মঙ্গলবার, ২৭ Jul ২০২১, ০৫:৩৮ পূর্বাহ্ন

দামুড়হুদার কার্পাসডাঙ্গায় রায়সা বিক্সসে চলছে অবৈধভাবে কাঠ পোড়ানোর উৎসব: হুমকীর মুখে পরিবেশ দূষণ ও বনজ সম্পদ

ষ্টাফ রিপোর্টার: দামুড়হুদায় ইট পোড়ানোর মহোৎসব উপলক্ষে বনজ সম্পদ হুমকীর মুখে। আইন লঙ্ঘন করে ভাটাতে জ্বালানী হিসেবে নির্বাচনে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে পোড়ানো হচ্ছে কার্পাসডাঙ্গার রায়সা’র ইট ভাটায়। কাঠ পোড়ানোর মহোৎসব চললেও সংশ্লিষ্টরা নিচ্ছেন না কোন পদক্ষেপ। প্রতিনিয়ত অবাধে কাঠ দিয়ে ইট পোড়াচ্ছে রায়সা বিক্সস নামের ইট ভাটাটি।
জানা যায়, সরকারী নির্দেশনা উপেক্ষা করে অবাদে কাঠ দিয়ে ইট পোড়ানো হচ্ছে দামুড়হুদার কার্পাসডাঙ্গার রায়সা বিক্সস। প্রতিদিন হাজার হাজার মন কাঠ কিনে রেখেছেন ইট ভাটাটি। কঠের দাম বেশী ও দারিদ্র্যতার অভাব হওয়ায় অনেক বাগান মালিক ও বাড়ীতে লাগানো ফলজ -বনজ বাগান কেটে বিক্রি করে দিচ্ছেন কাঠ ব্যবসায়ীদের নিকট। সে সকল কাঠ ব্যবসায়ীরা কিনে ইট ভাটায় বিক্রয় করছেন। অথচ এক সময়ে দেখা যেতো একটি গাছ বেঁচে গ্ররামে’র দারিদ্র্য পরিবারের সন্তানের লেখা পড়া, বিবাহসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সম্পন্ন করার কাজের সহায়ক ভূমিকা পালন করতেন। গ্রামের মাঠ ও বসত ভিটায় ফলজ-বনজ ও ঔষধি গাছ লাগাতো সে সময়, চোখে পড়তো গাছের সারিবদ্ধতা যা এখন আর চোখে পড়েন না। গাছ বড় হবার আগেই বিশেষ করে ফলজ ও বনজ কাজ কেটে ফেলায় বিলুপ্ত হচ্ছেন বনজ সম্পদ। আম, খেজুর বাগানের সাথে সাথে কেটে ফেলা হচ্ছে মেহুগনি, মহানিম, শিশু, ইপিলিপিলসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ-বনজ ও গাছ। এভাবে ফলজ ও বনজ গাছ কাটার ফলে পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন পরিবেশ বিদরা। এছাড়া রায়সা বিক্সস নামের ইট ভাটাটি গড়ে উঠেছে ফসলি জমির মাঝখাঁনে। এই ইট ভাঁটার আশে-পাশে রয়েছেন ত্রি-ফসলি জমি, রয়েছে বিভিন্ন ফসলের সমাহার।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ ক’একজন কৃষক আমাদের এ প্রতিনিধিকে অভিযোগ করে বলেন, ইট ভাটাটির কারনে আমাদের জমির উর্বর শক্তি দিন দিন হাস্র পাচ্ছেন কমে যাচ্ছে, ফলনও।
ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ অনুযায়ী, হাইব্রিড হফম্যান, জিগজ্যাগ ও পার্টিক্যাল শ্যাফট কিলন পদ্ধতির চিমনি বা পরীক্ষিত নতুন প্রযুক্তিতে পরিবেশে বান্ধব ইটভাটা স্থাপন করতে হবে। এ ছাড়া ইট পোড়ানোর কাজে জ্বালানি কাঠ ব্যবহার করলে তিন বছরের কারাদণ্ড এবং অনধিক তিন লাখ টাকা জরিমানার বিধান ও রয়েছে আইনে।
এ বিষয়ে দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মনিরুজ্জামান বলেন, ফসলি জমির আশেপাশে ইটভাটা থাকলে ইট ভাটার আগুনের তাপে ফসলি জমির টপ সয়েল নষ্ট হয় তেমনি আবার চরম ভাবে পরিবেশের ভারসাম্যের উপর প্রভাব ফেলে। যার ফলে জমি তার উর্বরতা শক্তি হারিয়ে ফেলে। ফসলি জমির আশেপাশে এভাবে ইট ভাটা গড়ে উঠায় কৃষির উপর বড় ধরণের প্রভাব পড়ছেন। উপজেলাতে যে ভাবে কৃষি জমির মাটি ও গাছ কর্তন করে ইট ভাটায় পোড়ানোর হচ্ছে তাতে করে আগামীতে কৃষক ও কৃষি জমির উপর চরম প্রভাব পড়বে।
দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিলারা রহমান বলেন, কাঠ পোড়ানোর বিষয়টি আমি আবগত নই। ইট ভাটায় কাঠ পোড়ানা আইনত অপরাধ। যদি কেউ কাঠ দিয়ে ইট পোড়ায় তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020 DailyAmaderChuadanga.com

 www.bdallbanglanewspaper.com

Design & Developed BY Creative Zoone IT