বৃহস্পতিবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২২, ০৪:৪২ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

এই খানে এক নদী ছিলো জানলো না তো কেউ….

রুহুল আমিন, আত্রাই (নওগাঁ) সংবাদদাতা:

এই খানে এক নদী ছিলো, জানলো নাতো কেউ নদীর কূল ছিলনা, জল ছিলনা, ছিল শুধু ঢেউ। পথিক নবীর এই গানটির মতো অবস্থা দাঁড়িয়েছে আত্রাইয়ের প্রাণকেন্দ্র দিয়ে বয়ে যাওয়া এক কালের অপরূপ সুন্দর্য্যের প্রশস্ত ও খরস্রোতা আত্রাইয়ের শাখা নদী এখন পরিণত হয়েছে মরা খালে দখল আর দূর্ষনে মরণাপন্ন এই নদী । ময়লা আবর্জনা ইমারত নির্মাণ, বর্জ ফেলার পাশাপাশি স্থাপনা নির্মাণ করে যে যেমন পারছে দখলে নিয়েছে নদীটি। ময়লা আবর্জনায় বিষাক্ত হয়ে গেছে নদীর পানি। বিশেষ করে আত্রাই নদীর মুখে এই নদীর হয়েছে মরণ দশা। নদীর প্রবেশমুখ উপজেলার প্রাণকেন্দ্র সাহেবগঞ্জ থেকে খনজোর, জয়সাড়া, বিপ্রবোয়ালিয়া, খাজুরা, খোলাবাড়ীয়া, বিলহালতি হয়ে চলনবিলে প্রবেশ করেছে। সবখানে প্রায় দেখা যাচ্ছে দখলের চিহ্ন। এটাকে বাঁচাতে আত্রাই নদী বাচাও আন্দোলন সংগঠন গত কয়েক বছর ধরে অনেক আন্দোলন করেছে। দখল আর দূষণ থেকে রক্ষা করতে কাঙ্খিত পদক্ষেপ নেই। অবশ্য উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ বলেছেন নদী উদ্ধার ও নির্মল পরিবেশ সৃষ্টি করতে তাদের রয়েছে নানা উদ্যোগ। সরেজমিনে দেখা যায় উপজেলার সদরস্থ আত্রাই নদীর শুরু থেকে নদী দখল করে বাড়ি, দোকানপাট তৈরি করা হয়েছে।

এছাড়া নওগাঁর ছোট যমুনা নদীর খালগুলো গিলে খাচ্ছে ভূমিদস্যুরা| আত্রাই হয়ে নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার প্রাকৃতিক সুন্দর্য্যে ভরপুর মনোমুগ্ধকর চোখ জুড়ানো অপরুপ বিশাল আয়তনের চলন বিল । আর চলন বিলের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া আত্রাই নদীতে পানি থাকতো এইতো ১০/১৫ বছর আগেও । এখন তো কোথাও কোথাও একটু থাকলেও বর্ষায় তা বেড়ে যায়। নদী বাঁচাও আন্দোলনের উদ্যোগে নানা ধরণের আন্দোলন হয়েছে বছরের পর বছর ধরে।
এ ব্যাপারে উপজেলার সাহেবগঞ্জ গ্রামের ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলাম (৫৫) জানান, আত্রাই নদীতে একসময় খুব স্রোত ছিল, খরার সময়েও পানি থাকত। এই পানি দিয়ে কষকের আবাদ হতো। এখন সেইগুলো কিছুই নেই, প্রভাবশালীরা সদর স্লুইচগেট দখল করে বাড়িঘর ও দোকান পাট নির্মাণ করেছে। খাল খননের নামে নদী একেবারে নালা বানিয়েছে। নদীর দুই তীরের গ্রামবাসীরা যে যার পজেশন মতো মাটি কেটে উচু করে দখল করে নিচ্ছে। তারা এভাবেই নদী মেরে ফেলছে। তিনি আরোও জানান, সাহেবগঞ্জ বাজারে এই আত্রাই নদীর মোড় ছিল। এই নদী বিলীনের কারণে মূল মোহণায় বাঁধ দিয়ে যে স্লুইচগেট করেছে তার গেট মাত্র একটি। সেটা আবার সুরঙ্গ মাটির নিচ দিয়ে এটাও অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। তিনি অবৈধ দখলদারদের ব্যাপারে বলেন, এখানে যারা প্রভাবশালী যাদের টাকা-পয়সা আছে তারা এই নদীর প্রবেশ মুখ দখল করে বিল্ডিং নির্মাণ করছে। এতে নদী শেষ হয়ে যাচ্ছে। এই নদীকে বাঁচাতে হলে গুড় নদীর (বর্তমানে আত্রাই নদী) মুখ থেকে বিভিন্ন স্থাপনা উচ্ছেদ করে ওই বাঁধে ১০/১২টি গেট নির্মাণ করে পুনঃখনন করলে এ নদীর যৌবন আবারোও ফিরে পাবে।

আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ছানাউল ইসলাম বলেন, নদী কমিশন থেকে আমাদের কাছে নদীরক্ষা কমিশনের চিঠি এসেছে। এবং সেই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের এখানে বিদ্যমান নদীগুলো আছে সেই নদীগুলোতে অবৈধ স্থাপনার তালিকা করছি সেই তালিকা আমরা পাঠিয়ে দিব।  সেই আলোকে যদি তারা পদক্ষেপ নিতে বলবে। পদক্ষেপ নিতে বলবে বলতে আমরা বসে থাকবনা। থানা প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে আমরা পর্যায়ক্রমে তাদের বিরুদ্ধে জোড়ালো পদক্ষেপ নিবো বা উচ্ছেদের জন্য ব্যবস্থা নিবো। উচ্ছেদের ক্ষেত্রে যে প্রসেস আছে জেলা প্রশাসকের অফিস থেকে এখানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয় তাদের মাধ্যমেই এই উচ্ছেদ অভিযান চলে। প্রথম কাজই হচ্ছে আমাদের এই অবৈধদের তালিকা। অবৈধভাবে যারা দখল করেছে তাদের তালিকা তৈরি করছি।

Facebook Notice for EU! You need to login to view and post FB Comments!

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020 DailyAmaderChuadanga.com এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি