রবিবার, ২৫ Jul ২০২১, ০৭:৪৬ অপরাহ্ন

জীবননগরে বিক্ষুদ্ধ গ্রামবাসীর হামলায় আহত ইউএনও অবরুদ্ধ ॥ থানায় মামলা দায়ের

জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি:

জীবননগর উপজেলার কাটাপোল গ্রামে ইটভাটার মাটি টানা ট্রাক্টরের চাকায় পিষ্ট হয়ে অহিদুল বিশ্বাস (৪০) নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় সাইকেলে থাকা স্ত্রী প্রাণে বাঁচলেও সাইকেলে থাকা শিশু পুত্র ইয়াছিন বিশ্বাস (৭) মারাত্মক আহত হয়েছে।
ঘটনা পরিদর্শনে গেলে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসীর হামলার শিকার হন উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম মুনিম লিংকন। তিনি গ্রামবাসীর হামলার শিকার হয়ে পালিয়ে একটি বাড়ীতে আশ্রয় নেয়। এসময় আহত ইউএনওকে ওই বাড়ীতে অবরুদ্ধ করে রাখে গ্রামবাসী। ইউএনওকে উদ্ধার করতে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ওসি সাইফুল ইসলাম ও হাসাদাহ ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম বিশ্বাস এবং জীবননগর ভুমি অফিসের সার্ভয়ার ইকতিয়ার হোসেন আহত হয়।
চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের একটি বিশেষ টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ইউএনওকে উদ্ধারের পর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বাসভবনে এনে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে তিনি আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সেলিনা আখতার সুমি।
এদিকে খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবু তারেক এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জাহাঙ্গীর আলম ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে যান। বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে আছে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা মর্গে প্রেরণ করেছে।
মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) বেলা ১২টায় উপজেলার কাটাপোল দক্ষিণপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত অহিদুল বিশ্বাস (৪০) ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার শংকরহুদা বাতানগাছী গ্রামের মৃত শমসের বিশ্বাসের ছেলে।
আহত ইউএনও এসএম মুনিম লিংকনকে দেখতে  মঙ্গলবার সন্ধায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার ও চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ সাদিকুল রহমান তার বাস ভবনে যান।
এলাকাবাসী জানান, কাটাপোল গ্রামের মাঠ হতে মাটি ও বালি উত্তোলন করে দেদারছে ইটভাটায় বিক্রি করছে একটি মহল। এ মাটি নেওয়াকালে প্রতিদিন অর্ধশত ট্রাক্টর ওই রাস্তা দিয়ে বেপরোয়া গতিতে চলাচল করে। এ নিয়ে এলাকাবাসী চরম বিক্ষুদ্ধ ছিলেন। এর প্রতিকার চেয়ে গ্রামবাসী প্রশাসনের নিকট আবেদন করে। আবেদনের প্রেক্ষিতে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম মুনিম লিংকন ৪ দিন আগে ২ জন ট্রাক্টর চালককে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এ অবস্থার মধ্যে ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার শংকরহুদা-বাতানগাছী গ্রামের অহিদুল বিশ্বাস (৪০) তার স্ত্রী ও ৭ বছরের শিশু সন্তান ইয়াছিন বিশ্বাসকে নিয়ে বাইসাইকেলযোগে শ্বশুরবাড়ী জীবননগর উপজেলার নতুন চাকলা থেকে মিনাজপুর গ্রামের ভাইরাভায়ের বাড়ীতে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে কাটাপোল গ্রামে দক্ষিণপাড়ায় তারা পৌঁছালে ট্রাক্টরের ধাক্কায় পিতা-পুত্র আহত হয়। দূর্ঘটনায় অহিদুল বিশ্বাসের মাথার ঘিলু বের হয়ে যায়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে অহিদুল ইসলামের মৃত্যু হয়। এদিকে ছেলে ইয়াছিনের দূর্ঘটনায় একটি পা ভেঙ্গে যায়। তাকে উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিক্ষুদ্ধ গ্রামবাসী সড়ক অবরোধ করে রাখে। খবর পেয়ে ইউএনও মুনিম লিংকন ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বিক্ষুদ্ধ জনতা তার ওপর হামলা চালায় ও ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। ইটের আঘাতে তার মাথা রক্তাত্ত জখম হয়। এসময় প্রাণ বাঁচাতে ইউএনও দৌঁড় দিলে প্রায় আধা কিলোমিটার পথ ধাওয়া করে নিয়ে যায় বিক্ষুব্ধ জনতা। নিজেকে বাঁচাতে আহত ইউএনও জনৈক জমিরের বাড়ীতে ঢুকে নিজেকে রক্ষা করেন। বিক্ষুদ্ধ জনতা সেখানেও হামলা চালালে ওসি সাইফুল ইসলাম ও হাসাদাহ ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম বিশ^াস পরিস্থিতি সামাল দিতে গেলে তারাও আহত হন।
জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম মুনিম লিংকন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাবার পর গাড়ী থেকে নামার সাথে সাথে দু’শতাধিক লোক তাকে ঘিরে ধরেন। এসময় বিক্ষুদ্ধ জনতা তার ওপর হামলা চালায়। তিনি প্রাণ বাঁচাতে দৌঁড় দিলে বিক্ষুব্ধ লোকজন ইউএনওকে লক্ষ করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এসময় একটা ইট তার মাথায় লাগে মাথা থেকে রক্ত বের হওয়া শুরু হয়। অবস্থার ভয়াবহতা বুঝতে পেরে তিনি পার্শবর্তী জমির উদ্দিনের বাড়ীতে আশ্রয় নেন। এসময় বিক্ষুব্ধ লোকজন ওই বাড়ীতেও হামলা চালায়।
জীবননগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী হাফিজুর রহমান দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষুব্ধ লোকজনকে শান্ত করেন এবং অবরুদ্ধ থাকা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে কৌশলে উদ্ধার করে তার বাসভবনে নিয়ে আসেন।
জীবননগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী হাফিজুর রহমান জানান, তিনি খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন তিন শতাধিক মানুষ ইউএনওকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। বিক্ষুব্ধ লোকজন খুবই উত্তেজিত ছিলো। আমি কৌশলে ইউএনওকে উদ্ধার করে তার বাসভবনে নিয়ে আসি এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করি।
জীবননগর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয় ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর ৫ মিনিট আগে আমি ওখানে পৌঁছায়। আমি বিক্ষুব্ধ লোকজনকে শান্ত করার চেষ্টা করি। এসময় ইউএনও মহোদয় গাড়ী থেকে নামার পরই উত্তেজিত লোকজন তাঁর উপর হামলা চালান। এ ঘটনায় জীবননগর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020 DailyAmaderChuadanga.com

 www.bdallbanglanewspaper.com

Design & Developed BY Creative Zoone IT