বুধবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২২, ১১:৪৫ অপরাহ্ন

আলমডাঙ্গায় ইউনাইটেড মেডিক্যাল সেন্টারে সিজারিয়ান এক নবজাতকের মৃত্যু: ক্লিনিক সিলগালা

আলমডাঙ্গা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি:

আলমডাঙ্গা ইউনাইটেড মেডিক্যাল সেন্টারে আবারো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এবার সিজারিয়ান এক নবজাতকের পেট কেটে এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন রোববার বিকেলে ওই ক্লিনিকে গিয়ে সিলগালা করে দিয়েছেন। এর আগে দুপুরে চুয়াডাঙ্গা অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ আলমডাঙ্গার উপজেলা স্বাস্থ্য ও প,প কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
জানা গেছে, আলমডাঙ্গার ডাউকি ইউনিয়নের মাজু গ্রামের সাগর আলীর স্ত্রী রুমা খাতুনের প্রসব বেদনা শুরু হলে তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাবার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। এক পর্যায়ে তাকে আলমডাঙ্গার হাজী মোড়ের ইউনাইটেড মেডিক্যাল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের পরামর্শে ওইদিন দুপুরে দিকে প্রসূতির সিজার করানো হয়। অভিযোগ উঠেছে সিজারের সময় নবজাতকের পেট কেটে দিলে নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে যায়। এ অবস্থায় নবজাতককে একটি ঘরে রেখে কয়েক ঘণ্টা পর মায়ের কাছে দেওয়া হয়। রোগীর স্বামী সাগর আলীর অভিযোগ, তার সন্তানের পেট কেটে ফেলে রাতে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ আমার সন্তানকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করে। সেখানকার বিশেষজ্ঞ ডাক্তার জানান- তার সন্তানকে কোনোভাবেই বাঁচানো যাবেনা । ওইদিনি তাকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। শনিবার সন্ধ্যায় নবজাতকের মৃত্যু হয়।
ইউনাইটেড ক্লিনিক সেন্টারের মালিক উপসহকারী মেডিক্যাল অফিসার নাজমুল হক জানান, ডাক্তার আবু সালেহ ইমরান ও ডাক্তার নজরুল সিজার করেছেন। এখানে চিকিৎসকের কোন অবহেলা বা ত্রুটি নেই। জন্মের সময় ত্রুটির কারণে শিশুর নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে আসে। এটা কারো কিছু করার ছিল না।
এদিকে ভোক্তাভোগী অনেকেরই অভিযোগ এই ক্লিনিকে মাঝে মধ্যেই চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। গত বছর ৬ মার্চ এক প্রসুতির সিজার করার পর প্রসুতি মাতার মৃত্যুর ঘটনা ঘটলে রোগীর আত্মীয় স্বজন ক্লিনিক ভাংচুর করে। পরে চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন ইউনাইটেড ক্লিনিক বন্ধ করে দেন।
এদিকে শনিবার নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় আলমডাঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। এ ঘটনার বিষয়ে থানা পুলিশ গতকাল রোববার সকালে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেন। এদিকে নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় দায়েরকৃত অভিযোগের কারণে রবিবার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কনক কান্তি দাস ইউনাইটেড ক্লিনিক পরিদর্শন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাদী জিয়াউদ্দীন আহমেদ সাঈদ, থানার অফিসার ইনচার্জ আলমগীর কবির ।

এ বিষয়ে ডা: হাদী জিয়াউদ্দিন জানান, কয়েকজন রোগী রয়েছে। সে কারণে আগামি ৫ জানুয়ারি ক্লিনিকটি বন্ধ করে দেওয়া হবে। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে ২ দিন সময় দেওয়া হলেও বিকেলে চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন মারুফ হাসান ক্লিনিক পরিদর্শন করেন, তদন্ত শেষে তিনি অনিয়ম, নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনাসহ নানা ত্রুটির কারণে ক্লিনিক অনির্দিষ্ট কালের জন্য সিলগালা করে বন্ধ করে দেন।
এদিকে ওই ক্লিনিকে সিজারিূান রোগীর অপারেশন নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কর্তৃপক্ষ একেক সময় একেক জনের নাম বলায় প্রকৃত দোষী কে তা নিয়ে ধুম্রজালের সৃস্টি হয়েছে। ডাক্তার আবু সালেহ ইমরান অপারেশন করেছেন বলে জানানো হলেও তিনি তা অস্বীকার করে বলেছেন তিনি ওই রোগী অপারেশন করেননি। তার বিরুদ্ধে মিথ্যে অভিযোগ করা হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020 DailyAmaderChuadanga.com এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি