বুধবার, ১৬ Jun ২০২১, ০৩:৩৯ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
সাংবাদিক জনির মুক্তির দাবিতে মেহেরপুরে মানববন্ধন আজ প্রিয় ঋতু বর্ষার প্রথম দিন চুয়াডাঙ্গায় স্বাস্থ্য সচেতনতার বিভিন্ন প্রচারণামূলক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত মেহেরপুরে কোলড্রিংস ভেবে বিষপানে শিশুর মৃত্যু মেহেরপুরের ৩টি গ্রাম লকডাউন ঘোষণা, রাজশাহীগামী বিআরটিসি বাস বন্ধ চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় ১৪দিনের সর্বাত্মক লকডাউন ঘোষণা চুয়াডাঙ্গায় নতুন করে ৫০ জনের করোনা শনাক্ত চুয়াডাঙ্গায় ভূমি সেবা সপ্তাহ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠিত ঝিনাইদহের শৈলকুপায় প্রতিবন্ধী সন্তান নিয়ে বিপাকে প্রতিবন্ধী পিতা, চান আর্থিক সহায়তা কালীগঞ্জের শাহীন হত্যার প্রধান আসামী গ্রেফতার

দামুড়হুদায় এ আর মালিক সীডস্ প্রাইভেট লিঃ’র ফুলকপি’র বীজ কিনে বিপাকে কৃষক: লুকোচুরীর সমাধান হবে কবে?

ফাইল ফটো

ফলোআপ

দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি:

দামুড়হুদার মজলিসপুর গ্রামের কৃষকেরা এ আর মালিক সীডস্ প্রাইভেট লিমিটেডের কাছে ফুলকপি’র বীজ কিনে বিপাকে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। দামুড়হুদা উপজেলার অন্তর্ভুক্ত মজলিসপুর গ্রামের সাধারণ কৃষকরা তাদের জমিতে ফুল কপি লাগানোর জন্য বীজ কিনতে পাশ্ববর্তী মেহেরপুর জেলার বড় বাজারে অবস্থিত আল্লাহর দান বীজ ভান্ডার ও তাঈম এগ্রো সীডের দোকানে যান সে সময় এ আর মালিক সীড এর পরিবেশক মেহেরপুর বড়বাজারে প্রোঃ দয়াল রানা এ আর মালিক সীডস্ প্রাইভেট লিমিটেডের WHITE  STONE এর SAKATA সীডস্ বীজ ভালো হবে বলে কৃষকদেরকে বীজ কিনতে উৎসাহী করলে মজলিসপুর গ্রামের প্রা২০/২৫ জন কৃষক প্রায় ১৪০ প্যাকেট বীজ ৫৫০ টাকা দরে কেনেন। কৃষকরা তাদের মাঠের জমিতে ওই কোম্পানীর বীজ দিয়ে বেড তৈরীর ৩০/৪০ দিনের মধ্যে বেডেই ফুলকপির গুটি বেরতে দেখেন এবং ফুলকপি ওজন হয় ৫০-১০০ গ্রামের মতো। সাধারণত বেডে থাকার ৬০ দিন পর চারা রোপন করার কথা কিন্তুু দেখা গেছে ৩০-৪০ দিন পরই কপি বেরিয়ে যায়। বীজ কিনে ফুল বেরোনোর পর ফলন না হওয়ায় দিশেহারা কৃষকেরা। উপজেলার মজলিসপুর গ্রামের কৃষক রিপন ৫, হয়রত ৫, আশা আলী ৪, আনাস ৩, ছাদ আলী ৬, সুরুজ ১৩, আবু সাঈদ ৪, মাহাফুজ ২, শান্তি ৩, মামুন২,আজাদ ৩, কালা চাঁদ ২, রাজন ৬, রাকিব ২ প্যাকেট সহ আরো প্রায় ৫ জন কৃষক বীজ কিনে চরম বিপাকে পড়েন।
গত ২৯ ডিসেম্বর কৃষি অফিসার বরাবর অভিযোগ করেন, এর প্রেক্ষিতে এ আর মালিক সীডস্ প্রাইভেট লিমিটেডের এরিয়া ম্যানেজার ( মার্কেটিং ডেভেলপমেন্ট) আব্দুল হালিম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর দামুড়হুদায় কৃষি অফিসে উপস্থিত থেকে আসস্ত করে বলেন কৃষকদের সাথে মাঠে যেয়ে সরেজমিন তদন্ত করে দেখার পর প্রকৃতি কৃষকদের সাথে কথা বলে ডিলারের মাধ্যমে সমাধানের কথা বললেও বিভিন্ন সময় কাল ক্ষেপন করে কোম্পানির প্রতিনিধিরা জানান আমাদের কোম্পানির বীজ কৃষকরা যে পরিমানে ক্রয় করেছেন সে পরিমানের দাম ক্ষতি পূরণ হিসেবে দেওয়া হবে বলে জানালে, কৃষকরা তাতে রাজি হয় নি। কৃষকদের দাবী আমরা নিজ ও পরের জমিতে চাষ করি, সেখানে দেখা যাচ্ছেন আমাদের সার – তেল, জমির খরচ, শ্রমিক খরচ দিয়ে অনেক খরচ হয়ে যায়। অতচ কোম্পানিটি আমাদের কে শুধু মাত্র বীজের দাম দেওয়ার কথা বলেন তাতে আমরা রাজি নয়। যে কৃৃষক ২ প্যাকেট বীজ কিনে লাগিয়েছেন তাকে শুধু ২ প্যাকেট বীজের দাম দেওয়া হবে বলেন। আমাদের ১ বিঘা জমিতে শ্রমিক, পানি, সারের দাম হিসাব করলে কত খরচ হয় সেটা কৃষকরাই বোঝেন। আমাদের দামুড়হুদা কৃষক সমাজের অভিভাবক কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মনিরুজ্জামানের কাছে আমাদের অভিযোগ দেওয়া আছে। আমাদের যে পরিমানের ক্ষতি হয়েছে তা যেন আর কোন কৃষক ভাইদের ক্ষতি না হয় সেজন্য এধরণের বীজ যাতে বাজারজাত না করতে পারেন এবং কৃষক ও কৃষি ধ্বংস করে কেউ যেন বেশি মুনাফা অর্জন করতে না পারেন সে বিষয় টি যথাযথ কর্তৃপক্ষের দেখার জন্য দাবি জানিয়েছেন কৃষকরা।
উপজেলার লক্ষীপুর ব্লকে’ র উপ- সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বজলুর রহমান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বরাবর দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত ২৯ ডিসেম্বর বিকাল ৩ টার দিকে ফুলকপি আবাদ কারী কৃষকদের মৌলিক অভিযোগের ভিত্তিতে কলাবাড়ী মজলিসপুর গ্রামের ১৫ জন কৃষকের জমি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন কালে দেখেন কপির বয়স পূর্ণ না হওয়ার আগেই ফুল কপির গাছে ফুল এসে গেছে। কৃষকদের নিকট থেকে জানতে পারি যে,এ আর মালিক সীড কোঃ লিঃ এর হোয়াইট স্টোন জাতের তাঁরা বপন করেছে।বিক্রেতাদের কাছ থেকে বীজ গুলি ক্রয় করে সেপ্টেম্বর মাসের শেষে এবং অক্টোবর মাসের শেষের দিকে রোপন করা হয়। বিক্রেতা তাদের বলে এই বীজ বপন করলে ফুলকপির ভালো হবে। কলাবাড়ী ব্লকের মজলিসপুর গ্রামের ১৫ জন কৃষকের ৬.৬৬( একর) জমির ফুল কপি সম্পূর্ণ রুপে ক্ষতি গ্রস্থ হয়,যাহার আনুমানিক ক্ষতির পরিমান ৮ লক্ষ টাকার পরিমান।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মনিরুজ্জামান বলেন উপজেলার মজলিসপুর গ্রামের কৃষকরা কপির বীজ ক্রয় করে ফলন না হওয়ায় কৃষকেরা স্ব-শরীরে হাজির হয়ে ২৯ ডিসেম্বর অভিযোগ করেছিলেন, বিষয় টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখেছি।
উল্লেখিত বিষয় টি তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বজলুর রহমানকে সরেজমিন তদন্ত পূর্বক রিপোর্ট দেওয়ার জন্য বলা হয়েছিলো। মজলিসপুর গ্রামের কৃষক ভাইদের কি পরিমান জমিতে ফুল কপি রোপন করা হয়েছিলো তা সরোজিনী গিয়ে তদন্ত পূর্বক গত পরশু রবিবারে আমি তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেয়েছি। সেখানে দেখা গেছে কৃষকদের ৬.৬৬ একর জমিতে লাগানো ফুল কপির ক্ষতি হয়েছে। কোম্পানীর প্রতিনিধিরা আমাদেরকে জানিয়েছিলেন আমরা কর্তৃপক্ষের নিকট কথা বলে ডিলারদের মাধ্যমে কৃষকদের নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করবো। যেহেতু তারা বিষয়টি কৃষকদের সাথে সমাধানে আসতে পারেন নি, এজন্য তদন্ত প্রতিবেদন টি আমরা যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করবো।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020 DailyAmaderChuadanga.com

 www.bdallbanglanewspaper.com

Design & Developed BY Creative Zoone IT