সোমবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২২, ০৭:০৭ অপরাহ্ন

শিরোনাম

আমি চিৎকার করিয়া কাঁদিতে চাহিয়া, করিতে পারিনি চিৎকার

★ছোট্ট একটি গল্প★

আমি একসময়ে আমার এক ছেলেকে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করাতে গিয়েছিলাম। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ছিলেন আওয়ামীলীগ মনোনীত। তিনি ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন শিক্ষক হিসেবে ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ে বহাল তবিয়তে চাকুরীতে ছিলেন। শুনেছি খান সেনাদের সাথে তাঁর যথেষ্ট দহরম মহরম ছিল। সেদিন দর্শন প্রার্থীদের কক্ষে ভিসি সাহেবের সাথে দেখা করার জন্য অপেক্ষা করছি। দেখছি ছাত্রলীগ নেতারা একের পর এক ভর্তির নানা তদবীর নিয়ে তাঁর চেম্বারে ঢুকছেন, হাসি মুখে বের হয়ে আসছেন। প্রায় এক ঘন্টা পর ভিসি সাহেবের চেম্বারে ঢোকার অনুমতি মিললো। আমাকে দেখেই বললেন, ও তুমি মুক্তিযোদ্ধা। বললাম হ্যা। সেই সাথে আমার আগমনের কারন হিসেবে জানালাম, মুক্তিযোদ্ধা কোঠায় আমার ছেলেকে ভর্তির বিষয়টি। তিনি কটাক্ষ করে নানা অশোভন কথা আমাকে শোনালেন। লজ্জায় সাদা মুখ কালো হয়ে গেল। চেম্বার থেকে বের হয়ে অপেক্ষমান ছেলের সামনে দাঁড়াতেই আমার কালো মুখ দেখে অনুধাবন করে নিল সবকিছু। পায়ে পায়ে কিছু পথ চলার পর ছেলেকে ছোট্ট শব্দে বলেছিলাম, “বাবা আক্কেল সেলামি পেয়ে গেছি”। তখন ছেলে প্রতিবাদের শুরে বলেছিল, বাবা নিজেকে আর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে কোথাও পরিচয় দিবেনা। এরপর থেকে ছেলেমেয়েরা বাবাকে অপমান করতে, অসম্মানিত হতে দেখতে চায়না। ছেলে মেয়েরা মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা বাবার প্রতি ভক্তি শ্রদ্ধাবোধ দেখালেও তারা কখনো ব্যবসা বাণিজ্য, শিক্ষা, কর্ম জীবনে কোনদিন মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় ব্যবহার করেনা। আমি কষ্ট পাই। মনের মাঝে প্রশ্ন জাগে এমন একটি স্বাধীন বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য কি মুক্তিযুদ্ধ জীবন বাজী রেখেছিলাম? মৃত্যু শপথ নিয়ে,সশস্ত্র লড়াইয়ে অংশ গ্রহন করেছিলাম?

★নানা প্রতিকুলতার মাঝে
আমরা এখন অন্ধকারে মুখ লুকাই,
লজ্জায় মাথা নত হয়ে যায়
জনতাকে কি দিয়ে বুঝাই।★

 

 

লেখক:

বীর মুক্তিযোদ্ধা, আবুল বাশার

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020 DailyAmaderChuadanga.com এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি