শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল ২০২১, ০৫:০২ পূর্বাহ্ন

ঋতুরাজ বসন্ত ও বিশ্ব ভালবাসার দিন আজ

আহসান আলম:

বাঙালির বসন্ত উৎসবের ঢেউ এবার ভালবাসা দিবসেও। একটি ঋতুরাজ বসন্ত আরেকটি বিশ্ব ভালবাসা দিবস। দিবসটি একই দিন হওয়ার কারনে বাঙালি তরুন-তরুনীদের মনে আলাদা একটা আনন্দ লক্ষ্য করা গেছে। আনন্দ উদযাপন করতে থেমে নেই যুবক-যুবতী ও বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষরাও। তাইতো ঋতুরাজ বসন্ত আর ভালবাসা দিবসকে রাঙাতে তাদের মাঝে কতই না আয়োজন। আর এই আয়োজনের মূল অনুসঙ্গ হচ্ছে রঙ-বেরঙের ফুল। গতকাল শনিবার সকাল থেকেই ফুলের দোকান গুলোতে ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের। প্রিয় মানুষকে ফুল উপহার দিতে তারা আগে থেকেই প্রস্তুত নিয়ে রেখেছে। মেয়েরা সকালে প্রাইভেট শেরে বাড়ি ফেরার পথে ফুলের দোকান থেকে ফুল কিনে বাড়িতে ফিরতে দেখা গেছে। বিশেষ দিনে যদি ফুল না পাওয়া যায় আবার পাওয়া গেলেও যদি দাম বেশি নেয়, সেকারনেই তাদেরএই আগাম প্রস্তুতি। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হওয়ার সাথে সাথে ফুলের দোকান গুলোতে ছেলেদের ভীড় ছিলো চোখে পড়ার মতো। আবার অনেকে পরিবারের সবাইকে সাথে নিয়ে ফুল কিনতে আসে বাজারে। করোনা উপেক্ষা করে সবাইকে ফুল কিনতে বাজারে আসতে দেখে ফুল ব্যবসায়ীরা কিন্তু সেই সুযোগকে কাজে লাগাতে ভুল করেনি। গতবারের লোকসান পুষিয়ে নিতে এবার চড়া দামে ফুল বিক্রি করেছে ফুল ব্যবসায়ীরা। যেহেতু করোনার সংক্রমন রোধে এবার অনেকে ঠিকমতো বাড়ির বাইরে বের হতে পারেনি। তাই একই দিনে দুইটা উৎসব, ঘরে কি আর বসে থাকা যায় ? বসন্ত উৎসব আর ভালবাসা দিবসকে স্বাগত জানাতে গতকাল রাতে শহরের বিভিন্ন স্থানে উঠতি বয়সী ছেলেদের আনন্দ করতে সেই সাথে অনেককে পিকনিক করতে দেখা গেছে।
শিক্ষার্থী মেঘা, মেধা, আলিফ, এশা বন্ধুকে উপহার দেয়ার জন্য ফুল কিনতে আসে বাজারে। একটি গোলাপ ৪ টাকা দাম শুনে তারা একটু অবাকই হয়। গোলাপ না নিয়ে তারা রজনীগন্ধা ফুল কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। সেখানেও চড়া দাম তাদের কোমল মনকে ভাবিয়ে তোলে। তারপরও কি আর করার। বন্ধুকে দিতে হবে উপহার, তাই তারা চড়া দামেই একটি করে গোলাপ কিনে বাড়িতে ফেরে।
কলেজ ছাত্র রোহান জানায়, যেহেতু ঋতুরাজ বসন্ত আর বিশ্ব ভালবাসা দিবস (ভ্যালেন্টাইন্স ডে) একই দিনে তাই আনন্দটাও একটু বেশি। সেকারনে সে তার প্রিয় বন্ধুকে উপহার দেয়ার জন্য ফুল কিনতে বাজারে এসেছে। অন্যন্য বারের তুলনায় এবারে ফুলের দাম অনেক বেশি বলে মন্তব্য করে রোহান।
চুয়াডাঙ্গা প্রধান পোস্ট অফিসের সামনে সারি সারি ফুলের দোকান। অন্যান্য দিনের তুলনায় গতকাল তাদেরকে একটু বেশি ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা গেছে।
বন্ধুত্ব ফুলঘরের মালিক শাহীন উর রশিদ জানান, গত দুই বছরে ফুল বিক্রি করে তাদের ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা লোকশান হয়েছে। সেকারনে চলতি বছর একটু শতর্ক অবস্থায় ফুল বিক্রি করতে হচ্ছে। যেহেতু তার নিজের বাগান আছে। সেকারনে এবার তার লোকশান হবে না বলে জানান তিনি।
আদর্শ ফুলঘরের মালিক আকুল উদ্দিন জানায়, চলতি বছরে ৫০ হাজার টাকার ফুল সংগ্রহ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এবার একটি গোলাপ ফুল বিক্রি করেছেন ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, একটি রজনীগন্ধার স্টিক বিক্রি করছেন ২০ টাকা, গ্যালোডিয়াস বিক্রি করছেন ৩০ টাকা এবং জারবারা বিক্রি করছেন ৩০ টাকা প্রতি পিচ।
জাহিদ ফুলঘরের মালিক জাহিদ হাসান জানান, যেহেতু একই দিনে দুইটি উৎসব, সে কারনে এবার তিনি একটু বেশি ফুল সংগ্রহ করেছেন। আশা করা যায় লাভ হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020 DailyAmaderChuadanga.com

 www.bdallbanglanewspaper.com

Design & Developed BY Creative Zoone IT