শুক্রবার, ৩০ Jul ২০২১, ০২:৪৬ পূর্বাহ্ন

২৫০০ নিবন্ধনধারী চাকরিপ্রার্থী সুখবর পেতে পারেন রিভিউতে!

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) প্রথম থেকে ১২তম নিবন্ধনধারীদের মধ্যে ২৫০০ জনের রিট আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত। এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পেতে ২০১৭ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত আইনি লড়াই করে নিবন্ধনধারীরা হাইকোর্টে পক্ষে রায় পেলেও হেরে যান আপিল বিভাগে। তবে এই রায়ের পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) নামে সর্বশেষ আইনগত একটি পথ বাকি রয়েছে। আর এই রিভিউয়ের বিষয়টি দেখবেন আপিলে রায় দেয়া বিচারপতিরা। বেশির ভাগ রিভিউতে ভালো ফলাফল আসার নজির কম থাকলেও প্রতিকার পাওয়ার পথ একদম বন্ধ নয়। এজন্য আইনজীবীরা বলছেন, ২৫০০ নিবন্ধনধারী সুখবর পেতে পারেন রিভিউতে। নজির আছে আপিলে হারার পর রিভিউতে জয় পাওয়ারও।

গত ২৮ জুন রায় ঘোষণার পর থেকেই ২৫০০ চাকরিপ্রার্থীর আইনজীবী ও ভুক্তভোগীরা গণমাধ্যমের সঙ্গে কম কথা বলছেন। তাদের অনেকেরই মন ভেঙে গেছে। গত ২৮ জুন এ মামলার শুনানির সময় আপিল বিভাগে ভুক্তভোগীদের আইনজীবীর দু-একজন যথাযথ আইনি যুক্তি তুলে ধরতে পারেননি বলেও অভিযোগ উঠেছে। এ মামলার শুনানির সময় একজন বিচারপতি চাকরিপ্রার্থীদের এক আইনজীবীর কাছে জানতে চান- আপনাদের নিয়োগ দেয়ার এখতিয়ার কে রাখে? তখন রিটকারীদের আইনজীবী সঠিক উত্তর দিতে সময় লেগে যায়। এরপর প্রধান বিচারপতি বলেন, আপিল ডিসমিসড (খারিজ)। তখনই কপাল পোড়ে দুই হাজার ৫০০ চাকরি প্রার্থীর।

এনটিআরসিএর সনদধারীদের একাংশের রিটকারী মোহাম্মাদ ফারুক হোসেন বলেন, আপিলে উভয় পক্ষের আইনজীবীরা সঠিকভাবে তাদের যুক্তি তুলে ধরতে পারেননি। এজন্য আপিল বিভাগে ২৫০০ সনদধারী হেরে গেছেন। হেরে গেলেও এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য আইনি প্রতিকার রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

আইনজীবী বলেন, এই মামলার আপিলের রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) করলে ভুক্তভোগীরা তাদের পক্ষে রায় পাবেন। রিভিউতে নিয়োগ বিষয়ে যথাযথ যুক্তি তুলে ধরতে পারলে আশানুরূপ ফলাফল জুটবে।

ফারুক হোসেন আরও বলেন, নির্ধারিত ফি নিয়ে সব শর্ত পূরণ করে এনটিআসিএর সনদ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন চাকরিপ্রার্থীরা। এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে এসব সনদধারীর বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেওয়ার সুপারিশ করতে বাধ্য এনটিআরসিএ। তাহলে কেন এরকম হলো আপিলে? এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে রিভিউ করার পরামর্শ দিয়েছেন মোহাম্মদ ফারুক হোসেন।

তবে আপিল বিভাগের রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে আবেদন করবেন কী না এমন প্রশ্নের উত্তরে চাকরি প্রার্থীদের একাংশের আইনজীবী ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া বলেন, ‘এই মুহূর্তে বলতে পারছি না কী করবো। আমার মক্কেলের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেব।’

আরেক আইনজীবী ব্যারিস্টার মহিউদ্দিন মো. হানিফ বলেন, ‘আমরা বিষয়টি নিয়ে মক্কেলদের সঙ্গে কথা বলবো। তাদের সঙ্গে বসে আইনি বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।’

একজন চাকরি প্রার্থী ও রিটকারীদের একাংশের সমন্বয়ক আতিক হাসান বলেন, আমাদের আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে রিভিউ করবো কি না সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।

চাকরি প্রার্থী ও রিটকারীদের একাংশের সমন্বয়ক আতাউর রহমান বলেন, আপিল বিভাগের খবরটা শুনে মন ভেঙে গেছে। হতাশ হলাম এমন রায়ে। আমরা ২৫০০ রিটকারীর মধ্যে নই। আমরা নতুন করে প্রথম থেকে ১২তম মোট ১৫৩ জন চাকরি প্রার্থী রিট করেছি। আমাদের রিট এখনো শুনানি হয়নি। আমাদের রিটটি হাইকোর্টে ফাইল করেছি মাত্র। দেখা যাক কী হয়।

আতাউর রহমান বলেন, আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে আমরা আগানোর চেষ্টা করবো।

২০১৭ সাল থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত রিটকারীরা কয়েক ধাপে বেশ কয়েকটি রিট ফাইল করেছেন। কেউ আদেশ পেয়েছেন, কেউবা পেয়েছেন রুল। আর এসব করতে দৌড়ঝাঁপের পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন অনেকেই। দলবেঁধে টাকাও তুলেছেন লাখ লাখ। কিন্তু শেষ ব্যথা রয়েই গেল। টাকা গেল, মন ভাঙলো তবুও দূর হলো না বেকারত্ব।

গত ২৪ জুন এনটিআরসিএর সনদধারী ২৫০০ জনের রিট আবেদনটি খারিজ করে দেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বধীন আপিল বিভাগের একটি বেঞ্চ।

গত ৩১ মে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) কর্তৃক এক থেকে ১২তম নিবন্ধনধারীদের মধ্যে রিটকারী দুই হাজার ৫০০ জনকে এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগের সুপারিশ করতে এনটিআরসিএর প্রতি নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। সে রায়ের বিরুদ্ধে এনটিআরসিএর করা আপিল শুনানি শেষে চাকরি প্রার্থীদের রিট আবেদনটি খারিজ করে দেয়া হয়।

গত ২২ জুন এনটিআরসিএর করা আবেদনের ওপর শুনানি করে আদেশ দেন চেম্বার আদালত, বহাল রাখেন রিটকারীদের পক্ষে হাইকোর্টের রায়। চলতি বছরের ৩১ মে হাইকোর্ট আদেশে বলেন, রায় প্রকাশের চার সপ্তাহের মধ্যে আড়াই হাজার শিক্ষককে নিয়োগ দেয়ার সুপারিশ বাস্তবায়ন করে কোর্টকে জানাতে হবে। বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দিয়েছিলেন।

গত ৬ মে হাইকোর্টের একই ভার্চুয়াল বেঞ্চ এনটিআরসিএ কর্তৃক এক থেকে ১২তম নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রায় আড়াই হাজার চাকরি প্রত্যাশীকে এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগের সুপারিশ করার জন্য সাত দিন সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। একইসঙ্গে, ৫৪ হাজার নিবন্ধনধারীকে নিয়োগ দিয়ে জারি করা গণবিজ্ঞপ্তি স্থগিত করে আদেশ দিয়েছিলেন আদালত।

চলতি বছরের ৭ মার্চ বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষকে এক থেকে ১২তম নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগের সুপারিশ করতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। ১৫ দিনের মধ্যে এনটিআরসিএ চেয়ারম্যানকে এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়। আদালতের ওই আদেশ বাস্তবায়ন না করায় পুনরায় এনটিআরসিএ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করা হয়। এর আগে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর এনটিআরসিএ কর্তৃক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে বিজ্ঞপ্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেন হাইকোর্ট।

 

সূত্র: পূর্বপশ্চিমবিডি

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020 DailyAmaderChuadanga.com

 www.bdallbanglanewspaper.com

Design & Developed BY Creative Zoone IT