সোমবার, ১৯ এপ্রিল ২০২১, ১০:১১ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় কৃষকের লাশ উদ্ধার গাংনীতে এক কৃষককে ফাঁসানোর অভিযোগ আজ ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর দিবস ॥ সীমিত পরিসরে পালনের প্রস্তুতি উপজেলা ভাইসচেয়ারম্যান টুপি সহিদুলের কিল-ঘুষিতে বৃদ্ধ ইস্রাফিল নিহত জুয়ার আসর থেকে নগদ টাকা-জুয়াখেলার সরঞ্জামসহ গ্রেফতার-২ বেগমপুরের হরিশপুর সড়কের গাছ চুরিকালে চোর পাকড়াও দামুড়হুদার ডুগডুগী কাঁচাবাজার তদারকী করলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিলারা চুয়াডাঙ্গায় করোনা পরিস্থিতিতে ভ্রাম্যমাণ সবজি ভ্যান কার্যক্রমের উদ্বোধন গাংনীর কাজীপুরে অগ্নিকাণ্ডে ৪টি বসতবাড়ী ভস্মীভূত ॥ ১০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি ঝিনাইদহের গণিত-পদার্থ বিজ্ঞানের এক সময়ের মেধাবী ছাত্রের দিন কাটে পথে পথে

দামুড়হুদায় রাতের আঁধারে ফসলী জমির মাটি যাচ্ছে অবৈধ ইটের ভাটায়ঃ ভূমি দস্যুদের কাছে প্রশাসন অসহায়!

দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি:

দামুড়হুদা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে রাতের আঁধারে প্রশাসনের চোখে ধুলা দিয়ে ফসলী জমি থেকে মাটি কেটে বিভিন্ন অবৈধ ইটের (ভাটা) নেওয়া হচ্ছে। ভূমি দস্যুদের কাছে যেন প্রশাসন অসহায়। অবাধে ফসলী জমি কাটার উৎসবে কৃষি জমি বিলুপ্তির পাশাপাশি জমি হারাচ্ছে তার প্রাণ শক্তি। স্কেভেটর দিয়ে ফসলী জমির ১০-১৫ ফুট অংশ কেটে বেপরোয়া গতিতে অবৈধ ট্রাক ও ট্রাকচালক নিয়ে যাচ্ছেন অবৈধ ইটের ভাটাসহ বিভিন্ন স্থাপনা ভরাট কাজে। এতে করে নষ্ট হচ্ছে শত শত বিঘা অসহায় কৃষক পরিবারের ফসলী জমি। বেপরোয়া গতিতে অবৈধভাবে ট্রাকে করে অতিরিক্ত মাটি বহনের ফলে নষ্ট হচ্ছে মহাসড়কসহ গ্রামীণ জনপদের রাস্তা। রাতের আঁধারে জমির মাটি যাচ্ছে ইট ভাটায়
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, দামুড়হুদা সদর উপজেলার নাপিতখালী-বদনপুর, মুক্তারপুর গ্রামের বিভিন্ন মাঠ, কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের খ্রিষষ্টান কবর স্থান সংলগ্ন মাঠ, চন্দ্রবাস, নতিপোতা ইউনিয়ন’র বিভিন্ন গ্রামের মাঠ, জুড়ানপুর ইউনিয়ন বেশ কিছু গ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে চলছে ফসলী জমি থেকে মাটি কাটার উৎসব। গত একমাস ধরে সন্ধ্যা ৭টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মাটি কাটা চলছে। উপজেলাতে মোট ইট ভাটার সংখ্যা রয়েছে ২৯টি যার মধ্যে বেশীর ভাগ ইটের ভাটা অবৈধ। উপজেলার সকল ইটের ভাটাতে মাটির চাহিদা পূরণ করতে কৃষিজমি থেকে মাটি নেওয়া হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। নিজের জমির মাটি নিজে না কাটলেও মাটি ব্যবসায়ীরা অসহায় কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে লোভ দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে জমির কোন ক্ষতি হবেন না বলে কাঠাপ্রতি জমির মাটি কিনে নেন ১০ থেকে ২৫ হাজার টাকায়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ ক’একজন কৃষক বলেন, মাটি ব্যবসায়ীরা তাদের মাটি বেচার ব্যাপারে উৎসাহিত করছেন। মাটি ব্যবসায়ীরা সাধারণ কৃষকদের বলছেন, জমির কোন ক্ষতি হবে না। জমি কেটে গর্ত হলেও তা বর্ষা মৌসুম এলে আবার মাটি পূরণ হয়ে ফসল ফলাতে পারবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ব্যবসায়ী বলেন, কৃষকদের যে জমিতে চাষবাদ হয় না, বা পুকুর খনন করছেন সেসব জমির মাটিগুলো আমাদের কাছে বিক্রি করে থাকেন। আমরা মাটিগুলো কিনে ইটের ভাঁটাসহ ভিটা বাড়ীতে ভরাটের কাজে বিক্রি করে থাকি।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মনিরুজ্জামান দৈনিক আমাদের চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, মাটির উপরিভাগের ১০-১৫ ইঞ্চির মধ্যে উর্বরতা শক্তি থাকে না। অবাধে ফসলী জমি কেটে বিক্রি করার জন্য তা পুনঃরায় ফিরে আসতে সময় লাগে।
এছাড়াও মাটির এই অংশে যে কোন ফসল বেড়ে উঠার গুণাগুণ সুরক্ষিত থাকে না। যা মাটি কাটার ফলে গুণাগুণ হারিয়ে ফেলে। বীজ রোপনের পর থেকেই ফসল তার প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদান গ্রহণ করে বেড়ে উঠে। এটাকে টপ সয়েল বলে। এ টপসয়েল একবার কেটে গেলে জমি তার প্রাণ হারিয়ে ফেলে।

এ.এইচ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020 DailyAmaderChuadanga.com

 www.bdallbanglanewspaper.com

Design & Developed BY Creative Zoone IT