রবিবার, ০৯ মে ২০২১, ১২:২৬ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
বঙ্গবন্ধুর আদর্শ মনে প্রাণে ধারণ করি- জুয়েল চেয়ারম্যান কুষ্টিয়ায় সেফটি ট্যাংকের ভিতরে ২ নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের ইফতার বিতরণ মেহেরপুরের আমঝুপি গ্রামে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু চুয়াডাঙ্গায় গাঁজাসহ আটক ৩, ভ্রাম্যমাণ আদালতে জেল-জরিমানা ঝিনাইদহে ভারত ফেরত ১৪৭ বাংলাদেশী হোম কোয়ারেন্টাইনে কর্মহীন পরিবারের বাড়ীতে বাড়ীতে ইফতার সামগ্রী পৌঁছে দিলেন একদল যুবক চুয়াডাঙ্গার দর্শনা পৌরসভায় ভিজিএফ কার্ডধারীদের নগত অর্থ বিতরণ চুয়াডাঙ্গায় পূর্ব বিরোধের জেরে আ’লীগ কর্মী নজরুলকে কুপিয়ে জখম, আটক-১ ঝিনাইদহে বাম জোটের মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

কেন মমতার দলে ভাঙন থামছে না?

তৃণমূল সংসদ হিসেবে রাজ্যসভায় বাজেট বক্তব্য দেওয়ার সময় দল থেকে ইস্তফা দিয়েছেন মমতা ঘনিষ্ঠ প্রাক্তন রেলমন্ত্রী দীনেশ ত্রিবেদী, যা ভারতের সংসদীয় ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা।

শুভেন্দু, রাজীবের পর তৃণমূলের গ্রহণযোগ্য ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বের বিচারে দীনেশ ত্রিবেদী অন্যতম। এর আগে শুভেন্দু-রাজীবও তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন।

যদিও দীনেশ ত্রিবেদী শনিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত বিজেপিতে যাচ্ছেন কিনা সেটা নিশ্চিত করেননি। তবে রাজ্যসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তৃণমূলের বিরুদ্ধে যেভাবে সমালোচনা করেছেন বা যেভাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রশংসা করেছেন-তাতে এটা নিশ্চিত যে দীনেশ ত্রিবেদীও বিজেপিতে নাম লেখাতে চলেছেন।

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটের আর মাত্র কয়েক মাস বাকি। নির্বাচন কমিশন চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে কিংবা মার্চের প্রথম সপ্তাহে নির্বাচনের দিন তারিখ প্রকাশ করবে বলেই মনে করা হচ্ছে। রাজ্যজুড়ে দুই মাস আগে থেকেই নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছে তৃণমূল-বিজেপি-বামফ্রন্ট-কংগ্রেস। রাজ্যে এবার ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে মিম ও রাম বিলাশ পাসোয়ানের লোকজন শক্তি দলও।

তবে প্রধান দুই শক্তি হিসেবে গত তিন বছর ধরেই মাঠে রয়েছে তৃণমূল ও বিজেপি। ২৯৪ আসনে মূলত লড়াই হবে এই দুই শক্তির মধ্যেই। তাই স্বাভাবিকভাবেই রাজ্যবাসীর নজর বিজেপি-তৃণমূলের দিকে। প্রধান রাজনৈতিক দুটি শক্তিও পরস্পরের শক্তি কমাতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে। এক্ষেত্রে দল ভাঙানো একটি বড় অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে বিজেপি। অন্যদিকে বিজেপিকে বহিরাগত শক্তি হিসেবে রাজ্যের মানুষের সামনে গত কয়েক মাস ধরে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করছে তৃণমূল। তৃণমূলের হাতে আরো শক্তি তার রাজ্যে সরকারে রয়েছে। তাই সরকারি প্রকল্প করে মানুষকে শাসক দলের দিকে টানার চেষ্টা করছে মমতার দল।

তবে বিজেপিও কম নয়, তারাও কেন্দ্রের শাসক দল। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা রয়েছে তাদের। তাদের হাতে রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী, কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার মতো শক্তি। এ ছাড়া সর্বভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর ওপর বিজেপির প্রভাব রয়েছে; তেমন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতেও বিজেপির শক্ত আইটি সেল কাজ করছে দীর্ঘ সময় ধরে। বিজেপিও বাংলার রাজনৈতিক মাটি কামড়ে ধরে রেখেছে গত কয়েক বছর।

তবে ভোটের মুখে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যাওয়া শীর্ষ নেতৃত্ব সদ্যত্যাগী দল তৃণমূলের বিরুদ্ধে যেভাবে কথা বলছেন- তাতে রাজ্যের মানুষের কাছে তৃণমূল কিংবা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল। আর যারাই তৃণমূল ত্যাগ করছেন; তাদের সবার মুখেই একই সুর। তৃণমূলে থাকা যাচ্ছে না। এখন ব্যক্তিগত দলে পরিণত হয়েছে তৃণমূল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে না হলেও তার ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সবার অভিযোগ।

দলত্যাগীদের অভিযোগ, তৃণমূল আসলে প্রাইভেট লিমিডেট কোম্পানি হয়ে গিয়েছে। সেখানে মমতা-অভিষেক ছাড়া আর কারো কথার দাম নেই। সবাই তাদের কর্মচারী। গণতন্ত্র নেই তৃণমূলে। সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতি হচ্ছে যার পুরো দায় অভিষেকের। দলে সিনিয়র নেতারা উপেক্ষিত। অভিষেকের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় তাদের। কেউ দেখা করতে চাইলে সময় পাওয়া যায় না। চাকর-বাকরের মতো আচরণ করা হচ্ছে।

তবে তৃণমূল কংগ্রেস দলত্যাগীদের গণহারে মীরজাফর-বিশ্বাসঘাতক বলে দাবি করে পুরো অভিযোগ উপেক্ষা করছে। এই বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় জানালেন, যারা যাওয়ার, তারা চলে যাবে, তাতে কিছু আসে-যায় না। তৃণমূল সাধারণ মানুষের দল। এখানে একজনই নেত্রী তার নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যারা যাচ্ছেন, তারা ভোটের আগে কেন যাচ্ছেন। সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে এখন সুযোগ বুঝে পালাচ্ছেন। তারা আসলে মীরজাফর-বিশ্বাসঘাতক।

ভোটের মুখে তৃণমূলের এই ভাঙন শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে পৌঁছায় সেটা সময় বলে দেবে ঠিকই, কিন্তু এই ভাঙনে আরো গুরুতর হবে সেটার ইঙ্গিত মিলেছে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুই ভাই বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন বলে বিজেপির ইঙ্গিত।

এ বিষয়ে কথা হয় বিজেপি নেতা অর্জুন সিংয়ের সঙ্গে। তিনি জানান, ২০১৯ এর আগে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে এসেছি। এখানে যোগ্য সম্মান পাওয়া যায়। তৃণমূল শুধু দুটি ব্যক্তির দল। আর দুর্নীতি ছাড়া সেখানে কিছু হয় না। মানুষের জন্য কাজ করতে হলে বিজেপির বিকল্প নেই। বিশ্বের সর্ববৃহত্তম দল বিজেপি। এখানে ব্যক্তির চেয়ে দল এবং দলের চেয়ে দেশই আগে। কিন্তু তৃণমূলের কাছে দেশ, দল নয় ব্যক্তি আগে। আর ওই ব্যক্তি হচ্ছেন পিসি-ভাইপো। প্রসঙ্গত, পিসি-ভাইপো বলতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তার ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বোঝেন রাজ্যবাসী।

এদিকে মমতার ভাই বিজেপির যোগদানের বিষয়ে পরিষ্কার কোনও বিবৃতি আসেনি রাজনৈতিক শিবির থেকে। তবে গত কয়েক মাস ধরে যা রটেছিল সবটাই ঘটে গেছে এরই মধ্যে। তাই মমতার দুই ভাই বিজেপিতে যাওয়ার খবর রটা হলেও, যে কোনো দিন যা ঘটে যাবে- এমনটাই বিশ্বাস করেন রাজনৈতিক মহল।

সূত্র: সময় টিভি

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020 DailyAmaderChuadanga.com

 www.bdallbanglanewspaper.com

Design & Developed BY Creative Zoone IT