শুক্রবার, ২১ জানুয়ারী ২০২২, ০৫:৩৪ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
দর্শনায় শিক্ষার্থীদের মাঝে শীতবস্ত্র প্রদান “ভালোবাসার বন্ধন দর্শনার করোনার উচ্চ ঝুঁকিতে থাকায় গতকাল বৃহস্পতিবার কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসনের তৎপরতা ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের রোগ মুক্তি কামনায় চুয়াডাঙ্গায় সুবিধা বঞ্চিতদের মাঝে খাবার বিতরণ দর্শনা থানা সেচ্ছাসেবক দলে আয়োজনে দোয়া ও মিলাদ রাতের আধারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৩ টি পরিবারের ৫০ ঘর পুরে ছাই চুয়াডাঙ্গার দর্শনা রেল বন্দরে গুলিবর্ষণ গাংনীর গাঁড়াডোব ভাগিনার হাঁসুয়ার আঘাতে মামা আহত গাংনীতে ভ্রাম্যমান আদালতে তিন মাদক ব্যবসায়ীর কারাদন্ড রাজশাহীর মোহনপুরে ১৮শ’ত স্কুল শিক্ষার্থীদের কোভিড-১৯ টিকা প্রদান দর্শনা থানা সেচ্ছাসেবক দলে আয়োজনে দোয়া ও মিলাদ

কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করণ

 আত্রাই নওগাঁ থেকে, রুহুল আমিন:

যুগের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ, সেই সাথে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের কৃষিখাত। বর্তমানে কৃষিখাতের অগ্রগতিতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির অবদান অপরিসীম। বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ তার পাশাপাশি এটিএ কটি জন বহুল দেশও বটে। যে কোন কাজে দক্ষভাবে যদি জনশক্তিকে ব্যবহার করা যায় তবে বাংলাদেশের অগ্রগতি আরও দ্রুত হবে। বাংলাদেশের প্রায়ই ৮০ শতাংশ লোক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। তাই এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে যদি কৃষি ও কৃষিতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে যথাযথভাবে অবগত করা যায় তবে কৃষি খাতে আরও দ্রুত উন্নয়ন ঘটবে।

আগে কৃষি কাজ করার জন্য কৃষকদের বিশেষ করে প্রান্তিক কৃষকদের অনেক ভোগান্তি পোহাতে হতো। জমিতে ফসল ফলানোর জন্য তারা যে কৃষি যন্ত্রপাতি যেমন: লাঙল, মই ব্যবহার করতো  সেটি ব্যবহার করে ফসল ফলানোর জন্য যেমন কষ্ট হতো তেমন সময়ও বেশি লাগত। যদিও জলবায়ু ফসল ফলানোর উপযোগী ছিল তবুও তাদের ফসল ফলানোর ক্ষেত্রে তারা যথাযথ ভাবে প্রযুক্তির ব্যবহার না পারার দরুণ ফসলের পর্যাপ্ত ফলনও পেতনা।

সেই তুলনায় জলবায়ু পরিস্থিতি খারাপ হওয়া সত্ত্বেও বর্তমানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারকরে কৃষকেরা পর্যাপ্ত ফলন পাচ্ছে। কৃষিখাতে ধীরে ধীরে আধুনিকায়নের ছোয়া লাগছে। প্রান্তিক কৃষকরাও তাদের কৃষি কাজে সুবিধা ভোগ করতে পারছে। কৃষি কাজের জন্য জমিতে সঠিক সময়ে বীজবপন ও সার প্রয়োগ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমানে প্রায়ই প্রতিটি কৃষকের কাছে ইমুঠো ফোন আছে। যা দ্বারা তারা কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে প্রয়োজনীয় সময়ে যোগাযোগ করার মাধ্যমে জমিতে প্রয়োজন অনুসারে সঠিক মৌসুমে সঠিক বীজবপন ও সার প্রয়োগ করতে পারে।

এছাড়াও বীজ বা ফসলের যে কোন সমস্যা নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করতে পারে এবং আশানুরুপ ফলন পেয়ে থাকে। আবার প্রযুক্তির উন্নয়নে তারা প্রযুক্তি ব্যবহার করেও সুবিধা পেয়ে থাকে। লাঙল বা মই এর পরিবর্তে ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলার ব্যবহার করে কম পরিশ্রমে ও সময়ে বেশি ফলন লাভ করে। অনেক ধরণের ফসল উদ্ভাবন হয়েছে যেগুলো মৌসুমের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং খরা, বন্যা ও লবণাক্ততা সহিঞ্চু। কৃষকরা যখন আগে ফসল ফলাতো তখন এই উন্নত জাতের ফসলগুলো ছিলনা তাই তারা মৌসুম ভেদে ও অঞ্চলভেদে ফসল ফলাতে পারতো না। কিন্তু বর্তমানে তা সম্ভব হয়েছে।

এছাড়াও এখন যুগোপোযোগী বিভিন্ন কৃষি ব্যবস্থার প্রচলন হয়েছে। বাংলাদেশে বেকারত্ব প্রচুর এই বেকার যুবকেরাও কৃষির সাথে নিজেদের সংশ্লিষ্ট করার মাধ্যমে বেকারত্ব দূর করতে পারে। টিস্যু কালচারের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরণের দেশি বিদেশি চারা অনেক অল্প সময়ে চাষ করা যায় এবং এগুলোর চাহিদাও প্রচুর আবার অনেক প্রজাতির ফুল গাছ নার্সারিতে চাষ করেও লাভবান হওয়া যায়।

এক সময় মানুষের ধারণা ছিল যে শুধু কৃষকরাই কৃষি কাজ করবে কিন্তু বর্তমানে সময়ের পরিবর্তনে সেই ধারণা পাল্টেছে। এখন শুধু কৃষক নয় , অনেক শিক্ষিত মানুষও নিজেদের সাবলম্বী করার জন্য কৃষিকে বেছে নিয়েছে পেশা হিসেবে। এটি সম্ভব হয়েছে কেবলমাত্র প্রযুক্তির আধুনিকায়নে। এ ক্ষেত্রে সরকার গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপও বিশেষভাবে অবদান রেখেছে। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য ও পুষ্টি চাহিদা, বেকারত্বের সমস্যা দূরীকরণের জন্য কৃষিতে আরও আধুনিকায়ন এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা অতীব প্রয়োজনীয়।

রুহুলআমিন

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020 DailyAmaderChuadanga.com এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি