বুধবার, ২১ এপ্রিল ২০২১, ১১:২৩ অপরাহ্ন

শিরোনাম
শংকরচন্দ্র ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুর রাজ্জাক ইন্তেকাল করেছেন কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় কৃষকের লাশ উদ্ধার গাংনীতে এক কৃষককে ফাঁসানোর অভিযোগ আজ ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর দিবস ॥ সীমিত পরিসরে পালনের প্রস্তুতি উপজেলা ভাইসচেয়ারম্যান টুপি সহিদুলের কিল-ঘুষিতে বৃদ্ধ ইস্রাফিল নিহত জুয়ার আসর থেকে নগদ টাকা-জুয়াখেলার সরঞ্জামসহ গ্রেফতার-২ বেগমপুরের হরিশপুর সড়কের গাছ চুরিকালে চোর পাকড়াও দামুড়হুদার ডুগডুগী কাঁচাবাজার তদারকী করলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিলারা চুয়াডাঙ্গায় করোনা পরিস্থিতিতে ভ্রাম্যমাণ সবজি ভ্যান কার্যক্রমের উদ্বোধন গাংনীর কাজীপুরে অগ্নিকাণ্ডে ৪টি বসতবাড়ী ভস্মীভূত ॥ ১০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি

দুর্নীতি দমনকে আন্দোলন হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করতে হবে

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা সকল স্তরে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও দমনে সরকারের ’জিরো টলারেন্স’- নীতিতে অটল থাকার কথা উল্লেখ করে বলেছেন, দুর্নীতির বিষবৃক্ষ সম্পূর্ণ উপড়ে ফেলে দেশের প্রকৃত আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য একটি স্থায়ী সুশাসনভিত্তিক প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তবে দুর্নীতি প্রতিরোধে ব্যক্তি পর্যায়ে কর্তব্যনিষ্ঠা ও সততা, তথা চরিত্রনিষ্ঠা খুব দরকার। এজন্য বিদ্যমান আইনকানুন, নিয়মনীতির সঙ্গে দুর্নীতি দমনকে একটি আন্দোলন হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করতে হবে। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য পনির উদ্দিন আহমেদের প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, সকল স্তরে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও দমনে সরকার জিরো টলারেন্স নীতিতে অটল ও বহুমাত্রিক কাজ করছে। ফলে এক দশক আগের তুলনায় দুর্নীতি অনেকাংশে কমে এসেছে । প্রধানমন্ত্রী এ সময় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর একটি বক্তব্য’র উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন- ’নেশন মাস্ট বি ইউনাইটেড এগেইনস্ট করাপশন। পাবলিক ওপিনিয়ন মবিলাইজ না করলে শুধু আইন দিয়ে করাপশন বন্ধ কর যাবে না।’ বর্তমান সরকার এ লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তবে কেবল আইন প্রয়োগ ও শাস্তি প্রদানের মাধ্যমে দুর্নীতি নির্মূল করা সম্ভব নয়, তার জন্য প্রয়োজন রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক ক্ষেত্রে একটি আন্দোলন গড়ে তোলা, যতে নাগরিকগণ চরিত্রনিষ্ঠ হয়, রাষ্ট্রীয় ও ব্যক্তিমালিকানাধীন ও সুশীল সমাজের প্রতিষ্ঠাসমূহে শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠা পায়।
দুর্নীতি প্রতিরোধে মানুষকে নৈতিক জীবন-যাপনে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারও রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় সকল কাজে আত্মশুদ্ধি ও চরিত্রনিষ্ঠার উপর সবিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছে। বর্তমান সরকার ২০০৯ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর হতে এ পর্যন্ত দেশ থেকে দুর্নীতিমুক্ত করার লক্ষ্যে এবং সকল স্তরে দুর্নীতি রোধকল্পে বেশকিছু আইন প্রণয়ন করেছে। দুর্নীতি ও অনিয়মের উৎসমুখগুলোর বন্ধ করার লক্ষ্যে অনলাইনে টেন্ডারসহ বিভিন্ন সেবা খাতে তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তিনি বলেন, দুর্নীতি হ্রাসে সরকার সচেষ্ট থাকার কারণে বর্তমান সরকারের আমলে অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন প্রভাবমুক্ত হয়ে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সরকারের দুর্নীতি বিরোধী কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে বিগত ১০ বছরে দুর্নীতি দমন কমিশন কর্তৃক ১৩ হাজার ২টি অভিযোগের অনুসন্ধান, ৩ হাজার ৫০৯টি মামলা রুজু এবং ৪ হাজার ৪০৭টি চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।

তিন কোটির বেশি ভ্যাকসিন ক্রয়ের ব্যবস্থা সম্পন্ন: সরকারদলীয় সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলাম টিটুর প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, যথাসময়ে করোনাভাইরাসের টিকা প্রাপ্তির বিষয়ে সরকার শুরু থেকেই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সরকার ইতিমধ্যে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট ও বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে আক্সফোর্ড/অ্যাস্ট্রাজেনেকা উদ্ভাবিত কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের ৩ কোটি বা তার অধিক ডোজ ভ্যাকসিন ক্রয় করার ব্যবস্থা সম্পন্ন করেছে। এই ভ্যাকসিন চলতি জানুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহেই বাংলাদেশে আসবে বলে আশা করা যায়। তিনি জানান, বাংলাদেশ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু), কোভ্যাক্স ফ্যাসিলিটি হতে বিশ্বের ৯২টি দেশের মতো দেশের মোট জনসংখ্যার শতকরা ২০ ভাগ জনগোষ্ঠী তথা ৩ কোটি ৪০ লাখ মানুষের জন্য ৬ কোটি ৮০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন পাবে। ভ্যাকসিন বিতরণের ১ম পর্যায়ে দেশের জনসংখ্যার মোট দেড় কোটি (৮ দশমিক ৬৮ ভাগ) লোককে দুই সপ্তাহের ব্যবধানে মোট ২ ডোজ করে ভ্যাকসিন দেয়া হবে। দেশের ৬৪ জেলা ইপিআই স্টোর এবং ৪৮৩টি উপজেলা ইপিআই স্টোরে এই ভ্যাকসিন সংরক্ষণ করা হবে। সংসদ নেতা জানান, ইতিমধ্যে ভারতের উপহার হিসেবে ২০ লাখ টিকা পেয়েছে বাংলাদেশ। ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে ক্রয়কৃত ৫০ লাখ করোনার টিকা ঢাকা পৌঁছেছে। এই ৭০ লাখ টিকা সংরক্ষণ ও বিতরণের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। সিরামের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী আগামী ৬ মাসে সকল টিকার সরবরাহ পাওয়া যাবে। এর বাইরে প্রয়োজন মোতাবেক আরো টিকা ক্রয়ের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।

বঙ্গবন্ধু-বাপু ডিজিটাল প্রদর্শনী: সরকারি দলের সংসদ সদস্য একেএম রহমতুল্লাহ’র প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত বছরের ১৭ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ-ভারত প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে ভারত সরকারের উদ্যোগে দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বঙ্গবন্ধু-বাপু ডিজিটাল প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। এই প্রদর্শনী মূলত একটি বছরব্যাপী আয়োজন। বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন স্থানে ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক শহরে এ প্রদর্শনী আয়োজনের পরিকল্পনা গৃহীত হয়েছে। তিনি জানান, বাংলাদেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট ও ভারতের কলকাতায় এই ডিজিটাল প্রদর্শনী প্রদর্শিত হবে। দিল্লিতে ইতিমধ্যেই গত ১৭ই ডিসেম্বর উদ্বোধনী প্রচারণা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মূলত বাংলাদেশ-ভারত যৌথভাবে মুজিববর্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে ভারত পক্ষ এ প্রদর্শনীর আয়োজন করে। গত ১৭ই ডিসেম্বর উদ্বোধনী ভিডিও চিত্রে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ভারতের জাতির পিতা অহিংস আন্দোলনের নেতা মহাত্মা গান্ধীর রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনের বিভিন্ন পর্যায় ও রাজনৈতিক দর্শন বাস্তবায়নের বিভিন্ন ঘটনার ছবি ও ভিডিও’র মাধ্যমে সুনিপুণভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রদর্শনীর মাধ্যমে দুই মহান নেতার রাজনৈতিক আদর্শ এবং দুই দেশের ইতিহাসে তাঁদের অবিচ্ছেদ্য প্রভাব উভয় দেশের তরুণ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাই এ প্রদর্শনীর লক্ষ্য।

বিশ্ব থেকে অর্থনৈতিক সহযেগিতা প্রাপ্তি: বিরোধী দলের চিফ হুইপ মশিউর রহমান রাঙ্গার প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকারের সময়োপযোগী উদ্যোগ গ্রহণের ফলে কোভিড-১৯ এর কারণে সৃষ্ট বর্তমান সংকট মোকাবিলায় অর্থনৈতিক সহযোগিতা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশ, বহুপক্ষীয় উন্নয়ন ব্যাংক জাতিসংঘের বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা হতে যথেষ্ট সাড়া পাওয়া গেছে। তিনি জানান, অদ্যাবধি অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ, এমডিবি ও জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা হতে কোভিড-১৯ মোকাবিলায় মোট এক হাজার ৮১৭ দশমিক ৩৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ঋণ সহায়তার পরিমাণ এক হাজার ৬৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ও অনুদান সহায়তার পরিমাণ ১৭৭ দশমিক ৩৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। তিনি জানান, প্রাপ্ত প্রতিশ্রুতির মধ্যে এক হাজার ৫২০ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থ ছাড় হয়েছে। কোভিড-১৯ মোকাবিলায় আগামীতে বিশ্বব্যাংক, এডিবি ও ফ্রান্সের কাছ থেকে এক হাজার ৯১৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও, করোনার টিকার অর্থায়নসহ আরো বৈদেশিক সহায়তা প্রাপ্তির লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে। জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমামের প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, করোনাভাইরাসের বিস্তার পর্যবেক্ষণ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পর কীভাবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে শ্রেণি কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করবে তার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

সূত্র:  https://mzamin.com/article.php?mzamin=260559

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020 DailyAmaderChuadanga.com

 www.bdallbanglanewspaper.com

Design & Developed BY Creative Zoone IT