রবিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২১, ১১:০৩ অপরাহ্ন

শিরোনাম
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় কৃষকের লাশ উদ্ধার গাংনীতে এক কৃষককে ফাঁসানোর অভিযোগ আজ ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর দিবস ॥ সীমিত পরিসরে পালনের প্রস্তুতি উপজেলা ভাইসচেয়ারম্যান টুপি সহিদুলের কিল-ঘুষিতে বৃদ্ধ ইস্রাফিল নিহত জুয়ার আসর থেকে নগদ টাকা-জুয়াখেলার সরঞ্জামসহ গ্রেফতার-২ বেগমপুরের হরিশপুর সড়কের গাছ চুরিকালে চোর পাকড়াও দামুড়হুদার ডুগডুগী কাঁচাবাজার তদারকী করলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিলারা চুয়াডাঙ্গায় করোনা পরিস্থিতিতে ভ্রাম্যমাণ সবজি ভ্যান কার্যক্রমের উদ্বোধন গাংনীর কাজীপুরে অগ্নিকাণ্ডে ৪টি বসতবাড়ী ভস্মীভূত ॥ ১০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি ঝিনাইদহের গণিত-পদার্থ বিজ্ঞানের এক সময়ের মেধাবী ছাত্রের দিন কাটে পথে পথে

মেহেরপুর গাংনীর বামন্দী হৃদয় ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সবই ভূয়া

 বিশেষ প্রতিনিধি:

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বামন্দী এলাকায় সরকারী নিয়ম নীতি উপেক্ষা করে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে শতাধিক বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার।
বামুন্দী এলাকার অধিকাংশ ক্লিনিকের ব্যবসা চলে ডাক্তার ছাড়া। ক্লিনিকগুলো চালানো হয় হাতুড়ে ডাক্তার দিয়ে।নেই কোনো প্রশিক্ষিত নার্স।অপারেশনের জন্য রোগী এলে আশপাশের হাসপাতাল থেকে ডাক্তার এনে চিকিৎসাসেবা দেয়া হয়।

এক্ষেত্রে প্রায়ই রোগীর মৃত্যুসহ বিভিন্ন ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে।তার পরও স্বাস্থ্য বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর মদতে কিছু সংখ্যক অনুমোদন পেয়েছে এসব প্রতিষ্ঠান।তাদের মদতেই চিকিৎসাসেবার নামে রমরমা প্রতারণা ব্যবসা করছে প্রতিষ্ঠানগুলো।

গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও মেহেরপুর সিভিল সার্জনের নাকের ডগায় বিধিবহির্ভূত ও মানহীন এসব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে উঠেছে।কিন্ত এগুলোর তদারকি বা মান নিয়ন্ত্রণে নেই কোনো কার্যকর পদক্ষেপ।ফলে চিকিৎসা পাওয়ার বদলে প্রতারিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

সরজমিনে গাংনী উপজেলার বামন্দীর হৃদয় ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে দেখা যায়,কোনো এমবিবিএস ডাক্তার নেই।এমনকি কোনো প্রশিক্ষিত নার্স,ডিপ্লোমা টেকনোলজিস্টও নেই।একজন হাতুড়ে ডাক্তার দিয়েই চলে সার্বক্ষণিক সেবা।গ্রামের অসহায় দরিদ্র মানুষদের জিম্মি করে উন্নত সেবা দেয়ার নামে এসব ক্লিনিকগুলো দিনের পর দিন চালিয়ে যাচ্ছে অবৈধ ব্যবসা।
স্থানীয়রা জানান,হৃদয় ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সবই ভুয়া।নামে মাত্র বিভিন্ন ডাক্তারের পরিচয় ব্যবহার করে সাইন বোর্ড টাঙ্গানো হয়েছে ক্লিনিকের সামনে।দুই ছেলে ও ছেলের বউ দিয়ে চলছে ক্লিনিকের সকল কার্যক্রম।

স্থানীয়রা আরো বলেন,বামন্দী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিসের বিপরীত পাশে বিনারুল ইসলামের তিনতলা ভবনের প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় পরিচালিত হতো মাহি ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার।৩/৪ মাস আগে মাহি ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের স্থান পরিবর্তন করে।

এরপর থেকে বিনারুল ইসলাম ক্লিনিকের সরঞ্জামাদি ক্রয় করে নিজেই ওই ভবনে পরিচালনা করছে হৃদয় ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার।সরকারি বিধি বিধান না মেনেই কোন রকম অনুমতি ছাড়াই চলছে এই ক্লিনিক।

বিনারুল ইসলাম এর ছেলে বিলাত ফেরত নাহিদ হাসান রাজু নিজেকে ডাক্তার পরিচয় দিয়ে ওই ক্লিনিকে চিকিৎসা দিয়ে চলেছেন,আলট্রাসনো করছেন।শুধু তাই নয় নিজের ফেসবুক টাইম লাইনে আলট্রাসনো করার ছবি পোস্ট করেছে এবং নিজেকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজে ডাক্তারি পড়াশোনা করেছে বলেও উল্লেখ করেছে প্রোফাইলে।
এমন অভিযোগে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়।বিনারুল ইসলাম তার মেজ ছেলে জাহিদ হাসান রাজাকে দিয়ে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট এর কাজ করা হচ্ছে। এছাড়াও দুই ছেলের দুই বউকে দিয়ে নাসের কাজ করানো হচ্ছে।

স্থানীয়রা বলছেন,চিকিৎসা একটি সেবামূলক পেশা।এখানে মানুষ জীবন বাঁচানোর তাগিদে বিপদে পড়ে আসে।কিছু অসাধু লোক নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য মানুষের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে দিনে দুপুরে ডাকাতি করছে।এর ফলে একদিকে ক্লিনিকগুলোর প্রতি মানুষের ঘৃণা বাড়ছে পাশাপাশি মানুষের জীবনেরও ঝুঁকি বাড়ছে।প্রত্যেকটি ক্লিনিকে অনুসন্ধান চালিয়ে অসাধু ক্লিনিক ব্যবসায়ীদের প্রতি আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছে সচেতন মহল।

ডাক্তার পরিচয় ধারী নাহিদ হাসান রাজু চিকিৎসা দেওয়ার কথা অস্বীকার করেন।নিজের ফেসবুক টাইম লাইনে ছবি পোস্টসহ তার ফেসবুক প্রোফাইলে ডাক্তার পরিচয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে গড়ি মসি করতে শুরু করে।
ক্লিনিকের মালিক বিনারুল ইসলাম বলেন,আমার ছেলে নাহিদ হাসান রাজু কোনো ডাক্তার না।সার্বক্ষণিক কোনো এমবিবিএস ডাক্তার নেই।তবে ডিপ্ললোমা নার্স ও পার্টটাইম টেকনিশিয়ান আছে।
গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ রিয়াজুল আলম জানান,এমবিবিএস ডাক্তার ছাড়া যদি কোন ক্লিনিক চলে বা ভূয়া ডাক্তার থাকে তদন্ত ও পর্যবেক্ষণ করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মেহেরপুর সিভিল সার্জন ডা. মোঃ নাসির উদ্দিন জানান খুব শীঘ্রই এইসকল ক্লিনিক বন্ধ করা হবে ,এমবিবিএস ছাড়া কেউ ডাক্তার লিখতে পারবে না।যদি কেউ লিখে থাকে সে মানুষের সাথে প্রতারণা করছে।আমরা তদন্তকরে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেব।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020 DailyAmaderChuadanga.com

 www.bdallbanglanewspaper.com

Design & Developed BY Creative Zoone IT