মঙ্গলবার, ২৭ Jul ২০২১, ১২:১৯ অপরাহ্ন

চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা নির্বাচন সম্পন্ন: নৌকা প্রতীকের জাহাঙ্গীর আলম মালিক খোকন মেয়র নির্বাচিত

কেন্দ্র থেকে কেন্দ্র ঘুরে আহসান আলম:

শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠ পরিবেশের মধ্যদিয়ে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল ৮ টা থেকে বেলা ৪টা পর্যন্ত একটানা ৮ ঘন্টা ইলেকট্রনিক ভোট মেশিন (ইভিএম)’র মাধ্যমে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম মালিক খোকন মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। গতকাল সোমবার দিনগত রাতে চুয়াডাঙ্গা জেলা নির্বাচন অফিসার ও রিটার্নিং অফিসার তারেক আহমেমদ বেসরকারী ভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন। ভোট কেন্দ্রে তেমন কোন বিছিন্ন ঘটনা না ঘটলেও আচরণ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে একজন প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট এবং মোটরসাইকেলের অপব্যবহার করার অপরাধে ২ জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া, বিচ্ছিন্ন অথবা অপ্রীতিকর তেমন কোন ঘটনা ঘটে নি।
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার ও পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেন।

                                              ২-৩-৪-৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর

চুয়াডাঙ্গা জেলা নির্বাচন অফিসার ও রিটার্নিং অফিসার তারেক আহমেমদ গতকাল সোমবার সন্ধায় তার কার্যালয়ে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানান, চুয়াডাঙ্গা পৌরসভায় মোট ভোটার সংখ্যা ৬৭ হাজার ৮শ’ ৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার সংখ্যা ৩২ হাজার ৮শ’ ১৮ এবং নারী ভোটার ৩৪ হাজার ৯শ’ ৯০ জন। মোট ভোট কেন্দ্র ৩৩টি এবং বুথ সংখ্যা ১শ’ ৯৩টি। এর মধ্যে ১ নং ওয়ার্ডে একজন সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থী মৃত্যুবরণ করার ওয়ার্ডটিতে মেয়র ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

                                                 ৬-৭-৮-৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর

সকাল ৮ টা থেকে ইভিএম’র মাধ্যমে বেলা ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের জাহাঙ্গীর আলম মালিক খোকন ২২ হাজার ৩শ’ ৩৯টি ভোট পেয়ে বেসরকারীভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মোবাইল ফোন প্রতীকের মজিবুল হক মালিক মজু পেয়েছেন ৭ হাজার ৬শ’ ৫৭ ভোট। এদিকে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম মনি পেয়েছেন ৬ হাজার ৫৬ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী তুষার ইমলান পেয়েছেন ৪ হাজার ৫শ’ ৯৭ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী কম্পিউটার প্রতীকের তানভীর আহমেদ মাশরিকী পেয়েছেন ৪শ’ ৫৩ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী নারিকেল গাছ প্রতীকের অ্যাডভোকেট মনিবুল হাসান পলাশ পেয়েছেন ৩শ’ ১ ভোট। জগ প্রতীকের আরেকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ ফারুক উদ্দিন আহম্মেদ পেয়েছেন ২শ’ ৪২ ভোট।
এদিকে, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২ নং ওয়ার্ডে ডালিম প্রতীকের আব্দুল আজিজ জোয়ার্দ্দার ১ হাজার ৪শ’ ৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী গাজর প্রতীকের মুন্সী রেজাউল করিম খোকন পেয়েছেন ১ হাজার ৬ ভোট। ৩ নং ওয়র্ডে পানির বোতল প্রতীকের মহলদার ইমরান ১ হাজার ২৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ডালিম প্রতীকের জাহিদ হোসেন জুয়েল পেয়েছেন ৫শ’ ৬৪ ভোট। ৪নং ওয়ার্ডে টেবিল ল্যাম্প প্রতীকের মাফিজুর রহমান মাফি ১ হাজার ৭শ’ ৬৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ডালিম প্রতীকের শেখ সেলিম পেয়েছেন ১ হাজার ৫শ’ ৯৫ ভোট, ৫নং ওয়ার্ডে ব্রিজ প্রতীকের মুন্সী আলাউদ্দিন আহম্মেদ ১ হাজার ৫শ’ ৭৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ডালিম প্রতীকের গোলাম মস্তফা শেখ মাস্তার পেয়েছেন ১ হাজার ২শ’ ৩০ ভোট। ৬নং ওয়ার্ডে পাঞ্জাবী প্রতীকের ফরজ আলী শেখ ২ হাজার ২শ’ ২৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আজাদ আলী পেয়েছেন ১ হাজার ৯শ’ ১২ ভোট, ৭নং ওয়ার্ডে পাঞ্জাবী প্রতীকের উজ্জল হোসেন ১ হাজার ৬শ’ ৩৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ব্লাক বোর্ড প্রতীকের সাইফুল আরিফ বিশ্বাস পেয়েছেন ১ হাজার ১শ’ ৬ ভোট। ৮ নং ওয়ার্ডে গাজর প্রতীকের সাইফুল ইসলাম ১ হাজার ৭শ’ ৩০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ব্লাক বোর্ড প্রতীকের ফিরোজ শেখ পেয়েছেন ১ হাজার ৯১ ভোট। ৯নং ওয়ার্ডে টেবিল ল্যাম্প প্রতীকের কামরুজ্জামান চাঁদ ৮শ’ ৯২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ব্রিজ প্রতীকের মফিজুর রহমান মনা পেয়েছেন ৫শ’ ৬৩ ভোট।
এছাড়া, সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ১ নং ওয়ার্ডে চশমা প্রতীকের শাহিনা আক্তার রুবী ৭ হাজার ২শ’ ৩৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আনারস প্রতীকের সুফিয়া খাতুন পেয়েছেন ২ হাজার ৪শ’ ৪৫ ভোট। ২ নং ওয়ার্ডে আনারস প্রতীকের সুলতানা আঞ্জু রত্না ৬ হাজার ৪শ’ ১১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী টেলিফোন প্রতীকের হাসিনা খাতুন পেয়েছেন ৪ হাজার ৬শ’ ৩৭ ভোট। ৩ নং ওয়ার্ডে চশমা প্রতীকের শেফালী খাতুন ৯ হাজার ২শ’ ৪৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জবাফুল প্রতীকের মোমেনা খাতুন পেয়েছেন ১ হাজার ৪শ’ ১১ ভোট।
চুয়াডাঙ্গা জেলা নির্বাচন অফিসার ও রিটার্নিং অফিসার তারেক আহমেমদ ফলাফল ঘোষণার সময় উপস্থিত সকলকে বলেন, নির্বাচনে জয়-পরাজয় থাকবেই। ফলাফল যাই হোক, সবাইকে সেটা মেনে নিয়ে একসাথে কাজ করতে হবে। আমাদের নীতিমালা অনুযায়ী নির্বাচন পরবর্তী আগামী ৪৮ ঘন্টা কোন ধরণের মিছিল, শোডাউন ও আনন্দ মিছিল করা যাবে না। যদি কেউ এই আইন অমান্য করেন,Ñ সে ক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020 DailyAmaderChuadanga.com

 www.bdallbanglanewspaper.com

Design & Developed BY Creative Zoone IT