য সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, রাজনীতিক, ধর্মীয় নেতা, সামাজিক সংগঠন, বেসরকারি সংগঠন, স্থানীয় প্রশাসন এবং জনগণের সম্পৃক্ততা প্রয়োজন। তা না হলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। সূত্র: ভোরের কাগজ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020 DailyAmaderChuadanga.com এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি