সোমবার, ২১ Jun ২০২১, ০১:৫০ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
এবার ‘বাড়ীর কাজে’ শিক্ষার্থী মূল্যায়ন, বাতিল হচ্ছে পিইসি পরীক্ষা: বাতিল হতে পারে ইইসি, জেএসসি ও জেডিসিও ‘অন্যের চাকরির উৎস হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে’ ভূমিধস বিজয়ে ইরানের ১৩তম প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রায়িসি ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ’ হত্যা করে ৯৯৯ নম্বরে ফোন, ‘বাবা, মা, বোনকে খুন করেছি, আইস্যা নিয়া যান’ চুয়াডাঙ্গায় করোনায় আক্রান্ত আরও ৩ জনের মৃত্যু: নতুন সংক্রমণ ৬৮ চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকা ও আলুকদিয়া ইউনিয়ন লকডাউন ঘোষণা অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমকালে বাংলাদেশী ২৫ নাগরিক আটক সলঙ্গায় ২০০ মিটার নতুন পাকা রাস্তা পেয়ে আনন্দিত এলাকাবাসী নবীগঞ্জ উপজেলা আ’লীগ সভাপতি মুকুলের পরিবারের আর্ত্মনাদ

ভারতীয় প্রযুক্তি ব্যবহারে দেশে প্রথম শুরু হলো আনার চাষ

 ইউটিউবে আধুনিক প্রযুক্তিতে আনার চাষ দেখে নিজেই বাগান করতে অদম্য ইচ্ছা পোষন করেন শিক্ষিত যুবক মোকাররম হোসেন। চ্যানেলটির লিংক ধরে আদ্যপ্রান্ত খুঁজে যোগাযোগের চেষ্টা শুরু করেন তিনি। অবশেষে ভারতের বিখ্যাত সয়েল চার্জার টেকনোলজীর এমডি’র সাথে যোগাযোগ করে তাদের উদ্ভাবিত টেকনোলজী দেখতে পাড়ির জমাই মুম্বাই।
ভারতের মহারাষ্ট্রের আনার বাগানে তাদের উদ্ভাবিত টেকনোলজী ও আবহাওয়া পরিবর্তনের বিষয় নিয়ে কথা হয় বিজ্ঞানী ডক্টর রাম মুখেকরের সাথে। তার পরামর্শেই বাংলাদেশের আপেক্ষিক তাপমাত্রা আর মাটির গুনাগুন বিশ্লেষণ করে এদেশের জন্য একহাজার আনারের চারা প্রস্তুত করেন ওই বিজ্ঞানী। সেই সাথে সয়েল চার্জার টেকনোলজীর পরামর্শে ও এগ্রিমেন্টের মাধ্যমে একজন বিশেষজ্ঞ কনসালটেন্ট কৃষিবিদ হালসার মুখেকর কে নিয়োগ দেয় সংস্থাটি। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার রাঙ্গিয়ারপোতা গ্রামের আহাম্মদ আলীর ছেলে মোকাররম হোসেন সয়েল চার্জার টেকনোলজীর সাথে যৌথ ভাবে নিজ নামে গ্রিনভিসতা অপরচুনেটলি এগ্রোফার্ম গড়ে তুলেছেন।
একটি পুর্ণাঙ্গ গাছে বছরে ২থেকে ৩বার আনার ফল ধরে। বেদানার মতো দেখতে আনার ফলটি আকারে একটু বড়, রসে টয়টম্বুর ও সুস্বাদু। চারা লাগানোর জন্য মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে জৈবসার ও ছত্রাকনাশক উপাদান ব্যাবহার করে জমি প্রস্তুত করা হয়। ৫বছর বয়সী প্রতিটা গাছে ১০০ কেজি থেকে ১৫০ পর্যন্ত এই ফল ধরে। একটি গাছে ৪৫ থেকে ৫০ বছর একটানা ফল নেয়া সম্ভব। বিঘা প্রতি ১ থেকে দেড় লাখ টাকা খরচ।
গ্রিনভিসতা অপরচুনিটি এগ্রোফার্মের সিএ মোকাররম হোসেন জানান, ২০১৮ সালের রাঙ্গিয়ারপোতা গ্রামে নিজের ৫ বিঘা জমিতে আনার চাষ শুরু করেন। ভারত থেকে বাংলাদেশের আবহাওয়া ও মাটির গুনাগুন বিশ্লেষন করে বিশেষ ভাবে প্রস্তুত করা ৮০০চারা রোপন করেন।সয়েল চার্জার টেকনোলজী পরামর্শে ও তাদের নিযুক্ত কনসালটেন্টের তত্বাবধানে ২০২০ সালের প্রথম আনার গাছে ফল আসে। ওই বছরই ২লাখ ৫০হাজার টাকার ফল বাজার জাত করা হয়। সেই সাথে নিজের বাগান থেকে প্রস্তুত করা ২লাখ ৫০হাজার টাকার চারা বিক্রি করা হয়। এবছরও প্রতি গাছে থোকায় থোকায় ধরেছে আনার ফল। ধারণা করা হচ্ছে গাছ প্রতি ৩০ কেজি করে ফল হতে পারে।
তিনি বলেন, ফল বিক্রির ওপর গুরুত্ব না দিয়ে দেশে উদ্ভাবিত আনার চাষ প্রতিটা অঞ্চলে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে যাতে বাগান গড়ে ওঠে সেটাই একমাত্র লক্ষ্য। এবছর বাগানে ৫০০০ হাজার পিচ চারা প্রস্তুত রয়েছে। নিলফামারী,চাঁপাই নবাবগঞ্জ, ময়মনসিংহ,মাগুরা, নড়াইল, ঝিনাইদহ, খাগড়াছড়ি সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আনার চাষী তার কাছ থেকে তার দেয়া প্রযুক্তির মাধ্যমে চারা কিনে চাষ শুরু করতে যোগাযোগ শুরু করেছে। দেশে বাণিজ্যিক ভাবে এই চাষ শুরু হলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানীর মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব।
চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আলী হাসান জানান, ভারত-বাংলাদেশ যৌথ ভাবে রাঙ্গিয়ারপোতা গ্রামে পরিক্ষা মূলক ভাবে আনার চাষ হচ্ছে। অত্যন্ত ব্যায়বহুল আনার চাষটি এখনো চাষিদের মধ্যে ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে পড়েনি। বৈদেশিক নির্ভর ফলটি টেকনোলজী জটিলতা থাকায় চাষিদের মধ্যে কম রয়েছে। তবে আমরা গুরুত্ব সহকারে চাষটি পর্যালোচনায় রেখেছি।

 

আমাদের চুয়াডাঙ্গা/এ.এইচ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020 DailyAmaderChuadanga.com

 www.bdallbanglanewspaper.com

Design & Developed BY Creative Zoone IT