শুক্রবার, ২১ জানুয়ারী ২০২২, ০৫:৪৩ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
দর্শনায় শিক্ষার্থীদের মাঝে শীতবস্ত্র প্রদান “ভালোবাসার বন্ধন দর্শনার করোনার উচ্চ ঝুঁকিতে থাকায় গতকাল বৃহস্পতিবার কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসনের তৎপরতা ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের রোগ মুক্তি কামনায় চুয়াডাঙ্গায় সুবিধা বঞ্চিতদের মাঝে খাবার বিতরণ দর্শনা থানা সেচ্ছাসেবক দলে আয়োজনে দোয়া ও মিলাদ রাতের আধারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৩ টি পরিবারের ৫০ ঘর পুরে ছাই চুয়াডাঙ্গার দর্শনা রেল বন্দরে গুলিবর্ষণ গাংনীর গাঁড়াডোব ভাগিনার হাঁসুয়ার আঘাতে মামা আহত গাংনীতে ভ্রাম্যমান আদালতে তিন মাদক ব্যবসায়ীর কারাদন্ড রাজশাহীর মোহনপুরে ১৮শ’ত স্কুল শিক্ষার্থীদের কোভিড-১৯ টিকা প্রদান দর্শনা থানা সেচ্ছাসেবক দলে আয়োজনে দোয়া ও মিলাদ

চলে গেলেন শহীদজায়া মুশতারী শফী

অনলাইন ডেস্ক:

একাত্তরের স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রের শব্দসৈনিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, নারীনেত্রী, সাহিত্যিক ও উদীচী চট্টগ্রামের সভাপতি বেগম মুশতারী শফী আর নেই।

সোমবার (২০ ডিসেম্বর) বিকেল ৪টায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উদীচী চট্টগ্রামের সহ-সভাপতি ডা. চন্দন দাশ এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শীলা দাশগুপ্তা।

৮৩ বছর বয়সী মুশতারী শফী দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভুগছিলেন। এছাড়া বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগও ছিল তার। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে ও চার মেয়েসহ অসংখ্য স্বজন রেখে গেছেন।

মুশতারী শফী ১৯৩৮ সালের ১৫ জানুয়ারি তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের অবিভক্ত বাংলার ফরিদপুরে জন্ম গ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালের এপ্রিলে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তার স্বামী মোহাম্মদ শফী এবং ছোট ভাই এহসানকে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী নির্মমভাবে হত্যা করে। তার পরিবার একাত্তরে চট্টগ্রামে স্বাধীনবাংলা বেতারকেন্দ্র প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময় তিনি ওই বেতারকেন্দ্রের শব্দসৈনিক হিসেবে কাজ করেন।

স্বাধীন বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধকালীন স্মৃতিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তিনি একাধিক গ্রন্থ প্রকাশ করেন। এছাড়া ষাটের দশক থেকে তিনি নারী আন্দোলনেও যুক্ত ছিলেন। নব্বইয়ের দশকে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে একাত্তরের ঘাতক যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আন্দোলন জোরদার হলে তিনি নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করেন। একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি গঠনে ভূমিকা পালনের পাশাপাশি তিনি এতে নেতৃত্বও দেন। শহীদ জননী জাহানারা ইমামের প্রয়াণের পর দেশজুড়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আন্দোলনের মূল নেতৃত্বে ছিলেন তিনি।

এছাড়া বেগম মুশতারী শফী দীর্ঘসময় ধরে চট্টগ্রামসহ সারা দেশে প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক ও নাগরিক আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে তিনি উদীচী চট্টগ্রামের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সোচ্চার মুশতারী শফী দেশে প্রগতিশীল চেতনার বাতিঘর হিসেবে পরিচিত হয়েছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অনন্য ভূমিকা পালনের জন্য তাকে বাংলা একাডেমি কর্তৃক ২০১৬ সালে ‘ফেলোশিপ’ প্রদান করা হয়।

মুশতারী শফীর মৃত্যুতে উদীচী চট্টগ্রামের সহ-সভাপতি ডা. চন্দন দাশ এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শীলা দাশগুপ্তা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

শোকবার্তায় তারা বলেন, উদীচীসহ চট্টগ্রামের প্রগতিশীল সংস্কৃতি অঙ্গনের অভিভাবককে হারিয়ে আমরা গভীর শোকাহত। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের প্রগতিশীল সংস্কৃতি অঙ্গণে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে তা কখনোই পূরণ হবার নয়।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020 DailyAmaderChuadanga.com এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি