শুক্রবার, ৩০ Jul ২০২১, ০৩:৫৩ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, চ্যালেঞ্জের মুখে আওয়ামী লীগ

মাত্র আড়াই বছর দূরে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন কমিশনের মেয়াদও শেষ হচ্ছে আগামী বছরের শুরুতে। ফলে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নানা জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়ে গেছে। বিশ্লেষণ চলছে নানা সমীকরণ মিলিয়ে আবারও কি আওয়ামী লীগ ক্ষমতার মসনদে বসবে? নাকি সাম্প্রতিক সময়ে আমলাদের নিয়ে আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের বক্তব্য সেই সমীকরণ পাল্টে দেবে।

এদিকে আওয়ামী লীগ আর আমলাদের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে ‘গভীর ষড়যন্ত্র’ হচ্ছে বলে মনে করছেন দলের দায়িত্বশীল নেতারা। তবে যে কোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে তারা ঐক্যবদ্ধ রয়েছেন। অন্যদিকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের এড়িয়ে জেলার দায়িত্ব আমলাদের দেওয়ার অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সরকার সমর্থিত সংসদ সদস্যরা।

তারা বলেন, দেশে রাজনীতি নেই। দেশ চালাচ্ছেন আমলারা। রাজনীতিবিদরা তৃতীয় লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। অথচ দেশ স্বাধীন করেছেন রাজনীতিবিদরা। সংসদের আলোচনার বিষয়টি নিয়ে মাঠের রাজনীতিবিদদের মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। আর আমলারা বলছেন, সংসদে আমলা ও রাজনীতিবিদদের মুখোমুখি করা হচ্ছে। বিষয়টিকে বাড়াবাড়ি বলেও মনে করছেন কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান আমলা।

বিষয়টি নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রবীণ সংসদ সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেন, রাজনীতি এখন রাজনীতিবিদের হাতছাড়া হয়ে গেছে। জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে হলে অবশ্যই রাজনীতিবিদেরই রাজনীতি করতে দিতে হবে। তবেই চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। তবে তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে পুরো একমত নন ক্ষমতাসীন দলের আরেক সংসদ সদস্য মির্জা আজম।

তিনি বলেন, রাজনীতি রাজনীতিবিদের কাছেই আছে। পরিবর্তন এসেছে কৌশলে। ক্ষমতায় থাকার ও যাওয়ার স্বার্থে আমলাদের গুরুত্ব দেওয়া সরকারের পলিসি। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির এমপি ফিরোজ রশীদের অভিযোগ, এখন রাজনীতিবিদদের ওপর আমলাদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। প্রত্যেক জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সচিবদের। প্রধানমন্ত্রী ডিসিদের সঙ্গে কথা বলেন। আর এমপিরা পাশাপাশি বসে থাকেন দূরে।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম বলেছেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর ক্ষমতাসীনরা আমলানির্ভর হয়ে পড়েছেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে আমলারা পুরোপুরি এই সরকারকে ঘিরে ফেলেছেন। এখন সরকারি দলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

কেউ কেউ আবার বলছেন, একটা ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে। সচিবরা শুধু জেলা প্রশাসকদের কাজে সমন্বয় করছেন। অনেক কাজ চাইলেও এমপিদের দিয়ে সম্ভব নয়। কারণ মন্ত্রিপরিষদে যখন জেলার কোভিডের তথ্য চাওয়া হয়, তখন সচিবরা যে উপায়ে মাঠে কাজ করেন, এমপিরা তা করবেন তাদের পিএস দিয়ে। অনেক সময় দেখা যায় জুনিয়র-সিনিয়র এমপিদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকে। জেলার কোনো দায়িত্ব পদাধিকার বলে জুনিয়র এমপি পেলে সিনিয়র এমপি তাতে নাখোশ হন।

এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, মানুষের মধ্যে সরকারের কোনো ভিত্তি নেই। তাই প্রশাসন ও পুলিশ নির্ভর হয়ে পড়েছে সরকার।

বিষয়টি নিয়ে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন বলেন, আপাতত করোনা মোকাবিলা এখন আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ। রাজনীতি নিয়ে পরে অনেক আলোচনা করা যাবে।

জানতে চাইলে সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার খোলা কাগজকে বলেন, একটি সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে ব্যর্থ হয়েছে আওয়ামী লীগ। তাদের উচিত ছিল দেশের মানুষকে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ দেওয়া। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ব্যবস্থা একেবারেই ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে।  সূত্র: খোলাকাগজ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020 DailyAmaderChuadanga.com

 www.bdallbanglanewspaper.com

Design & Developed BY Creative Zoone IT