মঙ্গলবার, ২৭ Jul ২০২১, ১২:২৯ অপরাহ্ন

ঠান্ডার প্রাক্কালে খাদ্য

সিজনাল ঠান্ডা কমানোর উপায় হয়ত আমরা সবাই জানিনা। সুতরাং চিন্তার কোন কারণ নেই। কোন কোন খাদ্য খেলে আপনার দেহে ঠান্ডা প্রতিরোধ করার ক্ষমতা বাড়িয়ে দিতে পারে। সে হিসেবে আপনার খাদ্য তালিকায় এমন কিছু খাদ্য রাখুন যা আপনার দেহে ঠান্ডা প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দিতে পারে।
মধু: ব্যাকটেরিয়া সংক্রামনের কারনে গলা ব্যথা হতে পারে। মধু অ্যান্টিমাইক্রোরিয়াল সমৃদ্ধ যা এ ধরণের সংক্রামন পরিষ্কার করতে সহায়তা করে। শিশুদের কাশির ক্ষেত্রেও মধু উপযোগী কিন্ত্র বয়স যদি ১২ মাস কম হয় তবে না খাওয়ানো উচিত। মধু কাশির ওষধ হিসেবে ব্যবহার হয়।
আদা: এক ব্যাক্তি যদি এক কাপ গরম পানিতে ১-২ চামচ আদা কুচি সাথে অল্প মধু যোগ করে খালি পেটে সেবন করতে পারেন তাহলে তার ঠান্ডা লাগার ঝুকি কমে যায় এবং পেটের চর্বিও কমে যায়।
ডাবের পানি: ডাবের পানিতে সডিয়াম ও পটাশিয়াম নামক খনিজ উপাদান রয়েছে। ডায়রিয়া বা বমি ভাবের পরে শরীরকে হাইড্রেট করতে ডাবের পানি সহায়তা করতে পারে। ডাবের পনি চিনিযুক্ত নয়। সুতরাং ঠান্ডা লাগলে অনেকের পেটের সমস্যা দেখা দেয় তখন ডাবের পানি খাওয়া অনেক জরুরী।
চিকেন স্যুপ: মুরগির স্যুপকে কয়েকশত বছর ধরে ঠান্ডার প্রতিকারক হিসেবে খাওয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়। এতে ভিটামিন , খনিজ, ক্যালরি ও প্রোটিনযুক্ত খাদ্য হিসেবে খাওয়ার একটি সহজ উপায়। গবেষণায় দেখা গেছে, মুরগির স্যুপ কফ পরিষ্কার ক্ষেত্রে অত্যন্ত উপযোগী খাদ্য। ঠান্ডাজনিত রোগের জন্য মুরগির স্যুপ হচ্ছে সুপার ফুড।
মশলা চা/গ্রীন টি: ঠান্ডা বা ফ্লু উপসর্গ দেখা দিলে হাইড্রেটেড থাকা অত্যন্ত জরুরী। এক কাপ গরম পানিতে ২ গ্রাম হলুদ দিয়ে গুলিয়ে সেবন করলে গলা ব্যথা উপশমে সাহায্য করে। এছাড়া আদা চা বা সজনের পাতা চা অথবা লবঙ্গ দিয়ে লাল চা সেবন করলে বেশ উপকার হয়। গ্রিন চাও পান করতে পারেন। দুধ চা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এমন কি ক্যান্সারের হওয়ার সম্ভবনা থাকে দুধ চা পান করলে।
রসুন: রসুন দেহের সব ধারনের সমস্যার সমাধান দিতে পারে। এটি বহু শতাব্দি ধরে ঠান্ডার ওষুধি হিসেবে কাজ করে আসছে বলে জানা গেছে। এটি অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টিভাইরাল, অ্যান্টিফাংগাল সম্পন্ন যা ইমিউন সিস্টেমকে জাগ্রত করে। সুতরাং তরকারি রান্নার সময় পরিমানের থেকে একটু বেশি রসুন দিয়ে রান্না করলে তা খেলে বেশ ভাল উপকার পাওয়া যায়। এছাড়া মুড়ির সাথে/খালি পেটে হালকা গরম পানির সাথে ১ কোয়া রসুন প্রতিদিন খেতে পারেন।
সবুজ শাকসবজি: সবুজ শাকসবজি ঠান্ডা প্রতিরোধে অনেক ভাল ওষুধ। পালন শাক ও ব্রকলি পুষ্টির উপাদান অনেক বেশি। গাজর সুপার ফুড হিসেবে গাজর সিদ্ধ করে খেতে পারেন। গাজরে ভিটামিন ও মিনারেলস থাকায় ইহা খেলে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
ভিটামিন সি: সাইট্রাস জাতীয় ফল খেলে ঠান্ডা কাশির সমস্যার সমাধান হতে পারে। ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ খাবার রক্তে শেতরক্তকনিকার পরিমান বাড়ায় ও ঠান্ডা নিরাময়ে ভূমিকা রাখে। ভিটামিন-সি যুক্ত খাবারগুলো হলো-পেয়ারা, কমলা, লেবু, আমলকি, কাঁচা মরিচ।
টক দই: টক দই-এ আছে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ও খনিজ। ফলে টক দই খেলে ঠান্ডার উপশম পাওয়া যাবে। টকদই ফ্রিজে রেখে খাওয়া যাবে না। নরমাল অবস্থায় টক দই খেতে হবে।
বাদাম: বাদাম অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি খাবার। এছাড়া ভিটামিন-ই, বি৬, জিংক, ফোলেট বাদামে আছে। ফলে বাদাম খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। যদি ঠান্ডা লেগে যায় তবে বাদাম খাওয়া যাবে না। গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের মানসিক চাপ আছে তারা বাদাম খেয়েছে, তাতে মানসিক চাপ কমেছে।
পরিশেষ: আপনি মনে করতে পারেন সব খাদ্যই আপনাকে খাতে হবে প্রতিদিন, তা নয়। খাদ্যগুলোর মধ্য থেকে আপনাকে বেছে নিতে হবে কোন খাদ্য আপনার জন্য প্রয়োজন। সবগুলো খাদ্য আপনার জন্য প্রযোজ্য নাও হতে পারে। খাদ্যগুলো থেকে খাদ্য বেছে নিন, পরিমিত খাদ্য খান, শৃংখলার সাথে জীবন অতিবাহিত করুন, দেখবেন ঠান্ডাজনিত সমস্যা আপনার শরীরে আক্রান্ত করতে পারছে না।

লেখক:
পুষ্টিাবিদ উম্মে আতিকা মল্লিক আঁখি
পুষ্টিবিদ ও হেলথ্ এডুকেটর, চুয়াডাঙ্গা ডায়াবেটিক সমিতি চুয়াডাঙ্গা।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020 DailyAmaderChuadanga.com

 www.bdallbanglanewspaper.com

Design & Developed BY Creative Zoone IT