মঙ্গলবার, ২৭ Jul ২০২১, ১১:৫৯ পূর্বাহ্ন

চুয়াডাঙ্গার উপশম নার্সিংহোম থেকে নবজাতক বিক্রির চেষ্টা

পুলিশ সুপারের তড়িৎ পদক্ষেপে উদ্ধার করা নবজাতককে তুলে দেয়া হলো মায়ের কোলে

দিনভর আলোচনা-সমালচনায় শোনা যাচ্ছিল মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে একটি নবজাতকে বিক্রি করা হয়েছে। নিঃসন্তান এক দম্পত্তি ওই নবজাতককে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে কিনে নিয়েছে। এমন সংবাদ বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপারের নজরে আসে। অনেক খোঁজ খবর নিয়ে অবশেষে ১৩ জুন রোববার রাতে উদ্ধার করা হয় ওই নবজাতকে। ফিরিয়ে দেয়া হলো তার মায়ের কোলে। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল সড়কের উপশম নার্সিংহোমে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার দলকা লক্ষিপুর স্কুলপাড়ার মানসীক ভারসাম্যহীন সুমাইয়া খাতুন ওরফে অনন্যা (২২)। প্রসব বেদনা শুরু হলে ১২জুন শনিবার বিকেলে তাকে ভর্তি করা হয় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল সড়কের উপশম নার্সিং হোম। সেখানে ওইদিন সিজারিয়ানের মাধ্যমে কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। ওইদিনই নবজাতককে নিয়ে যায় দামুড়হুদা উপজেলার গোপালপুর গ্রামের রিপন-লিপা দম্পত্তি। বিভিন্ন মাধ্যমে সমালচনা হয় আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই ওই দম্পত্তি মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে নবজাতকে কিনে নেয়। এ ঘটনা একান-সেকান থেকে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলামের নজরে আসে।  রোববার সন্ধার দিকে পুলিশ সুপারের নির্দেশে সদর থানার একটি টিম খোজ নিতে থাকে। একপর্যায়ে রাতে ওই নবজাতককে উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

রোববার সন্ধায় পুলিশের একটি টিম উপশম নার্সিং হোমে যায়। নার্সিং হোম কর্তৃপক্ষ বিষয়টি এড়িয়ে গেলেও পরবর্তীতে মেলে সুমাইয়া খাতুনের সন্ধান। সুমাইয়া খাতুন উপশম নার্সিং হোমেন তৃতীয় তলায় ভর্তি ছিল। সুমাইয়া খাতুনের শয্যাপাশে থাকা লোকজন বিষয়টি বেমালুম এড়িয়ে গেলে পুলিশের জেরার মুখে তারা আসল ঘটনা শিকার করতে বাধ্য হয়।

সুমাইয়া খাতুনের শয্যাপাশে থাকা চুয়াডাঙ্গা শহরতলীর দৌলতদিয়াড় মার্কাসপাড়ার আব্দুর রশিদের বাড়ির ভাড়াটিয়া ববিতা খাতুন বলেন, রিপন আলী ও তার স্ত্রী লিপা খাতুন তার আত্মীয় হয়। পক্ষান্তরে সুমাইয়া খাতুন মানসীক ভারসাম্যহীন ও দরিদ্র এবং তার স্বামী তাকে ঠিকমতো দেখা-শোনা করেন না। সে কারনে সুমাইয়ার সাথে কথা বলে শিশুটি জন্মের পরপরই ববিতাকে পাইয়ে দেয়ার কথা বলে। ক্লিনিকের খরচ এবং সুমাইয়ার চিকিৎসার বার নেই রিপন-লিপা দম্পত্তি। শনিবার নবজাতক কন্যা সন্তান জন্মগ্রহন করার কিছুক্ষণ পরই তারা ওই সন্তানকে তাদের বাড়িতে নিয়ে যায়। শিশুটি বিক্রির বিষয়টি তারা অশ্বিকার করেন।

এ ব্যাপারে উপশম নর্সিংহোমের মালিক ডা. জিন্নতুল আরার মুঠো ফোনে আকাধীকবার কল করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ ব্যাপারে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জিহাদ ফখখরুল আলম খান জানান, পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় আমরা শিশুকে উদ্ধার করে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছি। উভয়পক্ষের সাথে কথা বলেছি। আসলে তারা যে কাজটি করেছে সেটা মানবাধিকার লঙ্ঘন। শিশুর যে অধিকার সেটা রক্ষা হয়নি। শিশুটিকে যদি নিতে হয় তাহলে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিতে হবে।

 

আমাদের চুয়াডা্ঙ্গা /আহসান আলম/এ.এইচ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020 DailyAmaderChuadanga.com

 www.bdallbanglanewspaper.com

Design & Developed BY Creative Zoone IT