শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১, ০৯:১৫ অপরাহ্ন

শিরোনাম
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় কৃষকের লাশ উদ্ধার গাংনীতে এক কৃষককে ফাঁসানোর অভিযোগ আজ ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর দিবস ॥ সীমিত পরিসরে পালনের প্রস্তুতি উপজেলা ভাইসচেয়ারম্যান টুপি সহিদুলের কিল-ঘুষিতে বৃদ্ধ ইস্রাফিল নিহত জুয়ার আসর থেকে নগদ টাকা-জুয়াখেলার সরঞ্জামসহ গ্রেফতার-২ বেগমপুরের হরিশপুর সড়কের গাছ চুরিকালে চোর পাকড়াও দামুড়হুদার ডুগডুগী কাঁচাবাজার তদারকী করলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিলারা চুয়াডাঙ্গায় করোনা পরিস্থিতিতে ভ্রাম্যমাণ সবজি ভ্যান কার্যক্রমের উদ্বোধন গাংনীর কাজীপুরে অগ্নিকাণ্ডে ৪টি বসতবাড়ী ভস্মীভূত ॥ ১০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি ঝিনাইদহের গণিত-পদার্থ বিজ্ঞানের এক সময়ের মেধাবী ছাত্রের দিন কাটে পথে পথে

পবিত্র শবে বরাত আজ

“আলহামদুলিল্লাহ”
আজ পবিত্র শা’বান মাস আমাদের মাঝে উপস্থিত, এ পবিত্র মাসটি ইবাদতের মাস,অন্যান্য মাসের তুলনায় আমার পেয়ারা হাবিব (সাঃ) এ মাসে বেশী বেশী ইবাদাত করতেন। বিশেষ করে রাসুল (সাঃ) এ মাসে রোজা রেখে কাটাতেন।
আবু দাউদ এর এক হাদিসে এসেছেঃ মা’আয়েশা (রাঃ) বলেন, নফল রোজার জন্য অন্যান্য মাসের তুলনায় শা’বান মাস ছিল অত্যন্ত প্রিয়। অতঃপর তিনি শা’বানের রোজাকে রমজানের সাথে মিলিয়ে দেওয়া কে আর-ও বেশী পছন্দ করতেন। বায়হাকী শরীফের এক হাদীসের মধ্যে এসছেঃ হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত হুজুর (সাঃ) এরশাদ করেন, শা’বান আমার মাস, রজব আল্লাহ তায়ালার মাস, আর রমজান হচ্ছে আমার উম্মতের মাস। শা’বান মাস হচ্ছে গুনাহ সমূহ নিশ্চিহ্নকারী এবং রমজান হচ্ছে পবিত্রতা প্রদান কারী। অন্য এক হাদীসের মধ্যে এসছে, শা’বান মাস রজব এবং রমজানের মধ্যবর্তী মাস। মানুষ এর ফজিলত থেকে গাফেল অথচ এ মাসে বান্দার আমল আল্লাহ রব্বুল আলামিনের দরবারে বিশেষ ভাবে পৌঁছানো হয়।
অতএবঃ আমি পছন্দ করি যে, রোজাদার অবস্থায় আমার আমল পৌঁছানো হোক। মূলত আজকের বিষয় হচ্ছে পনেরই শা’বান অর্থাৎ বাংলা ভাষা ভাষী হিসেবে আমরা যে দিবস কে শবেবরাত বলে জানি। মূলত বরাত এর আভিধানিক অর্থ “মুক্তি লাভ” শবে বরাতে গুনাহগার গুনাহ থেকে পরিত্রাণ ও মুক্তি লাভ করতে পারে বলেই এ রাত্রীকে শবেবরাত নামে আখ্যায়িত করা হয়েছে। যা চৌদ্দতম তারিখ দিবাগত রজনীতে দিন সমাপ্তির পর সন্ধ্যা হতে এ বরকতময় রজনী শুরু হয়। তবে, কিনা এ রজনী নিয়ে বিতর্কেরও শেষ নেই। অনেকেই দাবী করে থাকেন কোরআন/হাদিসে’র মধ্যে কোথাও শবে বরাত সম্পর্কে কোন কিছু লেখা নেই। কথা সত্য যে, কোরআন /হাদিসে কোথাও শবে বরাত সম্পর্কে কিছু লেখা নেই। লক্ষ্মণীয় যে, শবে বরাত মূলত ফার্সী শব্দ, শব অর্থ রাত, বরাত একাধিক শব্দে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যেমনঃ মুক্তি, পরিত্রাণ, পবিত্র, নাজাত ইত্যাদি। এখন কথা হচ্ছে যে, শবে বরাত কোরআন/হাদিসে না থাকাটায় যুক্তি যুক্ত। কারণ ফার্সী কথা কেনইবা কোরআন/হাদিসে আসবে। আর এগুলো মূলত পারিভাষিক অর্থঃ যেমন, নামাজ, রোজা ইত্যাদি। এ কথাও তো কোরআন/হাদিসে কোথাও নেই। এখন যদি পারিভাষিক অর্থ কে মুস্তাহাব, সুন্নাত, ওয়াজিব, ফরজ মনে করি তবে অবশ্যই এর জন্য দলিল প্রমাণ দরকার। যাইহোক হাদীসের ভাষায় শবে বরাত কে ‘লাইলাতু নিসফে মিং শা’বান’ বলা হয়ে থাকে। এর অর্থ আবার এটা মনে না করা যে এই নামে ডাকা যাবে না। কিংবা নাজায়েজ বা হারাম। বরং কোরআন/হাদীসের ভাষায় ডাকা উত্তম। এ রাত্রির ব্যাপারে দলিল হিসেবে প্রায় পনের জন সাহাবীর থেকে শবে বরাত পালনের দলিল পাওয়া যায়।
উল্লেখ যোগ্য হযরত আবু বক্বর (রাঃ) হযরত ওমর (রাঃ) হযরত আলী (রাঃ) হযরত আবু মুসা আসয়ারী (রাঃ) এর মতো জলীল ক্বদর সাহাবীগণ এবং তাবেয়ী গণের মধ্যে থেকেও পনের শত হিজরী পর্যন্ত শবে বরাত পালনের দলিল পাওয়া যায়। তবে, এই শবে বরাত নিয়ে আমাদের সমাজে দু’টো দল পাওয়া যায়। একদল পাওয়া যায় বাড়াবাড়ী, আরেক দল পাওয়া যায় ছাড়াছাড়ী, অনেকেই এই রজনীকে উৎসব মনে করে হালুয়া রুটি, খিচুড়ি, ক্ষীর,পায়েস, পটকা বাজি, আলোকসজ্জা ইত্যাদিতে মেতে উঠে। আবার অনেকে চাঁদাবাজী করে বাজার করে রান্না খাওয়ার আয়োজন করে। মুল উদ্দেশ্য ইবাদত থেকে মাহ রুম হয়ে থাকে।
অথচ এটা ছিল ইবাদতের রাত। এর দ্বারা আমি ক্ষতিগ্রস্ত হলাম আর ইবলিশ লাভবান হয়ে গেল। আর এ বরকতময় রজনীতে পারলৌকিক জীবনের লাভজনক ব্যবসার এক সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে।
মেশকাত শরীফের এক হাদীসের মধ্যে এসছে, হজুর (সাঃ) মা’ আয়েশা (রাঃ) কে সম্বোধন করে বলেন, তুমি কি জান এ রাত্রিতে অর্থাৎ বরাতের রাত্রিতে কি রয়েছে? হযরত আয়েশা(রাঃ) বলেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ (সাঃ) দয়া করে বলুন এ রাত্রীতে কি রয়েছে?
হুজুর (সাঃ) বলেন- আগামী বৎসর যত আদম সন্তান জন্ম নিবে এবং মৃত্যু বরণ করবে তাঁদের নাম লিপিবদ্ধ করা হবে। এ রাত্রীতে বিশেষভাবে বান্দার আমলনামা আল্লাহর দরবারে পেশ করা হবে এবং তাদের রিজিক অবতীর্ণ করা হবে।
হযরত আয়েশা রাঃ বলেন- ইয়া রাসুলুল্লাহ সাঃ যখন বছরের শুরুতেই আগামী বৎসর এর ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে যায় তবে মনে হয় আল্লাহর বিশেষ রহমত ছাড়া কেহই জান্নাতে যেতে পারবে না।
রাসুল সাঃ একই বাক্য তিন বার উচ্চারণ করে জবাব দিলেন হ্যাঁ। আমি বললাম আপনিও না? ইয়া রাসুলুল্লাহ সাঃ! তখন হুজুর সাঃ নিজের পবিত্র মাথায় পবিত্র হস্ত ধারণ করে জবাবে তিন বার বললেন হ্যাঁ আল্লাহ তায়ালার খাস রহমত যদি আমাকে বেষ্টন করে না লয় তবে আমিও বেহেশতে যেতে পারব না। পরিশেষে রাসুল (সাঃ) এর হাদীস থেকে যে, কথা আমাদের পর্যন্ত এসে পৌঁছেছে শবে বরাত আছে; শবে বরাতের আমলও আছে চৌদ্দ তারিখ দিন গত রাতে ইবাদত আর পনের তারিখ দিনে রোজার কথা এসছে। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে সহিহ হাদিস জেনে বুঝে আমল করার তৌফিক দান করুন। “আমিন”

 

 

লেখক,
জাহিদ হাসান,
ইমাম বায়তুল মা’মুর জামে মসজিদ,
কলেজ রোড, চুয়াডাঙ্গা।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020 DailyAmaderChuadanga.com

 www.bdallbanglanewspaper.com

Design & Developed BY Creative Zoone IT