মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১, ০৮:৩৫ অপরাহ্ন

শিরোনাম
চুয়াডাঙ্গায় ২১ বীর মুক্তিযোদ্ধা পুলিশ পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার সামগ্রী প্রদান ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে অবৈধভাবে প্রবেশের দায়ে দালালসহ আটক-২৮ ঝিনাইদহের মহেশপুরে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন এমপি চঞ্চল কালীগঞ্জে মসজিদের ইমামদের আর্থিক অনুদান প্রদান ডিজিটাল বাংলাদেশের নাগরিক সেবায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি চুয়াডাঙ্গায় আলমসাধুর ধাক্কায় ৪ বছরের শিশুর মৃত্যু লক্ষ্যকোটি মানুষের ভালোবাসার মাঝে, সর্বোচ্চ মা’য়ের ভালোবাসা- আলী মুনছুর বাবু চুয়াডাঙ্গায় মুড়ি প্রস্ততকারী মেসার্স ইনসাফ ট্রেডার্সকে জরিমানা চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় বোরো ধান চাল সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধন পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন  শেখ নজরুল ইসলাম

করোনা থাকুক না থাকুক আজ বিশ্ব ভালােবাসা দিবস ও পহেলা ফাল্গুন

 কামাল হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধি :

কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় লিখেছিলেন, ফুল ফুটুক না ফুটুক আজ বসন্ত। সেভাবে তো বলাই যায়, করোনা থাকুক না থাকুক আজ ভালোবাসা দিবস। তাই কেউ ভালোবাসুক আর না-ই বাসুক, বছর ঘুরে আবার এসেছে ভালোবাসা দিবস। প্রেম-ভালোবাসায় মাতোয়ারা হওয়ার দিন আজ। প্রকৃতির পালাবদলে আজ এসেছে বসন্তও, ফাগুনের মাতাল হাওয়ায় আজ উদ্দাম ভেসে যাবে প্রেমপিয়াসী তরুণ-তরুণী, ভালোবাসার রঙে রঙিন হবে হৃদয়। মনের যতাে বাসনা, যতাে অব্যক্ত কথা ডালাপালা মেলে ছড়িয়ে পড়বে বসন্তের মধুর হাওয়ায়। কপোত-কপোতী পরস্পরকে নিবেদন করবে মনের যতাে কথা, জানাবে ভালোবাসা। আজ চুপকথা শোনার ও শোনানোর দিন। আজ কারো কারো চুপকথাগুলো হয়ে যাবে রূপকথা। সারা জীবন মনে রাখার মতো গল্প।এবারের ফাল্গুন আসছে ভালোবাসা দিবসকে সঙ্গী করে। আর তাই বাঙালির ফাল্গুনের প্রথম দিন মিলেমিশে একাকার হবে সারা বিশ্বের ভালোবাসাপ্রিয় মানুষের সঙ্গে। এ বছর থেকে নতুন বাংলা পঞ্জিকা অনুসারে ১৪ ফেব্রুয়ারি আর ১ ফাল্গুন একই দিন। অর্থাৎ বসন্ত উৎসব আর ভালোবাসা দিবস একসঙ্গে উদযাপিত হবে। দিনটি হবে আরো রঙিন, আরো উজ্জ্বল, আরো আলোড়িত। পয়লা ফাল্গুন আর ভালোবাসা দিবস- দুই দিনকেই আপন করে নিয়েছে তরুণ প্রজন্ম। যেভাবে এলাে ভালোবাসা দিবস :- সেন্ট ভ্যালেনটাইনস ডের ইতিহাস খুঁজতে গিয়ে জানা যায় নানা রকম কাহিনীর কথা। প্রধান যে কাহিনীটি প্রচলিত আছে তা হলো:- রোমান একজন খ্রিষ্টান যাজক বা সেন্ট-এর কাহিনী অনুসারে। তার নাম সেন্ট ভ্যালেনটাইন। তিনি ছিলেন পাদ্রি বা যাজক এবং একই সঙ্গে চিকিৎসক। সে সময় দেব-দেবীর পূজার বিষয়টি রোমানদের ছিল মুখ্য। তারা খ্রিষ্টধর্মে বিশ্বাসী ছিলাে না। খ্রিষ্টধর্ম প্রচারের অভিযোগে ২৭০ খ্রিষ্টাব্দে রোমের সম্রাট দ্বিতীয় ক্লডিয়াসের আদেশে ভ্যালেনটাইনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। তিনি যখন কারাগারে বন্দী ছিলেন, তখন ছোট ছেলেমেয়েরা তাকে ভালোবাসার কথা জানিয়ে কারাগারের জানালা দিয়ে চিঠি ছুড়ে দিত। বন্দী অবস্থায়ই চিকিৎসা করে সেই কারাগারের জেলারের অন্ধ মেয়ের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেন সেন্ট ভ্যালেনটাইন। মেয়েটির সঙ্গে তার যোগাযোগ ঘটে। মৃত্যুর আগে মেয়েটিকে লেখা এক চিঠিতে তিনি বলেন, ‘ফ্রম ইওর ভ্যালেনটাইন।’ অনেকে মনে করেন, সেন্ট ভ্যালেনটাইনের নাম অনুসারেই পোপ প্রথম জুলিয়াস ৪৯৬ খ্রিষ্টাব্দে ১৪ ফেব্রুয়ারিকে সেন্ট ভ্যালেনটাইনস ডে হিসেবে ঘোষণা করেন। আরো একজন ভ্যালেনটাইনের নাম পাওয়া যায় ইতিহাসে। রোমান সম্রাট ক্লডিয়াস যুদ্ধের জন্য ভালো সৈন্য সংগ্রহের লক্ষ্যে যুবকদের বিয়ে করতে নিষেধ করেন। কিন্তু এই ভ্যালেনটাইন নিয়ম ভেঙে প্রেম ও বিয়ে করেন। ফলে সম্রাটের আদেশে তার মৃত্যুদণ্ড হয়। বহু বছর আগে রোমানদের মধ্যে প্রেম, বিয়ে এবং সন্তান উৎপাদনের ক্ষমতাকে ঘিরে কয়েকটি উৎসব চালু ছিল। এ ধরণের উৎসবের অন্যতম ছিল ‘লুপারকালিয়া’ নামে একটি উৎসব। দেবােতা লুপারকাস নেকড়ের আক্রমণ থেকে রোম শহরকে রক্ষা করতেন। অনুষ্ঠানের দিন তরুণরা প্রায় নগ্ন হয়েই দৌড়াদৌড়ি করত এবং নববিবাহিতা নারীকে চাবুক দিয়ে পেটাত। তরুণরা মনে করত, এতে সন্তান উৎপাদন সহজ হবে। এটি ছিল সন্তান উৎপাদনের উৎসব। এটি হতো ১৫ ফেব্রুয়ারি। এর আগের দিন ১৪ ফেব্রুয়ারি তরুণ-তরুণীরা নাচের সঙ্গী লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত করত। একে বলা হতো ‘জুনো’ উৎসব। ৪০০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে এই দুই দিনের উৎসবের কমিয়ে একদিন পালন করা হয়। দিনটি নির্ধারণ করা হয় ১৪ ফেব্রুয়ারি। সে সময় অনেকে মনে করতেন, ১৪ ফেব্রুয়ারি পাখিরা তাদের সঙ্গী বেছে নেয়। ফলে এদিনই প্রেম নিবেদনের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত। এদিনটি পালনের ক্ষেত্রে দেখা যায়, রোমানরা বক্সের ভেতর নাম রেখে লটারি করে তাদের প্রিয়তম বা প্রিয়তমাকে বেছে নিত। ১৭০০ সালের দিকে ইংরেজ নারীরা কাগজে কাঁদা-মাটিতে মিশিয়ে তাদের পরিচিত পুরুষদের নাম লিখে পানিতে ছুড়ে মারত। যার নাম প্রথমে ভেসে উঠত সে-ই হতো প্রকৃত প্রেমিক। আজ যে আমরা বিভিন্ন পালা-পার্বণ-অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা কার্ড বিনিময় করি, তার সূচনা হয়েছিল এই ভ্যালেনটাইনস ডে থেকেই। সম্ভবত ষোড়শ শতাব্দীতে হাতে লেখা কাগজের ভ্যালেনটাইন কার্ড আদান-প্রদানের প্রথা প্রথম চালু হয়। ১৮০০ শ শতাব্দীতে শুরু হয় হাতে পেইন্ট করা তামার কার্ড। তারপর উডকাট ও লিথোগ্রাফ। এখন বিংশ শতাব্দীর শেষ প্রান্তে আছে ছাপানো ভ্যালেনটাইন কার্ডের ছড়াছড়ি। আর তার সঙ্গে নানা রকমের উপহার। পারফিউম, রেকর্ড, ক্যাসেট, শেভিং লোশন, ফুল আরো কত কী। তবে ভ্যালেনটাইনস ডে-তে সবচেয়ে কমন উপহার হচ্ছে চকলেট। আর বোধ হয় সবচেয়ে নিখরচার উপহার হচ্ছে চুমু। প্রতিবছরই বাড়ছে এই দিনটির আনুষ্ঠানিকতা। দিনটি উপলক্ষে সারা বিশ্বে কার্ড, চকলেট, ফুল এবং নানা উপহার সামগ্রীর সরবরাহ ও বিক্রি বহুগুণ বেড়ে যায়। এই ভ্যালেনটাইস ডে-ই এ দেশে ভালোবাসা দিবস। ভালোবাসা দিবস ভিন্ন মাত্রায় বাংলাদেশে পশ্চিমের ভ্যালেনটাইনস ডে-ই আমাদের দেশে ‘ভালোবাসা দিবস’ হিসেবে পালিত হয়। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে বাংলাদেশে এই দিনটি পালনের রেওয়াজ শুরু হতে দেখা দেয়। এ দেশে দিন দিন এর ব্যাপ্তি বেড়েই চলেছে। এদিনটি সামনে রেখে করা হয় নানা পরিকল্পনা। বাংলাদেশে ভালোবাসা দিবসের ব্যাপকতা বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে মিডিয়া ও সামাজিক আয়োজনে এ দিবসকে ঘিরে ব্যস্ততা লক্ষ করা যায়। এ দেশে ভালোবাসা দিবস পশ্চিমের চেয়ে একটু আলাদাভাবে পালিত হয়। বিশ্বজুড়ে মূলত প্রেমিক-প্রেমিকা অথবা স্বামী-স্ত্রীরা ভ্যালেনটাইনস ডে পালন করে থাকে। কিন্তু বাংলাদেশে ভ্যালেনটাইনস ডে বা ভালোবাসা দিবস শুধু প্রেমিক-প্রেমিকায় সীমাবদ্ধ না থেকে তা ছড়িয়ে পড়েছে বাবা-মা, ভাই-বোন, সন্তান, বন্ধু, আত্মীয়-অনাত্মীয়, প্রিয় ব্যক্তিত্ব, এমনকি পোষা প্রাণী থেকে শুরু করে গাছপালার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশে। দেশের প্রতি ভালোবাসা বা দেশপ্রেমও এর বাইরে নয়। আমাদের দেশে ভালোবাসার পরিধি আরো বিস্তৃত। সে অর্থে ১৪ ফেব্রুয়ারি এ দেশে ব্যাপক অর্থে এবং ব্যাপক পরিসরে পালি ত হচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020 DailyAmaderChuadanga.com

 www.bdallbanglanewspaper.com

Design & Developed BY Creative Zoone IT