বুধবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২২, ০৮:০৮ পূর্বাহ্ন

অবৈধ গর্ভপাত করিয়েও শেষ রক্ষা হলো না ক্লিনিক ব্যবসায়ী জুলফিকারের : অবশেষে ধর্ষণ মামলা দায়ের

 মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি:

ঝিনাইদহের মহেশপুর থানাধীন খালিশপুর বাজারে গ্রামীণ প্রাইভেট হাসপাতালের সাবেক নাম মুক্তি ক্লিনিক এন্ড ডায়াগস্টিক সেন্টার এর মালিক মোঃ জুলফিকার আলী ( ৪০) এর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। অঞ্জলি (২০) ছদ্মনাম।

ওই ক্লিনিকের এক আয়াকে ধর্ষনের দায়ে কোটচাঁদপুর থানায় একটা অভিযোগ দায়ের করলেও ঘটনা মহেশপুর থানা এরিয়ায় হাওয়ায় ওখানে পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলে একটি সুত্র জানিয়ে।

এ বিষয়ে ধর্ষিতা নিজেই বাদী হয়ে এই অভিযোগ দায়ের করেছে। বাদী তার জবান বন্দীতে বলেন আমি গত দুই বছর আগে খালিশপুরে অবস্থিত গ্রামীণ প্রাইভেট ক্লিনিকে আয়া পদে চাকরিতে যোগ দেই। ক্লিনিক মালিক জুলফিকার আলী চাকরির সুবাদে বিভিন্ন সময় আমাকে কুপ্রস্তাব দেন। আমি তার কুপ্রস্তাবে রাজী না হলে চাকরি ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেয়। পরিবার সুত্রে গরীব অসহায় হওয়াই। অনেক কিছু মুখ বুজে সহ্য করে নেয়। অত্যাচার ও কুপ্রস্তাবের মাত্রা বেড়ে গেলে চাকরি ছেড়ে চলে আসি। তবুও জুলফিকার আমার পিছু ছাড়েনি। সে বিভিন্ন সময় আমাকে ফোন করে বিয়ের প্রস্তাব দেন। এক কায়দায় আমি তার প্রস্তাবে রাজী হয়ে যাই। পরে তিনি বিভিন্ন সময় আমাকে ফোন করে তার নিজ প্রতিষ্ঠানে ডেকে এনে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়। শারীরিক সম্পর্কের এক পর্যায়ে আমি পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ি। আমার শরীরের গঠন ও পেট উচু হওয়ার এক পর্যায়ে আমি জুলফিকার কে সব খুলে বলি এবং ডাক্তার এর শরনাপন্য হলে আল্টাসনো রিপোর্টে বাচ্চার সম্পর্কে নিশ্চিত হয়। এই খবর জুলফিকার কে বললে তিনি প্রথমে আমার উপর ক্ষিপ্ত হনে যান। পরে তিনি বিভিন্ন কায়দায় আমাকে বলেন পেটের বাচ্চাটা নষ্ট করে ফেলতে, আমি তার প্রস্তাবে রাজী না হলে এক সময় বলেন আমার ক্লিনিকের অর্ধেক অংশিদারি লিখে দেব। এবং আমাকে বিয়ে করবে। পরে তিনি কোটচাঁদপুর মাহাবুবা ডায়াগস্টিক সেন্টর ও প্রাইভেট ক্লিনিকে কর্মরত নার্স তাসলি বেগম কে বলে আমাকে ঔষধ এর মাধ্যমে এ্যাবাসন করিয়ে মৃত বাচ্চা ও ডাক্তারি রিপোর্ট ছিনিয়ে নিতে চাই এবং আমাকে প্রানে মেরে ফেলার হুমকি দেন। পরে সাইফুল নামের এক সাংবাদিক এর সাহায্য নিয়ে কোটচাঁদপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়। এবং মহেশপুর থানায় ৭-৩-২০২১ ইং-তাং অভিযোগ দায়ের করি।

এ ব্যাপারে অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা তদন্ত ওসি মোঃ রাশেদুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বিকার করে বলেন থানায় একটা অভিযোগ হয়েছে বাদীর উন্নত চিকিৎসা জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং আসামী কে গ্রেফতারের জন্য আইনি প্রক্রিয়া চলছে। তদন্ত শেষ না হাওয়া পযন্ত মামলার ব্যাপারে বেশি কিছু বলা সম্ভব না। এদিকে বিয়ষটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক হৈ চৈ পড়ে একটি আলোড়নের সৃষ্টি হওযায় ক্লিনিক মালিক জুলফিকার মোবাইল ফোন বন্দ করে এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছে। অপর দিকে তার ব্যবহিত ০১৭১১২০৩৯৩৬ নং মোবাইল নাম্বারটি বন্ধ থাকায় তার সাথে বার বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি যার কারণে তার কোন বক্তব্য দেওয়া সম্ভব হয়নি।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020 DailyAmaderChuadanga.com এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি