শুক্রবার, ৩০ Jul ২০২১, ০৪:৩৪ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
খাদ্যশস্য মজুদের রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে সরকার চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে করোনা পরীক্ষায় অতিরিক্ত টাকা আদায় বন্ধ আ’লীগের পদ হারানো ব্যবসায়ী হেলেনা জাহাঙ্গীর আটক, বিভিন্ন অবৈধ সরঞ্জাম উদ্ধার চুয়াডাঙ্গায় জাতীয় শোক দিবস পালন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা মেহেরপুরের ২ গ্রামে হুট করেই মৃত্যুর হিড়িক, ১ মাসে প্রাণ গেল ৪৪ জনের মাদ্রাসার কমিটি নিয়ে দ্বন্দের জেরে আত্রাইয়ে প্রতিপক্ষের হামালায় মা-ছেলেসহ আহত ৩ আত্রাইয়ে সাপের কামড়ে যুবকের মৃত্যু আত্রাইয়ে লকডাউনে মুরগী খামারীরা চরম লোকসানে শিকার নেক সন্তানের জন্য নিঃসন্তান দম্পতি যে দোয়া পড়বেন যে তিন কাজের জন্য বান্দার জাহান্নাম অবধারিত

চুয়াডাঙ্গার বেগমপুর ইউনিয়নে নিম্নমানের ভিজিএফ’র চাল সরবরাহের অভিযোগ

এলাকাবাসির প্রতিবাদের মুখে চাল বিতরণ বন্ধ : সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের ঘটনাস্থল পরিদর্শন : অভিযোগের সত্যতা মেলায় অবশিষ্ট চাল জব্দ

চুয়াডাঙ্গা সদর ৫নং বেগমপুর ইউনিয়ন পরিষদের অনুকুলে জেলা খাদ্যগুদাম থেকে ৫৫২ বস্তা নিম্নমানের ভিজিএফ’র চাল সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসির প্রতিবাদের মুখে চাল বিতরণ বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভিযোগের সত্যতা মেলায় অবশিষ্ট ৩৫২ বস্তা চাল জব্দ করেছে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার। তবে নিম্নমানের এ চাল সরবরাহ নিয়ে জেলা খাদ্যনিয়ন্ত্র অধিদপ্তরের মধ্যে রশি টানাটানি শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে তাহলে এর দায়ভার কার? কোথা থেকে প্রাপ্ত হলো এ নিম্নমানের চাল ?

তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে ভিজিএফ’র চাল বিতরণ শুরু করেছে সরকার। বর্তমান সরকারকে গরীব বান্ধব সরকার বলা হয়। কারণ ইতোমধ্যে ১০ টাকা কেজি করে চাল কোন সরকারই চালু করেননি। অনায়াসে বোঝা যায় সরকার গরিব নিয়ে কতটা চিন্তিত। তারই ধারাবাহিকতায় চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর ইউনিয়ন পরিষদের ১ হাজার ৬৮৫ জন দুস্থ পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করে ইউনিয়ন কমিটি। ঈদের আগেই গরীব মানুষেরা যেন ভিজিএফের ১০ কেজি করে চাল পায়। তালিকা অনুযায়ি ১৬ টন ৮৫০ কেজি অর্থাৎ ৩০ কেজির ৫৫২ বস্তা ভিজিএফ চালের ডিও পায় পরিষদ।

গত  শনিবার ডিওর চাল তুলে আনে পরিষদের লোকজন।  রোববার ১৮ জুলাই সকাল থেকে চাল বিতরণ নিয়ে কোন অনিয়ম না থাকলেও নিম্নমানের চাল নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। কার্ডধারীরা চাল নিতে এসে ক্ষোভও প্রকাশ করে। জেলা খাদ্যগুদাম থেকে সরবরাহকৃত এবারের ভিজিএফ’র চাল খাওয়ার অযোগ্য বলে মনে করেন অনেকেই।

ভিজিএফ’র চাল নিতে আসা রবিউল ইসলাম, আলী কদর, সোহাগ, পানু বেগম, গোলামরসূল, শাবানা, জহির, বাবলুসহ বেশ কয়েকজন বলেন, আমরা গরীব হতে পারি মানুষ তো। এতনিম্ন মানের চাল মানুষ কেন গরুর জন্যও কিনে খাওয়ায় না। সরকার ভালোচালের টাকা দিচ্ছে আমরা কেন খারাপ চাল নিব।

উপস্থিত বীরমুক্তিযোদ্ধা মুক্তার হোসেন বলেন, এত নিম্নমানের খাওয়ার অযোগ্য চাল মানুষকে দেয়া ঠিক না। একপর্যায় দুপুরের দিকে এলাকাবাসি উত্তেজিত হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলে চাল বিতরণ বন্ধ করে দেয় পরিষদ কর্তৃপক্ষ।

ইউপি চেয়ারম্যান আলী হোসেন জোয়ার্দ্দার বলেন, আমি অসুস্থ থাকার কারণে শনিবার ডিও অনুযায়ি চাল আনতে যায় ১নং ওয়ার্ডের চৌকিদার আব্দুলসহ কয়েকজন লেবার। চুয়াডাঙ্গার খাদ্যগুদাম থেকে ট্রাক্টরে করে চাল এনে পরিষদের গোডাউনে যখন রাখা হয় তখন প্যানেল চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমান জুলমত বস্তাগুলো গুণে বুঝ করে নেয়। সকালে বিতরণ করতে গিয়ে দেখছি এই অবস্থা। চৌকিদার আব্দুল বলেন, গোডাউনে দায়িত্বরতরা যে ভাবে দিয়েছে আমরা সে ভাবেই এনে পরিষদের গোডাউনে রেখেছি।

দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসর সদর উপজেলা যুবউন্নয়ন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ইতপূর্বেও চাল দেয়া হয়েছে। তখন দেখতাম সব চাল এক রকমের। এবারই দেখছি বিভিন্ন রকমের।

এব্যাপারে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা রেজাউল ইসলাম বলেন, এমন তো হবার কথা না। আর আমাদের গোডাউনে কোন খারাপ চালও নেই। বিষয়টি আমি দেখছি। কোথা থেকে কি ভাবে আসলো এ চাল।

খাদ্য পরিদর্শক আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, খারাপ চাল দেবার সুযোগ নেই। তবে ৩০ কেজি বস্তার এ চালটা আমাদের গোডাউনের না, ঝিনাইদহ সদর ও জীবননগর গোডাউন থেকে স্থানন্তর প্রাপ্ত।

চালের মান নিয়ন্ত্রন খাদ্য কারিগরি পরিদর্শক আনিছুর রহমান বলেন, সরবরাহ কারিরা আমাদের কাছে যে নমুনা পাঠিয়েছে সে অনুযায়ি চাল গোডাউনে থাকার কথা।

কিন্তু সরবরাহের সময় এমন হলে কি করার আছে। আর আমার একার পক্ষে সবকিছু দেখা সম্ভবও না। এ চালের ব্যাপারে খাদ্য পরিদর্শক আবু বক্কর সিদ্দিক ভালো বলতে পারবে, আপনি তার সাথে যোগাযোগ করেন। ঝিনাইদহ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা শেখ আনোয়ারুল করিমের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেনিনি। নিম্নমানের এ চালের দায়ভার নিতে চাইছেন না জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অধিদপ্তর। তাহলে প্রশ্ন উঠেছে এর দায়ভার কার ? আর সরকারি গোডাউনেই বা নিম্নমানের চাল ঢুকলো কি করে ? এরদায়ভার নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা কোন ভাবেই এড়িয়ে যেতে পার না বলে সচেতন মহল মন্তব্য করেছেন। তবে একটি সূত্র জানিয়েছে, নিম্নমানের এ চালের গাড়ি যখন চুয়াডাঙ্গা খাদ্যগুদামে আসে তখন দায়িত্বরত কর্মকর্তা এচাল রিসিভ করতে অস্বিকৃতি জানায় এবং খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তাকে অবহিত করেন। একপর্যায় অজ্ঞাত চাপে দায়িত্বরত কর্মকর্তা এক ট্রাকচাল রিসিভ করতে বাধ্য হন। সরবরাহকৃত চালের বস্তার মধ্যে ২০১৬ সালেরও বস্তা আছে।

এদিকে অভিযোগ পেয়ে গতকালই চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ সাদিকুর রহমান দুপুরের দিকে চুয়াডাঙ্গা খাদ্যগুদাম এবং বিকালে বেগমপুর ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শনে যান। নিম্নমানের চাল নিয়ে অভিযোগের সত্যতা মেলায় তিনি অবশিষ্ট ৩৫২ বস্তা চাল জব্দ করে খাদ্যগুদামে ফেরত পাঠান।

তিনি বলেন, অভিযোগের সত্যতা মিলেছে তাই নিম্নমানের এ চাল ফেরত দিয়ে আজকের (সোমবার ১৯ জুলাই) মধ্যেই ভালোমানের চাল পরিষদে সরবরাহ করা হবে। সামনে ঈদ গরীব মানুষেরা ঈদের আগেই যেন সরকারের দেয়া চাল পায় তারও ব্যবস্থা করা হবে। আর বাকি বিষয়টি তদন্ত পূর্বক দোষিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনিয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020 DailyAmaderChuadanga.com

 www.bdallbanglanewspaper.com

Design & Developed BY Creative Zoone IT