মঙ্গলবার, ২৭ Jul ২০২১, ১০:১৫ পূর্বাহ্ন

আলমডাঙ্গার আসমানখালীতে চিকিৎসার নামে পিতা-পুত্রের রমরমা বাণিজ্য

ষ্টাফ রিপোর্টার:

আলমডাঙ্গার আসমানখালী বাজারে কবিরাজ আব্দুল কুদ্দুস ও তার ছেলে ইব্রাহীম হোসেন চিকিৎসার নামে রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। চিকিৎসার নামে অপচিকিৎসা দিয়ে পিতা-পুত্র মিলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। আসমানখালী বাজারে একটি নিটসেডের ঘর বানিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মানুষকে বোকা বানিয়ে তারা টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।
এলাকা সূত্রে জানা গেছে, মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার চাঁন্দমারী গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস আসমানখালী নান্দবার গ্রামের বড় মসজিদে দীর্ঘদিন ধরে ইমামতি করে আসছিলেন। এরই মাঝে গত ৩ বছর আগে ভুয়া কবিরাজীর কারণে মসজিদ কর্তৃপক্ষ আব্দুল কুদ্দুসকে মসজিদ থেকে বহিষ্কার করে। পরে তিনি আসমানখালী বাজারে একটি টিনসেটের ঘর নির্মাণ করে তার ছেলে ইব্রাহীম হোসেনকে সাথে নিয়ে এলাকায় জ্বীন-ভূত ছাড়ানোর কাজ শুরু করেন। এভাবে জ্বীন-ভূত ছাড়ানোর অজুহাত দেখিয়ে পিতা-পুত্র মিলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।
গত পরশু শনিবার বিকেলে মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার আকাশ আলীর স্ত্রী মেরিনা খাতুনের সাথে কথা বললে তিনি জানান, তাদের বিয়ে হয়েছে ৭ বছর আগে। এখনও তাদের কোন সন্তান হয়নি। মেরিনা খাতুন বলেন, আমাদের কোনো সন্তান না হওয়ায় আমি হুজুরের কাছে এসেছি। তিনি আমাকে পানি পড়ে দিয়েছে এবং মাদুলী করে দিয়েছে। বিনিময়ে নিয়েছে ১১শ’ টাকা। হুজুর আমাকে ১৫ দিন পর আসতে বলেছেন।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার জালশুকা গ্রামের মরজেম আলীর স্ত্রী আরজিনা বেগম বলেন, আমার স্বামীর সাথে আমার মনোমালিন্য হওয়ায় আমি হুজুরের কাছে এসেছি। তিনি আমাকে পানি পড়া নিয়েছি এবং মাদুলী করে দিয়েছে। তার বিনিময়ে তিনি আমার কাছ থেকে নিয়েছেন ৮শ’ টাকা। আগামী ১ সপ্তাহ পর আসতে বলেছেন।
আসমানখালীর বগাদী গ্রামের বিপুল হোসেন’র স্ত্রী সাথী খাতুন অর্শ্ব চিকিৎসার জন্য যান সেখানে। তিনি বলেন, হুজুরের ছেলের কাছে ১মাস ধরে চিকিৎসা নিচ্ছি। এখনও কোন পরিবর্তন হয়নি।
হুসাইন আহম্মেদ নামের একজন বলেন, আমি একটা মেয়েকে ভালবাসি। তাকে পাওয়ার আশায় এখানে এসেছি। আমার প্রেমিকাকে আমার কাছে এনে দিবে বলে আমাকে একটা মাদুলী ও দোয়া লিখে দেয়। বিনিময়ে আমার কাছ থেকে ৭ হাজার টাকা নিয়েছে। অনেকদিন হলো এখনও কোন কাজ হয় নি।
শালিকা গ্রামের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানিয়েছেন, আমার স্বামীকে আমার বসে নেয়ার জন্য হুজুরের কাছে যায়। আমাকে ২টা মাদুলী দিয়ে আমার কাছ থেকে ১৫শ’ টাকা নিয়েছে। অনেকদিন হয়ে গেলো এখনও পর্যন্ত আমার কোনো কাজ হয়নি।
মোচাইনগর গ্রামের আরফিন হোসেন বলেন, হুজুর আমার স্ত্রীর হাত দেখে বলেছিলেন আমার স্ত্রীর পুত্র সন্তান হবে। কিছুদিন পর আমার স্ত্রী কন্যা সন্তান প্রসব করে। তিনি বলেন, কুদ্দুস হুজুর ও তার ছেলে এখানে প্রতারণার ব্যবসা খলে বসেছে। তাদের শাস্তি হওয়া দরকার।
আসমানখালী বাজারের আনিসুর রহমান বলেন, কুদ্দুস কবিরাজের ছেলে ইব্রাহিমের বিয়ের ১০ বছর পার হলেও এখনও তার কোন সন্তান হয়নি। যে তার নিজের চিকিৎসা করাতে পারেনা, সে কিভাবে অন্যের স্ত্রীর হাত দেখে সন্তান এনে দেবে। তারা বাপ-বেটা মিলে বড় ধরণের চিটারী ব্যবসা খুলে বসেছে। তাদের শাস্তি হওয়া উচিত।
এ বিষয়ে নামধারী কবিরাজ আব্দুল কুদ্দুসের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, সবই আল্লাহর নিলাখেলা। আমি কিতাব পড়ে মানুষকে সেবা দিয়ে থাকি।
ইব্রাহিম হোসেন বলেন, আমি হোমিওপ্যাথির ডাক্তার হিসাবে মানুষের সেবা দিয়ে থাকি সেই সাথে এ্যালোপ্যাথি প্রেসকিপসন করে দিই। গর্ভবতী মহিলাদের মানুষের রাশি ফল দেখে আমি বলে দিতে পারি তার গর্ভে কি সন্তান আছে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020 DailyAmaderChuadanga.com

 www.bdallbanglanewspaper.com

Design & Developed BY Creative Zoone IT