শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:০৩ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
গাংনীতে সড়ক দুর্ঘটনায় পা হারালেন ৬০ উধো্ এক নারী মেহেরপুর সড়ক দুর্ঘটনায় ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় কর্মী নিহত , আহত-৩ জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীর সাথে বিভিন্ন শ্রমিক নেতাদের মতবিনিময় গাংনীতে একজন মাদক কারবারীর কারাদন্ড স্বাস্থ্যবিধি মেনে শারদীয় দুর্গাপূজা উৎসব –জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আমঝুপির মাঠে কলার কাঁদি কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা মুকুট মণি সম্মানে ভূষিত হওয়ায় ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের আনন্দ মিছিল মেহেরপুরের রানা ১৫ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী আইপি টিভির রেজিস্ট্রেশন নির্দেশিকা শিঘ্রই: তথ্যমন্ত্রী

গ্রন্থ আলোচনা

গ্রন্থের নাম : মা আমার মা
লেখক : অধ্যক্ষ হামিদুল হক মুন্সী
প্রকাশক : মালেকা হক মাখন
প্রকাশনা সংস্থা : চুয়াডাঙ্গা ইতিহাস পরিষদ
প্রকাশ কাল : ফেব্রæয়ারি ২০২১ খ্রিষ্টাব্দ
প্রচ্ছদ : তারিক
মূল্য : ১০০/- (একশত) টাকা

অধ্যক্ষ হামিদুল হক মুন্সী বহুল পরিচিত একজন খ্যাতনামা শিক্ষাবিদ, একজন কলম সৈনিকও। বিবিধভাবে সম্মানিত, পুরস্কারপ্রাপ্ত, সংবর্ধিত, সম্মাননাপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রশাসকও। তিনি একজন আঞ্চলিক গবেষক। চুয়াডাঙ্গা জেলার ইতিহাস, চুয়াডাঙ্গা’৭১, নড়াইল পরিচিতি, চুয়াডাঙ্গা গেজেট (অনুবাদ) গ্রন্থসমূহ যেমন তাঁর আঞ্চলিক গবেষণার স্মারক তেমনি ‘বয়েসী রোদের বিউগল’, ‘মাধবী শুধু তোমাকেই’, ‘অবরুদ্ধ নগরে আছি’, ‘আমার মৃত্যু সংবাদ’ প্রভৃতি কাব্যগ্রন্থ তাঁকে একজন আধুনিক কবিতার চাদরে মড়ানো কবির অনুভবের বাহক হিসেবেও পরিচিতি এনে দিয়েছে। গতানুগতিকতার ধারার বাইরে যেয়ে তিনি ব্যতিক্রমী মনোভাবের শিক্ষাকর্মী হিসেবে শুধু গতবাধা ফ্রেমের মধ্যে থেকে শিক্ষকতা নাকরে নিজস্ব সৃজনশীলতার প্রভায় কাজ করেছেন। বিধায়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানের দায়িত্ব ও কর্তব্য, ‘পরীক্ষার বেশি নম্বর পাওয়ার উপায়’ ভালো ছাত্র হওয়ার উপায় প্রভৃতি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন গ্রন্থ রচনার মাধ্যমে দেশকে, সমাজকে, রাষ্ট্রকে সমৃদ্ধ করার প্রয়াস পেয়েছেন। সফলতার পুরস্কারের ডালির বহরও কম নয়। হাতে গোনা কয়েকজন সফল শিক্ষাবিদের তালিকায় তাঁর নাম আমাকে পুলকিত করেছে এবং এখনও করে। বিশেষ করে অবসরে যাবার পর চোখে খুবই কম দেখা, ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত অনেকটা স্মৃতিভ্রম ডাইবেটিক রোগ নিয়ে বসবাসকারী প্রবীণ এ মানুষটির ‘মা আমার মা’ গ্রন্থটি আমাকে বিস্মিত করেছে অনেক বেশি।

গ্রন্থটি হাতে নিয়ে দেখলে চোখে পড়বে যে, চার রঙের একটি সাদামাটা পরিচ্ছন্ন প্রচ্ছদ। প্রচ্ছদে লেখকের মায়ের একটি সাধারণ ছবি যা প্রচ্ছদ রঙের সাথে সাদৃশ্য একটি ফ্রেমে বাঁধাই করা। তার উপরে গ্রন্থের নাম ‘মা আমার মা’ লেখা। মায়ের ছবির নিচে লেখকের নাম। গ্রন্থপচ্ছদে শেষ কভারে লেখকের সংক্ষিপ্ত পরিচয়। প্রচ্ছদ শিল্পী তারিকের অনবদ্য শিল্পীশৈলীর দক্ষতা এখানে পরিস্ফুটন ঘটেছে।
গ্রন্থের নামকরণে কোন বিশেষ বৈচিত্র না থাকলেও মায়ের প্রতি বাঙালির চলমান ভক্তি, শ্রদ্ধা, ভালোবাসার প্রতনিধিত্বই প্রমান করে আর সকল বিষয়ের চেয়ে মায়ের প্রতি বাংলা মানুষের শ্রদ্ধাবোধের দৃষ্টান্ত কতো মধুর বা স্বার্বজনীন।

ফেব্রæয়ারি ২০২১ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত গ্রন্থটিতে সর্বমোট ৩৬টি প্রবন্ধ, নিবন্ধ, আলোচনা, পর্যালোচনামূলক গদ্য রচনা স্থান পেয়েছে, যা ইতোমধ্যে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় মুদ্রিত। এখানে চুয়াডাঙ্গার প্রতি পরম দরদি মনের প্রকাশ ঘটেছে যেমন, তেমনি চুয়াডাঙ্গার কয়েকজন কৃতি পুরুষের ছায়াচিত্রও ফুটে উঠেছে আবেগের জায়গা থেকে। সেক্টর কমান্ডার আবু ওসমান চৌধুরী, আব্দুল হাই, মকবুলার রহমান, কবি মইনুল হাসান, সাংবাদিক জেড. আলম, হিতৈষী লুৎফর রহমান আলোচিত ব্যক্তিদের অন্যতম। সর্বমোট ১২০ পৃষ্ঠায় মলাটবন্দী এ গ্রন্থে ছেড়া- ছেড়া ভাবে হলেও চুয়াডাঙ্গার মাটি ও মানুষের শ্রম-প্রতিভার ঘাম লেপ্টে আছে, যা অন্তরের চোখ দিয়ে দেখলে দেখা যাবে। অফসেট পেপারে মুদ্রিত এ গ্রন্থে ড. সুকুমার রায় কর্তৃক একটি গ্রন্থ আলোচনা স্থান পেয়েছে। সমসাময়িক সময়ে বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত নাম ‘করোনা’। করোনা বিষয়ে সচেতনাবৃদ্ধির প্রচেষ্টার স্মারক ‘করোনা থেকে বাঁচার উপায়, এবং…’। হামিদুল হক মুন্সীর সম্প্রতি প্রকাশিত গ্রন্থের উপর লেখা গ্রন্থ আলোচনাটিও এ সময়ের জন্য একটি গ্রহণযোগ্য নান্দনিকতা। অধ্যক্ষ হামিদুল হক মুন্সী সম্পর্কে আমরা কিছু তথ্য সম্পর্কে জ্ঞান হলেও অনেক কিছুই আমাদের চোখের আড়ালে তাই তাঁকে চিনতে, জানতে, বুঝতে হামিদুল হক মুন্সীর জীবন বৃত্তান্ত পর্বটি উৎসাহী পাঠকদের চাহিদা পূরণে সহায়ক ভ‚মিকা পালন করবে। প্রসঙ্গক্রমে বলে রাখি যে, অধ্যক্ষ হামিদুল হক মুন্সী সেরকম একজন শিক্ষাবিদ যার অন্তত দু’টি উদ্ভাবিত শিক্ষা মডেল রাষ্ট্রীয় ভাবে গৃহীত হয়েছে। ছাত্রীদের উপবৃত্তি প্রদান ও শিক্ষার্থীদের দুপুরের টিফিন প্রদান। প্রথমটি নড়াইল আব্দুল হাই সিটি কলেজে এর দ্বিতীয়টি উল্লাপাড়া বিজ্ঞান কলেজে চালু করে দৃষ্টান্ত রেখেছিলেন। সরকারি সিদ্ধান্তের পূর্বেই এমন ভাবনা, প্রয়োগ ও সফলতা তাঁকে সম্মানিত করেছে।

প্রায় তিন ডজন মৌলিক সৃজনশীল গ্রন্থের রচয়িতা হামিদুল হক মুন্সী একজন প্রচার বিমুখ মানুষ হলেও তাঁকে নিয়ে ইতোমধ্যে বেশকয়েকটি সাময়িকীতে প্রচ্ছদ কাহিনি, সাক্ষাৎকার নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। রেডিও এবং টেলিভিশন চ্যানেল কর্তৃক তার স্বীকৃতি আলো ছড়াচ্ছে প্রতিনিয়তই।

পূর্ব থেকে জানি যে, তিনি বেশ কয়েক বছর চোখে দেখেন না, ব্রেন স্টোকের কারণে অনেক কিছু মনে রাখতে পারেন না, গ্যাংগ্রিণ এর কারণে পায়ে একটি অংশ কেটে বাদ দেবার কারণে তিনি স্বাভাবিকভাবে হাটতে পারেন না। ডাইবেটিক রোগে দীর্ঘদিন আক্রান্ত থাকার কারণে বিবিধ রোগের সাথে লড়াই করে টিকে থাকা এ মানুষটি টিকে থাক এবং অন্যের সহযোগিতা নিয়ে হলেও লেখালেখির ভ‚বনে বহাল থাকুন।

পাঠকদেরকে বললো-মাত্র একশত টাকায় বিনিময়ে ‘মা আমার মা’ গ্রন্থটি পড়–ন, সংগ্রহে রাখুন।

 

– মুহাম্মদ রবীউল আলম

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020 DailyAmaderChuadanga.com

 www.bdallbanglanewspaper.com

Design & Developed BY Creative Zoone IT