মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২২, ১০:২১ অপরাহ্ন

শিরোনাম

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল সড়কের যুব উন্নয়ন কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে ঘিরে নানা প্রশ্ন

ষ্টাফ রিপোর্টার:

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল সড়কে যুব উন্নয়ন কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নামে গড়ে উঠেছে একটি প্রতিষ্ঠান। ওই প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মতিয়ার রহমান দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিষ্ঠানটি চালিয়ে যাচ্ছেন। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সাথে নামের মিল থাকায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরেরই একটি প্রতিষ্ঠান ভেবে অনেকে সেখানে প্রশিক্ষণ নিতে যাচ্ছে।
জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা শহরের হাসপাতাল রোডে যুব উন্নয়ন কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নামে গড়ে উঠেছে একটি প্রতিষ্ঠান। একজন পরিচালক আর একজন প্রশিক্ষক নিয়ে পরিচালিত ওই প্রতিষ্ঠানে মোট ১২ টি কম্পিউটার আছে। ৬ মাসের কোর্সের জন্য ২ হাজার ৮শ টাকা নিয়ে থাকেন তাঁরা। বর্তমানে ৬০ জনের বেশি শিক্ষার্থী আছে ওই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে। বেশ কিছুদিন আগে তারা একটি লিফলেট ছাপিয়েছে। লিফলেটটিকে স্পষ্টভাবেই তাঁরা নাম দিয়েছে ‘গণ বিজ্ঞপ্তি’। সেটাতে লেখা আছে, চুয়াডাঙ্গা জেলার মধ্যে ‘যুব উন্নয়ন কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’ নামে একটিই প্রতিষ্ঠান আছে যা শুধুমাত্র হাসপাতাল রোডে। আর অন্য কোথাও যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নামে আর কোন প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন নেই। অন্য কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র যুব উন্নয়নের নামে জাল সার্টিফিকেট দেয়।
এদিকে, এমন গণ বিজ্ঞপ্তি চোখে পড়ার পর সচেতন মানুষের মনে এই প্রতিষ্ঠানটি নিয়েই জেগেছে সন্দেহ। তাদের ধারণা ওই প্রতিষ্ঠানটি যুব উন্নয়ন অধিদফতরেরই একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। এই সন্দেহের উত্তরে সদর হাসপাতাল রোডে অবস্থিত যুব উন্নয়ন কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, মাত্র দুটি রুমে কয়েকটি কম্পিউটার সাজানো। একজন মাত্র শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। কথা হয়, সেখানে উপস্থিত থাকা প্রশিক্ষকের সাথে।
প্রশিক্ষক পারভেজ আহমেদ জানান, তিনি সমাজ সেবা অধিদপ্তর থেকে ৬ মাস মেয়াদী একটি প্রশিক্ষণ নিয়েছে। আর যুব উন্নয়ন কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকেই আরো ৬ মাস মেয়াদী আরেকটি প্রশিক্ষণ নিয়েছে। বর্তমানে তিনি এখানকার প্রশিক্ষক হিসেবে কর্মরত। পারভেজ আহমেদকে প্রশিক্ষণার্থীদের হাজিরার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি একটি নোট খাতা দেখিয়ে বলেন, যারা যারা উপস্থিত হয় তাঁদের নাম এখানে লেখা হয়। যদি কেউ না আসে তবে একমাস পর আমরা তাকে ফোন দিয়ে খোঁজ নিই।
অনেকেই ভর্তি হয়ে ক্লাস না করে প্রশিক্ষণ না নিয়ে পরীক্ষা দেয় এমন তথ্য আছে বলে প্রশ্ন করা হলে তিনি কিছুটা বিচলিত হয়ে বলেন, অনেকেই এমন আছে, যারা বলে-পরিক্ষাটা দিয়ে নিই। পরে আমরা ক্লাস করে নিবো। পারভেজ আহমেদ আরো বলেন, অনেকেই এসে বলেন, আমার কম্পিউটার প্রশিক্ষণ করা আছে আমি সার্টিফিকেট নিবো।
প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মতিয়ার রহমানকে তিনি ফোন দিলে মতিয়ার রহমান প্রথমে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আসার কথা জানান। একটু পরেই তিনি দূরে আছে বলে আর আসেননি।
মুঠোফোনে মতিয়ার রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সব অনুমোদন আছে। নিয়ম অনুযায়ী আমরা প্রতিষ্ঠান পরিচলানা করছি। শুধুমাত্র ভর্তি হয়ে সার্টিফিকেট নেয়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।
তবে এ ব্যাপারে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) যুগ্ম সচিব জাহাঙ্গির আলম বলেন, যুব উন্নয়ন কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নামে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন নেই। তাঁরা প্রতারণা করছে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সদ্য সাবেক উপ-পরিচালক ও বর্তমানে ঝিনাইদহ জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুম আহমেদ বলেন, আমি এ বিষয়ে নিজে ওই প্রতিষ্ঠানটি ভিজিট করেছি। সেখানে যারা প্রশিক্ষণ নেই, তাঁরা আমাদের জানিয়েছে এটা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রতিষ্ঠান। কিন্তু আমি কাগজপত্র যাচাই বাচাই করে দেখেছি। এটা অর্থমন্ত্রণালয়ের একটি শাখা থেকে ঢাকার একটি প্রতিষ্ঠান অনুমোদন নিয়েছে। তাঁদের কাগজপত্র দেখিয়েই এখানে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। আমি বিষয়টি আমার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। যুব ও ক্রিড়া মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিষ্ঠান যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর। আমরা বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি। আর এই নামে অনুমোদন দেয়ার বিষয়টি নিয়ে আমরা চিন্তিত। আমার মনে হয়, তারা আমাদের প্রতিষ্ঠানের নামের সাথে মিল রেখে প্রতারণা করছে।
এদিকে, নাম প্রকাশে অনিইচ্ছুক চুয়াডাঙ্গা জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রশাসনের সাথে আলাপ করে এসব ভুয়া প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টসহ আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

Facebook Notice for EU! You need to login to view and post FB Comments!

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020 DailyAmaderChuadanga.com এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি