বুধবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২২, ১০:৫৪ অপরাহ্ন

চুয়াডাঙ্গার ডিঙ্গেদহে কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া লাগিয়ে একই জমিতে ৩ ফসলের আবাদ করে বদলে গেছে কৃষক দোয়াল্লিন মোল্লার ভাগ্য

আহসান আলম:

গতানুগতিক চাষাবাদ দিয়ে লাভজনক বাণিজ্যিক ফসল আবাদের নতুন নতুন শষ্যবিন্যাসে চাষ করেন চুয়াডাঙ্গার সদর উপজেলার ডিঙ্গেদহের হাটখোলা গ্রামের কৃষক দোয়াল্লিন মোল্লা। আগাছা দমন ও আদ্রতা ধরে রাখতে ব্যবহার করেন মালচিং পেপার, কলার মোচাতে ব্যবহার করেন ব্যাগিং প্রযুক্তি, রয়েছে পোকা দমনে ফেরোমন ফাঁদ। প্রশিক্ষিত আধুনিক কৃষক হিসেবে ইতোমধ্যেই তিনি এলাকায় ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছেন। এবার একই জমিতে একসাথে তিনটি লাভজনক ফসল আবাদ করে তিনি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
সরেজমিনে ফসলের মাঠ ঘুরে দেখা যায় একই জমিতে তিনটি ফসল। কয়েকজন কৃষি শ্রমিক মরিচ তুলছেন আর দোয়াল্লিন মোল্লা কলার মোচায় ব্যগিং করছেন। প্রতি সারি কলা গাছের মাঝ বরাবর সবুজ কার্পেটের মত একাঙ্গী।
দোয়াল্লিন মোল্লা বলেন, জমিতে একই ফসল আবাদ না করে বিভিন্ন রকমের ফসল আবাদ করছি। একটা জমিতে যেমন আছে লাউ, আবার অন্য জমিতে মাশকলাই, আলু, বেগুন। আর ২৫ শতক জমিতে আবাদ করেছি একসাথে তিন ফসল। মোবাইল ফোনে ইউটিউওবে কৃষি বায়োস্কোপের ভিডিওতে দুই বছর আগে পেয়ারা বাগানে দুই সারির মাঝখানে একাঙ্গীর আবাদ করা দেখি। এই বছর কৃষি অফিসের পরামর্শে ও নিজে ঝুঁকি নিয়ে কলা, মরিচ ও একাঙ্গী আবাদ শুরু করি। প্রথমে মনে হচ্ছিলো তিনটি ফসল একসাথে হবে না, এখন দেখছি সবগুলোই ভাল হয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার মরিচ বিক্রি করা হয়ে গেছে আরো বিক্রি হবে। ৫০-৬০ মণ একাঙ্গী পাওয়া গেলে ২ হাজার টাকা মণ হিসেবে সেখান থেকে ১ লাখ টাকার বেশি বিক্রি হবে। কলা বিক্রি করে প্রায় ২ লাখ টাকার বেশি পাওয়া যাবে বলে আশা করা যায়। কলা গাছের চারা বিক্রি করেও পাওয়া যাবে ১৫-২০ হাজার টাকা।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ডিঙ্গেদহ হাটখোলা বাজারের আনোয়ার হোসেন মোল্লার ছেলে দোয়াল্লিন মোল্লা। কৃষি পরিবারের সন্তান হওয়ার কারনে ছোটবেলা থেকেই বাবার সাথে কৃখিকাজে যুক্ত থাকেন তিনি। ২০০৩ সালে পরিবারের সাথে পৃথক হয়। বাবার পৈত্রিক সুত্রে পাওয়া দেড়বিঘা জমি নিজের ভাগে পড়ে। সেই যে পথচলা শুরু। পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। পরিশ্রম আর লক্ষ্য থাকলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ সত্যিই যে সফল হয় তারই প্রমান দিলেন তিনি। বর্তমানে তিনি ৮ বিঘা জমির মালিক এবং সব জমিতে তিনি বিভিন্ন ধরনের ফসলের আবাদ করেন। চলতি মরসুমে লাউ, মিষ্টিকুমড়া, আলু, রসুন, একাঙ্গী, ঝাল, কড়োলা, মাস কলাই, ফুলকপি, বাঁধাকপি, ফিলিপাইনের গেন্ডারীর আবাদ করেছেন দোয়াল্লিন মোল্লা। শুধু সব্জির আবাদ করেই থেমে থাকেনি তিনি। তার জমির চার পাশে আছে আম, কাঠাল, লিচু মেহগনির গাছ।
দোয়াল্লিন মোল্লা আরও বলেন, আমি যে ফসলের আবাদ করি তার সবই নিরাপদ খাদ্য। চলতি মরসুমে একই জমিতে উচ্চ মূল্যের ৩ টা ফসল আবাদ করে প্রায় ১০ লাখ টাকা লাভ করেছেন তিনি।
আলুর আবাদ শেষ হলে পটলের চারা প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে, চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার কৃষক দোয়াল্লিন মোল্লার এ ধরনের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সাদিকুর রহমান ও সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তালহা জুবায়ের মাসরুহসহ কৃষি সম্প্রসারন অধিদফতরের অন্যান্য কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে তিনি সেখানে পরিদর্শনে যান।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020 DailyAmaderChuadanga.com এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি