রবিবার, ২৫ Jul ২০২১, ০৭:০৮ অপরাহ্ন

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে জনবল সংকট ও আসনসংখ্যা সীমিত হওয়ায় চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ

আহসান আলম:

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নারী-পুরুষ ও শিশুসহ বিভিন্ন রোগীর উপচেপড়া ভীড় লক্ষ করা গেছে। ঠান্ডাসহ অ্যাজমা ও শ্বাসকষ্ট জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। চুয়াডঙ্গা সদর হাসপাতাল জেলা একমাত্র হাসপাতাল হওয়ায় এবং সেবার মান ভালো হওয়ার কারণে পার্শ্ববতী জেলার অনেকে এখানে চিকিৎসা নিতে আসে। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আন্তঃবিভাগ, বহিঃবিভাগ ও জরুরী বিভাগ মিলে প্রতিদিন ১ হাজারেরও বেশী রোগীকে এখানে চিকিৎসা দেয়া হয়। আসনসংখ্যা সীমিত হওয়ার কারণে হাসপাতালের ওয়ার্ডের মেঝেতে ও বারান্দায় ঠাই নিতে হচ্ছে রোগীদের। প্রচুর রোগীর চাপ ও জনবল সংকট হওয়ায় চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশীম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
সরেজমিনে গতকাল বুধবার চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড এবং জরুরী বিভাগ ঘুরে দেখা গেছে, আন্তঃবিভাগের পুরুষ ও নারী মিডিসিন এবং ডায়রিয়া ও শিশু ওয়ার্ড মিলে মোট ভর্তি ছিলো ১৬১ জন রোগী। এরমধ্যে পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডে ৫৬ জন, মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে ৪০ জন, ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ৪৩ জন এবং শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলো ২২ জন। গতকাল বহিঃবিভাগ ও জরুরী বিভাগে নারী-পুরুষ ও শিশুসহ মোট চিকিৎসা নিয়েছে ৬৭০ জন। এর মধ্যে বহিঃবিভাগে পুরুষ ১৯৩ জন, নারী ১৬৭, শিশু ১২৯ জন এবং জরুরী বিভাগে নারী-পুরুষ ও শিশুসহ চিকিৎসা নিয়েছে ১৮১ জন রোগী। এরমধ্যে বেশিরভাগই ঠান্ডা ও শ্বাসকষ্ট জনিত রোগে আক্রান্ত এবং এদের মধ্যে বেশীরভাগই বয়স্ক ও শিশু রোগী।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে আসনসংখ্যা সীমিত হওয়ায় রোগীদের ওয়ার্ডের মেঝেতে, বারান্দা ও সিড়িতে অবস্থান করতে দেখা গেছে। জনবল সংকটের কারনে রোগীদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। চিকিৎসকরা বলছেন রাতে ঠান্ডা এবং দিনে গরম হওয়ার কারনে মানুষের মধ্যে বেশি সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। পৌষের মাঝামাঝি সময়ে ঠান্ডা একটু বেশী পড়লেও বর্তমানে আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারনে মানুষ সকালে যখন বাড়ি থেকে বাইরে বের হচ্ছে তখন তার শরীরে গরম কাপড় থাকছে। কিন্তু দিনের তাপমাত্রা তুলনামুলক বেশী হওয়ার কারনে তার শরীর ঘামছে এবং ঘাম শরীরে বসে ঠান্ড রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। আবার রাতে তাপমাত্রা দিনের চেয়ে কিছুটা কম হওয়ার কারনে শীতের তীব্রতা বেশি হচ্ছে। সে কারনেও ঠান্ডা, কাশি ও স্বাশকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। আর যারা এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে তাদের মধ্যে বেশিরভাগই বয়স্ক ও শিশুর সংখ্যা বেশী।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের কার্ডিওলজি কনসালটেন্ট ডা. আবুল হোসেন বলেন, দিনের তাপমাত্রা কিছুটা বেশী থাকলেও রাতে কনকনে ঠান্ডা। এই ধরনের আবহাওয়ায় আমাদের সবসময় সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে বয়স্ক ও শিশুদের বেশি বেশী খোয়াল রাখতে হবে।
এদিকে, চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা. এএসএম মারুফ হাসান গতকাল বুধবার সদর হাসপাতাল পরিদর্শনে যান। এ সময় তিনি নিজেই রোগী দেখেন এবং তাদের শারীরিক খোঁজ খবর নেন।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020 DailyAmaderChuadanga.com

 www.bdallbanglanewspaper.com

Design & Developed BY Creative Zoone IT