মঙ্গলবার, ২৭ Jul ২০২১, ০৪:২১ পূর্বাহ্ন

মেহেরপুরে অবৈধ ওষুধের রমরমা ব্যবসা

বিশেষ প্রতিনিধি, মেহেরপুর:
মেহেরপুর শহরের বিভিন্ন ফার্মেসিতে অবাধে বিক্রি হচ্ছে পেন্ট্রাডল, টাপেন্টা, সিন্টাডল, ওমরফোন, লেপেনট্রা সহ বিভিন্ন ব্যথানাশক ওষুধ ।
আইন অনুযায়ী রেজিঃ চিকিৎসকের পরামর্শ বা অনুমতি পত্র ছাড়া কোন ঔষধ বিক্রি নিষিদ্ধ থাকলেও ওষুধ ব্যবসায়ীরা এ আইনের কোন তোয়াক্কা করছে না। মাদকসেবীদের কাছে ইয়াবার পরিবর্তে এসব ট্যাপেন্টা, সিন্টাডল অবাধে বিক্রি করে যাচ্ছে ফার্মেসিগুলোতে। গাঁজা হেরোইন ইয়াবা ফেন্সিডিলসহ সর্বশেষ ওমরফোন পেন্টাডল টাপেন্টা ট্যাবলেট এখন মাদক হিসেবে মেহেরপুরের মাদকসেবীদের কাছে বেশ পরিচিত। আর এসব ওষুধ দিয়ে চলছে মাদক সেবীদের মাদক সেবনের কাজ।
সরকার এসব ওষুধ উৎপাদন বন্ধ করলেও শহরের বিভিন্ন ফার্মেসিতে এসব ওষুধ বিক্রি হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মেহেরপুর শহরের হোটেল বাজার, লর্ডমার্কেট, হাসপাতাল গেট, কাথুলী সড়কে ১৫-২০ টাকা মূল্যের এসব ব্যথানাশক ওষুধ ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় মাদক সেবীদের কাছে বিক্রি করছে। আর প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিতে কৌশল অবলম্বন করে প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় শুধুমাত্র পরিচিত মাদক সেবীদের কাছে এসব ঔষুধ বিক্রি করা হয় ।
মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ডাঃ মোখলেছুর রহমান জানায়, এসব ব্যথানাশক ঔষধ মারাত্মক ব্যাথার প্রতিরোধক হিসেবে খুবই ভালে কাজ করে। হার্ট অ্যাটাক ও যক্ষার মতো মারাত্মক ব্যাধির ব্যাথা নিমিষে ভুলিয়ে দেয়।
মেহেরপুর তাহের ক্লিনিকের মেডিকেল অফিসার এসএম আরাফাত আকাশ বলেন, “হার্ট অ্যাটাক ক্যান্সারসহ মারাত্মক ব্যথার প্রতিশোধক হিসেবে এসব ওষুধ খুব ভালো কাজ করে, কিন্তু এসব ওষুধ অতিরিক্ত সেবন করলে এগুলোর প্রতি এডিক্টেড হয়ে পড়বে।
এ বিষয়ে মেহেরপুর ঔষধ ব্যবসায়ী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির দায়ত্বশীল এক ব্যক্তি জানান, সরকার এসব ঔষধ বিক্রি বন্ধ ঘোষণা করলেও আমাদের ক্রয় কৃত ঔষধ কোম্পানি ফেরত না নেওয়াই কেউকেউ ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করছে।
মেহেরপুর জেলার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক আব্দুল মান্নান জানান, টাপেন্টা সিনটা পেন্টাডল লোপেন্টা সহ বিভিন্ন ব্যথানাশক ঔষধ ইয়াবা ও হেরোইন এর মত সেবন করার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এসব ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ফেনসিডিল গাঁজা ইয়াবা ও হেরোইন এর চেয়েও তীব্র এবং ভয়ঙ্কর। দাম কম ও সহজলভ্য হাওয়াই এর প্রভাব বাড়ছে মাদকের উপাদান হিসাবে। এভাবে বাড়লে মাদক নির্মূল করা সম্ভব হবে না বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।
মেহেরপুর সদর থানার ওসি শাহদারা খান জানান, মাদকের বিষয়ে আমরা সবসময় জিরো টলারেন্স রয়েছি। প্রতিনিয়ত পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, গতবছর ৮ই জুলাই মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন তফসিলভুক্ত করা হয়েছে ব্যথানাশক ট্যাপেন্টা জাতীয় ঔষধ মাদকের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা একে খ শ্রেণীর মাদকদ্রব্য হিসাবে ঘোষণা করেছে সরকার। এসিআই এর লোপেন্টা, স্কয়ারের পেন্টাডল অপসোনিনের টাপেন্টাডল এসকেএফ এর ট্যাপেন্টা যেগুলো মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ ‘খ’ ৬৫ ধারা মোতাবেক আইনে মামলা দায়ের করা যাবে বলে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে।

 

 

কামাল হোসেন খাঁন/এ.এইচ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020 DailyAmaderChuadanga.com

 www.bdallbanglanewspaper.com

Design & Developed BY Creative Zoone IT