বৃহস্পতিবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২২, ০৪:৫৭ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

কাজ যার সাঁজ তার

কাজ যার সাঁজ তার এ প্রবাদ বাক্যটি আমরা সকলেই জানি। যিনি কাজ করেন তারই সাঁজ মানায় এ কথা আমরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে বলে থাকি। কাজ যার সাঁজ তার এ নিয়ে আরো দীর্ঘ কয়েকমাস পূর্বে আমার লেখার কথা ছিলো। লেখার জন্য মোটামুটি একটু প্রস্তুতিও নিয়েছিলাম। প্রায় ৪০ এর অধিক অনেক ভালো ভালো কাজের ছবি সংগ্রহ করেছিলাম একজন অফিসারের । তবে সেটা আর লেখা হয়ে উঠেনি।
তার একটাই কারন ছিলো তিনি ছিলেন আমাদের জেলার পাশ্ববর্তী মেহেরপুর জেলার অফিসার। অনেকে আমার লেখা পড়ে হয়তো ভাবতে পারতেন আমার জেলার অফিসার রেখে বাইরের জেলার অফিসার নিয়ে লেখার কারন নিয়ে।বাইরের জেলার অফিসার নিয়ে লেখার কারনে আমার জেলার অফিসারদের আমার লেখনির মাধ্যমে খাটো করে দেখা হতে পারে এ ভেবে আর লেখা হয়ে উঠেনি। ভেবেছিলাম তিনি যদি কখনো আমাদের জেলায় বা আমাদের উপজেলায় দায়িত্ব নিয়ে আসেন তবে দুয়ে দুয়ে চার করে লিখবো আমার লেখাটা। তবে সেটা আর হয়ে উঠেনি । মেহেরপুর জেলার সেই অফিসার বদলী হয়েছেন তবে আমাদের জেলায় আসেননি । গিয়েছেন জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের জন্মস্থান সেই টুঙ্গিপাড়ার গোপালগঞ্জ জেলার এডিসি হয়ে। আমার লেখা এতটুকু পড়েই ইতিমধ্যই অনেকে বুঝে ফেলেছেন আমি কার কথা বলছি।
হ্যাঁ আপনাদের ধারনাটাই সঠিক আমি মুজিবনগর উপজেলার সাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওসমান গণি স্যারের কথায় বলছি।যারা স্যারের কর্মকান্ড দেখেছেন তারা আমার লেখার সাথে ১০০ ভাগ সহমত পোষন করবেন সেটা আমি জানি।আসলেই ওসমান গণি স্যার জানেন কিভাবে একটা উপজেলায় কাজ করতে হয়।কিভাবে উপজেলাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়।তাঁর ব্যাতিক্রম চিন্তাধারা শুধু মেহেরপুর জেলা না দেশজুড়ে প্রশংসিত হয়েছিল। তিনিই বাংলাদেশের ভিতর প্রথম করোনাকালে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে সেইফবক্স হাট তৈরী করেছিলেন। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে দখলমুক্ত করেছিলেন এলাকা।শাস্তির বদলে দিয়েছিলেন ঘর। ৪ মেয়ের বাল্যবিবাহ দেবার অনুমতি নিতে আসা সেই মায়ের মেয়েদের পড়াশোনা করার দায়িত্ব নিয়েছিলেন তিনি। একের পর এক সাড়া জাগানো কাজ করে মেহেরপুর জেলা ছাড়িয়ে সুনাম কুড়িয়েছিলেন পাশ্ববর্তী জেলা গুলোতেও ।ওসমান গণি স্যারের পদন্নোতি জনিত অনত্র চলে যাওয়ার কারনে ভেবেছিলাম আর হয়তো এত দ্রুত আমার এ লেখাটা হবেনা। তবে আল্লাহর অশেষ রহমতে আমার এ লেখার জন্য আমি আমাদের জেলায় আমার দেখা ৬ জন অফিসারকে খুঁজে পেয়েছি।
আবারও লিখতে অনুপ্রানিত হয়েছি চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম স্যার ও দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিলারা রহমান স্যারের কর্মকান্ড দেখে।আমার দেখা ৬ জন অফিসারের ভিতর প্রথমেই আছেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার স্যার, মানবিকতার আলোর দিশারী আমাদের চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম স্যার, দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিলারা রহমান স্যার, দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুবুর রহমান কাজল স্যার,দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি (বর্তমান জীবননগর উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি কর্মরত)মহিউদ্দীন স্যার ও চুয়াডাঙ্গা জেলা ভোক্তা অধিকারের পরিচালক সজল স্যার।আমি যে ৬ জনের নাম বলেছি আমি আশা করি আমার লেখার সাথে আপনারা সহমত পোষন করবেন।
তবে হয়তো আরো এমন অফিসার রয়েছেন আমাদের জেলায় যেটা হয়তো আমার জানা নেই। আমাদের চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক স্যার, আমার ব্যাক্তিগত ভাবে মনে হয়েছে তিনি প্রচারবিমুখ একজন মানুষ।নীরবে নিভৃতে কাজ করে যেতেই বোধহয় বেশী পছন্দ করেন। স্যারের কাছে যেকোন বিষয়ে তথ্য দিলে সহযোগীতা চাইলে জেলা প্রশাসক স্যার সেটার দ্রুত পদক্ষেপ নেন। জেলার সাধারন মানুষের জন্য দিনরাত কাজ করে চলেছেন।
জেলা প্রশাসনকে কাজের মাধ্যমে বেগবান করে ঢেলে সাজিয়েছেন। বুঝিয়ে দিয়েছেন জেলা প্রশাসনের কাজ কি। আমাদের চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম স্যার তো ইতিমধ্যই তাঁর কাজের মাধ্যমে ব্যাপক সুনাম অর্জন সহ জেলার আবাল বৃদ্ধা বনীতা গরীব দুখী অসহায় মানুষের মনের মনি কোঠায় ঠাঁই করে নিয়েছেন। করোনাকালে বাড়ি বাড়ি খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া। বৃদ্ধা বয়স্কদের ওষুধ কিনে দেওয়া, অফিসে গেলে খাবার খেতে দেওয়া, পাঞ্জাবী, লুঙ্গি, শাড়ী কিনে দেওয়া সহ কন্যা সন্তানকে যেন কেউ ছোট করে না দেখে ও নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধে নিয়েছেন অভিনব প্রশংসার দাবীদার এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। কন্যা সন্তান হলেই তার বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে ফুল, মিষ্টি ও উপহার সামগ্রী। কাজ করে দেখিয়ে দিচ্ছেন তিনি। দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিলারা রহমান স্যার অল্প কয়েকমাস দামুড়হুদায় যোগদান করলেও কাজের মাধ্যমে দেখিয়ে দিয়েছেন একটি উপজেলায় কিভাবে কাজ করতে হয়।কিভাবে সাধারন মানুষের কাছে পৌঁছানো যায় কিভাবে কাজের মাধ্যমে মানুষের মন জয় করা যায়। করোনাকালীন সময়েও তিনি রাতদিন ছুটে বেড়িয়েছেন এ প্রান্ত থেকে অপ্রান্ত। অভিযানে গিয়ে মাস্ক ব্যাবহারীদের দিয়েছেন গোলাপফুলের শুভেচ্ছা। অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ সহ সরকারী খাস জমি পুনুরুদ্ধার, গৃহহীনদের ঘরের কাজ সঠিক ভাবে যেন হয় তার পুরো তদারকী, ভৈরব নদী থেকে অবৈধ সব বাঁধ অপসারন, শীতার্থ মানুষের মাঝে সকল শ্রেনী পেশার মানুষের তালিকা তৈরী করে সঠিকভাবে কম্বল বিতরন সহ নানাবিধ কাজ করে চলেছেন।অফিসিয়াল কাজের ফাঁকে একটু সুযোগ পেলেই বিশ্রাম না নিয়ে ছুটে চলেছেন নানান অভিযানে । কোন ক্লান্তি তাঁকে দমাতে পারেনি। বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সেই গানের মতই” ক্লান্তি আমার ক্ষমা করো প্রভু, পথে যদি পিছিয়ে, পিছিয়েই পড়ি প্রভু, ক্লান্তি আমার ক্ষমা করো প্রভু”। কবির গানের মতই কোন ক্লান্তিই যেন তাঁর কাজকে দমাতে পারেনি।”যে রাঁধে সে চুল ও বাঁধে “এখানেও তিনি যর্থাথ প্রমান দিয়েছেন যে নারী রাঁধতে জানে সে চুলও বাঁধতে জানে। একজন নারী হয়ে দামুড়হুদা উপজেলাতে তিনি যেভাবে কাজ করে চলেছেন সেখানে তিনি যথার্থ প্রমান করেছেন সত্যিই আজ নারীরা পিছিয়ে নেই। নারীরা সবক্ষেত্রে পুরুষের মতই সমান ভূমিকা রেখে চলেছেন। আমাদের দেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। জাতীয় সংসদের মাননীয় স্পিকার ড.শিরিন শারমীন চৌধুরী তিনিও নারী। দেশ তথা বিশ্বের কাছে মাইকফলক হয়ে রয়েছেন আমাদের নারী প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা।জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা নারী কবিতায়, ” বিশ্বের যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর অর্ধেক তাঁর করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর”।ঠিক তেমনি আমাদের দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিলারা রহমান স্যারও বুঝিয়ে দিয়েছেন কল্যানকর সকল কাজে নারী, পুরুষ সমানভাবে কাজ করার সক্ষমতা রাখে।
অপরদিকে দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহব্বুর রহমান কাজল স্যারের সুন্দর আচার আচরন ও কর্মকান্ডে মুগ্ধ দর্শনা থানাধীন এলাকাবাসী।দর্শনা থানার গন্ডি পেরিয়ে তার সুনাম জেলা জুড়ে।বেশ কয়েকবার জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ ও নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি হিসাবে যোগদানের মাসখানেকের ভিতর নিজের সুন্দর আচরন ও কাজ করে খুব অল্প সময়ে সাংবাদিক মহল সহ উপজেলা জুড়ে সুনাম কুড়িয়েছিলেন বর্তমানে জীবনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি হিসাবে কর্মরত মহিউদ্দীন স্যার। ভূমি অফিসকে করেছিলেন দালাল ও দূর্নিতি মুক্ত।করোনাকালীন সময়েও দিনরাত সমানতালে ছুটে বেড়িয়েছেন পুরো উপজেলা জুড়ে। সাধারন মানুষকে করোনা থেকে বাঁচাতে সচেতন করতে ব্যাপক প্রচার প্রচারনায় অংশ গ্রহন করেছিলেন। দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিলারা রহমান স্যার ও মহিউদ্দীন স্যার মিলে জীবনের মায়া ত্যাগ করে সাধারন মানুষকে বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন করোনা মোকাবেলার যুদ্ধে নানান পদক্ষেপ নিয়ে।সবশেষ যার কথা বলবো তিনি চুয়াডাঙ্গা জেলা ভোক্তা অধিকারের পরিচালক সজল স্যার। ভোক্তা অধিকারে ভোক্তাদের অধিকার আদায়ে নিরলস কাজ করেছেন। কার ক্ষমতা, কার পাওয়ার, কে কি, তা দেখেননি। অপরাধ অন্যায় যেখানে সেখানেই করেছেন শক্ত অভিযান। নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে ভেজাল খাদ্য,নকল পন্য ধ্বংস সহ ভেঙ্গে দিয়ে দুই নাম্বার ব্যাবসায়ীদের সিন্ডিকেট।করোনাকালীন সময়ে যখন ব্যাবসায়ী সিন্ডিকেট নানান ছুঁতোতে পন্যর দাম বাড়াতে মরিয়া ঠিক তখনি নিয়মিত অভিযান চালিয়ে বাজারের দ্রব্যমূল্যর দাম নিয়ন্ত্রনে রেখেছিলেন। কবি কুসুম কুমারী দাসের লেখা আদর্শ ছেলে কবিতায় “আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে”। কবির এ কথার মতই আজকে আমরা দেখতে পাচ্ছি আমাদের দেশে সেই ছেলে জন্মে গেছে যারা কথায় বড় না হয়ে কাজ করে দেখিয়ে দিয়েছেন। আমার দেখা জেলার বর্তমান এই ৬ জন অফিসার কথায় বড় না হয়ে সত্যিকারের কাজ করে বড় হয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন।সবশেষ একটি কথায় বলবো কাজ যার সাঁজ তার। এ ৬ জন অফিসারের নামের সামনে পিছনে সব বিশেষনই মানায়।নিরন্তর শুভ কামনা জানাই আমার দেখা জেলার শ্রেষ্ঠ ৬ প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্যারদের প্রতি।
লেখক-
সাংবাদিক -মেহেদী হাসান মিলন
সাংগঠনিক সম্পাদক-
দামুড়হুদা প্রেসক্লাব

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020 DailyAmaderChuadanga.com এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি