শুক্রবার, ৩০ Jul ২০২১, ০২:৫০ পূর্বাহ্ন

বোলিং বীরত্বে চালকের আসনে বাংলাদেশ

দৌড়ে এসে মিরাজকে জড়িয়ে ধরলেন সাকিব। অল্প কিছুক্ষণের জন্য ওপরে তুললেন। এরপর চড়া হাসি দুজনের। কোনও প্রতিযোগিতা চলছিল কি না কে জানে! কিন্তু তাদের হাসিখুশি ওই মুহূর্তটা বাঁধিয়ে রাখার মতোই। কেনই বা হবে না, দুজন যেভাবে বাংলাদেশকে বোলিংয়ে ফিরিয়েছেন তা কেউ কল্পনা করেছিল? অভাবিত ঘুরে দাঁড়ানোর অনবদ্য কীর্তি গড়ে বাংলাদেশকে প্রথম ইনিংসে ১৯২ রানের বিশাল লিড এনে দিলেন দুই স্পিনার।

বাংলাদেশের করা ৪৬৮ রানের জবাবে জিম্বাবুয়ের রান ২৭৬। মিরাজের পকেটে অষ্টম ৫ উইকেট। ফেরার ইনিংসে সাকিব রাঙালেন ৪টি। বাকিটা তাসকিনের শিকার। দ্বিতীয় দিন ১ উইকেটে ১১৪ রান তুলে জিম্বাবুয়ে চোখ রাঙিয়ে বাংলাদেশকে জবাব দিচ্ছিল। শুক্রবার প্রথম সেশনেও ২৬ ওভারে ৯৫ রান যোগ করে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আমেজ বাড়িয়ে তোলে।

এরপর মধ্যাহ্ন ভোজের বিরতি। আর সেখান থেকেই বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প শুরু। প্রথম সেশনে ব্রেন্ডন টেইলর ও কাইতানোর দারুণ লড়াই। দুইজন তুলে নেন ফিফটি। টেইলর স্বভাবসুলভ ব্যাটিংয়ে দ্রুত রান করছিলেন। সাকিবকে মাথার ওপর দিয়ে ছক্কা মারতে দ্বিধা করেননি। তাসকিনকে মিড উইকেট দিয়ে সীমানায় পাঠাতেও কাপর্ণ্য করেননি। বেশ সাহস নিয়ে ২২ গজ রাঙিয়েছেন তিনি। সকালের তপ্ত সেশনে মোট ১১ বাউন্ডারির ৬টিই মেরেছিলেন তিনি। দ্রুত রান চলে যায় ৮৭ রানে।

এরপর বাজে এক শটে বাংলাদেশকে উইকেট উপহার দেন টেইলর। তাতে বাংলাদেশের পক্ষে ম্যাচের মোড়ও ঘুরে যায়। মিরাজকে উড়াতে গিয়ে স্কয়ার লেগে ইয়াসিরের হাতে ক্যাচ দেন জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক। বিরতি থেকে ফিরে জিম্বাবুয়েকে চেপে ধরা শুরু। চা-বিরতি পর্যন্ত ২৯ ওভার বোলিং করেন মিরাজ, সাকিব, তাসকিন ও ইবাদত। এ সময়ে চার বোলার মিলে রান দিয়েছেন মাত্র ৩৫। তুলে নেন ৩ উইকেট।

প্রথম সেশনে ১১ বাউন্ডারি হজম করা বাংলাদেশ দ্বিতীয় সেশনে মাত্র ১ বাউন্ডারি দেয়। সেশনে ১১টি ওভারই ছিল মেডেন। চা-বিরতির আগে যে চাপ সৃষ্টি করেছিল বাংলাদেশ, শেষ সেশনের প্রথম ঘণ্টায় তা কাজে লেগে যায়। ১৫ রান তুলতেই স্বাগতিকরা হারায় ৫ উইকেট। এজন্য বল করতে হয়েছে মাত্র ৩৭টি। তাতে বাংলাদেশ পেয়ে যায় বিশাল লিড।

মিরাজ ৫ উইকেট নিয়ে জিম্বাবুয়ের বোলিং এলোমেলো করে দেন। সাকিবের পকেটে গেছে ৪ উইকেট। বাংলাদেশের অভাবিত ঘুরে দাঁড়ানোর দিনে স্বাগতিকদের হয়ে বুক চিতিয়ে লড়াই করেন ওপেনার কাইতানো। ডেভ হুগটন (১২১) ও হ্যামিল্টন মাসাকাদজার (১১৯) পর তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে অভিষেকে সেঞ্চুরি হাঁকানোর সুযোগ ছিল। কিন্তু মিরাজের লেগ স্টাম্প দিয়ে বেরিয়ে যাওয়া বলে ব্যাটটা ছুঁয়ে বিপদ ডেকে আনেন কাইতানো। ধৈর্যের মূর্ত প্রতীক হয়ে ব্যাটিং করা এ ব্যাটসম্যান ৩১১ বলে ৯টি বাউন্ডারি মারেন।

বিশাল পুঁজি নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে বিনা উইকেটে ৪৫ রানে দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে রানের খাতা খুলতে না পারা সাইফ ৩ বাউন্ডারিতে ২০ রান করেছেন। সাদমানের ব্যাট থেকে এসেছে ২২ রান। সব মিলিয়ে লিড ২৩৭ রানের। প্রথম দু্ই দিন বাংলাদেশ স্বস্তি নিয়ে দিন শেষ করেছিল। তৃতীয় দিন শেষে অতিথিরা চালকের আসনে। সূত্র: রাইজিংবিডি

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020 DailyAmaderChuadanga.com

 www.bdallbanglanewspaper.com

Design & Developed BY Creative Zoone IT