বুধবার, ২১ এপ্রিল ২০২১, ১০:৩৯ অপরাহ্ন

শিরোনাম
শংকরচন্দ্র ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুর রাজ্জাক ইন্তেকাল করেছেন কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় কৃষকের লাশ উদ্ধার গাংনীতে এক কৃষককে ফাঁসানোর অভিযোগ আজ ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর দিবস ॥ সীমিত পরিসরে পালনের প্রস্তুতি উপজেলা ভাইসচেয়ারম্যান টুপি সহিদুলের কিল-ঘুষিতে বৃদ্ধ ইস্রাফিল নিহত জুয়ার আসর থেকে নগদ টাকা-জুয়াখেলার সরঞ্জামসহ গ্রেফতার-২ বেগমপুরের হরিশপুর সড়কের গাছ চুরিকালে চোর পাকড়াও দামুড়হুদার ডুগডুগী কাঁচাবাজার তদারকী করলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিলারা চুয়াডাঙ্গায় করোনা পরিস্থিতিতে ভ্রাম্যমাণ সবজি ভ্যান কার্যক্রমের উদ্বোধন গাংনীর কাজীপুরে অগ্নিকাণ্ডে ৪টি বসতবাড়ী ভস্মীভূত ॥ ১০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি

মেহেরপুরে শীতের প্রকোপ হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপে হিমসিম খাচ্ছে চিকিৎসকরা

মেহেরপুর থেকে বিশেষ প্রতিনিধিঃ
ঘন কুঁয়াশা আর মৃদু শৈত্য প্রবাহের কারনে মেহেরপুর জেলায় শীতের প্রকোপ দিন দিন বাড়ছে। আর শীত বাড়ার সাথে সাথে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালসহ জেলার বিভিন্ন চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোতে বাড়ছে শ্বাসকষ্টজনিত রোগীর চাপ। অ্যাজমা, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, অ্যালার্জি, সর্দি-কাশিসহ শীতজনিত নানা অসুখের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক রোগীর চাপে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। মেহেরপুরের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে বহির্বিভাগে এখন রোগীর চাপ বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশী। বর্তমানে ভর্তি রোগী ও আউটডোরে চিকিৎসা নেওয়া ৬০ শতাংশেরও বেশী শীতজনিত রোগে আক্রান্ত। আগে দৈনিক ৪০-৫০ জন সেবা নিলেও শীত বাড়ার সাথে সাথে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০০ জনেরও অধিক। আর হাসপাতালটিতে ভর্তি থাকা রোগীর ৬০ শতাংশই শীতজনিত রোগে আক্রান্ত। আর গত এক সপ্তাহে হাসপাতালটিতে রোগী ভর্তি হয়েছে দেড়’শ জন ঠান্ডাজনিত সমস্যা নিয়ে।
এ দিকে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার এম,কে রেজা জানান, দুই সপ্তাহে হাসপাতালটিতে প্রায় দুই শতাধিক শীতজনিত শ্বাসকষ্ট, ডাইরিয়া অ্যালার্জি সর্দি কাশি নিয়ে ভর্তি হয়েছেন। মুজিবনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্যমতে গত এক সপ্তাহে সেখানে ৫০/৬০ জন রোগী শীত জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন।
মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতলের তথ্যানুযায়ী প্রতিদিন গড়ে ৩০-৩৫ জন নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছেন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ী যাচ্ছে ২০-২৫ জন। গতকাল মঙ্গলবার ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ১০ বেডের বিপরীতে ৩২ জন, পুরুষ ও শিশু ওয়ার্ডে ৪০ বেডের বিপরীতে ৯৮ জন, মহিলা ও গাইনি ওর্য়াডে ৪০ বেডের বিপরীতে ৮৫ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন। নতুন রোগীদের মধ্যে বেশির ভাগই শিশু ও বৃদ্ধ। তাই শীতে বাড়তি সতর্কতারও পরামর্শ চিকিৎসকদের।
মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালটি ১০০ শয্যার থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার বয়স হয়েছে প্রায় ১ যুগেরও বেশি। অথচ, পর্যাপ্ত জনবল যেমন নিয়োগ দেওয়া হয়নি, তেমনি সরঞ্জাম এখনো পৌঁছায়নি হাসপাতালে। এতে রোগীর সংখ্যা যে হারে বাড়ছে তাতে চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। হাসপাতালে পুরুষ ওয়ার্ডটি করোনা ওয়ার্ড করায় পুরুষ রোগীদের শিফট করা হয়েছে শিশু ওয়ার্ডে এতে রোগীর চাপে পা ফেলার জায়গা নেই সেখানে।
হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. আশীষ কুমার দেবনাথ বলেন, কদিন আগেও হাসপাতালে রোগীর চাপ কম ছিল। কিন্তু দুয়েক দিন ধরে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। আবহাওয়াজনিত কারণে মানুষরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
হাসপাতালের কনসালটেন্ট (শিশু) ডা. মাহবুবা তাজমিলা বলেন, ঠান্ডা জনিত সর্দি-কাশি, ডায়রিয়া, এলার্জি, একিউট ব্রঙকিউলাইটিস, নিউমোনিয়া ইত্যাদি রোগের প্রকোপ এখন বেশি। বিশেষ করে বয়স্ক ও শিশুরা এসব রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।
আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মকলেছুর রহমান বলেন, বর্তমানে হাসপাতালে রোগীর চাপ একটু বেশি। প্রতি বছরই এই সময়টাতে মানুষ বিভিন্ন রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। আমাদের জনবল সংকট, তারপরও চেষ্টা করছি যাতে রোগীরা সঠিক সেবা পায়।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালে সিনিয়র কনসালটেন্ট মেডিসিন, শিশু, সার্জারী, কার্ডিওলজি, জুনিয়র অর্থ সার্জারি, চক্ষু, গাইনি, এনেসথেসিয়া, প্যাথলজি, রেডিওলজি, চর্ম ও যৌন, আরএমও, রেডিওলজিস্ট, প্যাথলোজিস্ট, মেডিকেল অফিসারসহ অন্যান্য পদে ৪২টি সৃষ্ট পদ থাকলেও আছে মাত্র ১৭ জন। ফাঁকা রয়েছে ২৫টি পদ। এদের মধ্যে ১১ জন মেডিকেল অফিসারের মধ্যে রয়েছেন মাত্র দু’জন। সংকট আর সমস্যা নিয়েই হাসপাতালটিতে চিকিৎসা সেবা চালু রাখা হয়েছে। তবে জনবল কম থাকলেও রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্ট করছি।

 

 

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020 DailyAmaderChuadanga.com

 www.bdallbanglanewspaper.com

Design & Developed BY Creative Zoone IT