মঙ্গলবার, ২৭ Jul ২০২১, ১২:৩৩ অপরাহ্ন

দামুড়হুদায় ফুলকপি’র বীজ কিনে বিপাকে কৃষকরা: ফলন না হওয়ায় দিশেহারা

Exif_JPEG_420

বিশেষ প্রতিনিধি:

দামুড়হুদার মজলিসপুর গ্রামের কৃষকেরা এ আর মালিক সীডস্ প্রাইভেট লিমিটেডের কাছ থেকে ফুলকপি’র বীজ কিনে জমিতে জমিতে চাষ-আবাদ করার পর ফলন ভালো না হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
জানা গেছে, দামুড়হুদা উপজেলার অন্তর্ভুক্ত মজলিসপুর গ্রামের সাধারণ কৃষকরা তাদের জমিতে ফুল কপি লাগানোর জন্য বীজ কিনার জন্য পাশ্ববর্তী মেহেরপুর জেলার বড় বাজারে অবস্থিত আল্লাহর দান বীজ ভান্ডার ও তাঈম এগ্রো সীডের দোকানে যান সেসময় এ আর মালিক সীড এর পরিবেশক মেহেরপুর বড়বাজারে প্রোঃ দয়াল রানা এ আর মালিক সীডস্ প্রাইভেট লিমিটেডের WHITE  STONE এর SAKATA সীডস্ বীজ ভালো হবে বলে কৃষকদেরকে বীজ কিনতে উৎসাহী করলে মজলিসপুর গ্রামের প্রায় ২৫/৩৫ জন কৃষক প্রায় ১৪০ প্যাকেট বীজ ৫৫০ টাকা দরে কেনেন। কৃষকরা তাদের মাঠের জমিতে ওই কোম্পানীর বীজ দিয়ে বেড তৈরীর ৩০/৪০ দিনের মধ্যে বেডেই ফুলকপির গুটি বেরতে দেখেন এবং ফুলকপি ওজন হয় ৫০-১০০ গ্রামের মতো। সাধারণ বেডে থাকার ৬০ দিন পর চারা রোপন করার কথা কিন্তুু দেখা গেছে ৩০-৪০ দিন পরই কপি বেরিয়ে যায়। বীজ কিনে ফুল বেরোনোর পর ফলন না হওয়ায় দিশেহারা কৃষকেরা। উপজেলার মজলিসপুর গ্রামের কৃষক রিপন ৫, হয়রত ৫, আশা আলী ৪, আনাস ৩, ছাদ আলী ৬, সুরুজ ১৩, আবু সাঈদ ৪, মাহাফুজ ২, শান্তি ৩, মামুন ২, আজাদ ৩, কালা চাঁদ ২, রাজন ৬, রাকিব ২ প্যাকেট সহ আরো ১০জন কৃষক বীজ কিনে চরম বিপাকে পড়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

উপজেলার মজলিসপুর গ্রামের ভুক্তভোগী রিপন, মাহাফুজ, আশা, আনাসসহ কৃষকরা কষ্টের সাথে আমাদের এ প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন আমরা দামুড়হুদা উপজেলার মজলিসপুর গ্রামের সাধারণ কৃষক আমাদের নিজ জমি সহ অন্যের কাছ থেকে লিজ নেওয়া জমিতে ফুল কপির বীজ মেহেরপুর জেলার বড় বাজারের দয়াল রানা’ র আল্লাহর দান বীজ ভান্ডার ও মেসার্স তাঈম এগ্রো সীড নামের দোকান থেকে প্রতি প্যাকেট ৫৫০ টাকা দামে কিনে আনি।কিনে আনার পর বীজ বেডে তৈরীর জন্য দেওয়া হলে বীজ দেওয়ার ৩০-৪০ দিন পর বেডেই চারা অনেক বড় ও কপির গুটি বেরিয়ে আসে, আবার আমাদের জমিতে লাগানো ফুলকপি’ র ওজন হয় ৫০-১০০ গ্রাম করে। ফলন না হওয়ায় অনেকে কৃষক তাদের জমি থেকে কপি গাছ কেটে ফেলেছেন।আমরা সবাই যে দোকান থেকে কপির বীজ কিনে নিয়ে এমন বিপদে পড়েছি সেই দোকানেও ফোন করে জানিয়েছি,দোকানদার আমাদের কোন পরামর্শ না দিয়ে উল্টো খারাপ ব্যাবহার করেন।অবশেষে আমাদের কষ্টের অর্জন করা টাকা নিয়ে বীজ কিনে অসহায় হয়ে পড়েছি। আমাদের গ্রামের প্রায় ৩৫-৪০ বিঘা জমিতে লাগানো হয়েছিল এ আর মালিক সীডস্ কোম্পানীর ফুলকপি’র বীজ, তাতে আমাদের প্রায় ২০-৩৫ লক্ষ টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে। আমরা গত পরশু বৃহস্পতিবার কপির চারা নিয়ে ২০জন কৃষক দামুড়হুদা উপজেলার কৃষক সমাজের আস্থা উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মনিরুজ্জামানের দপ্তরে হাজির হয়ে সার্বিক বিষয় খুলে বলে অভিযোগ করি। সে সময় দামুড়হুদা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মনিরুজ্জামান এর নিকট এ আর মালিক সীডস্ প্রাইভেট লিমিটেডের মার্কেট ডেভেলপমেন্টের এরিয়া ম্যানেজার আব্দুল হালিম ও মার্কেটিং ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার মহসিন কাজের জন্য আসেন। সে সময় স্যার আমাদের বিষয়টি তুলে ধরেন এবং কোম্পানির প্রতিনিধিরা বলেন কৃষকের মাঠে সরোজমিনে গিয়ে তদন্ত করে দেখার পর আমরা কৃষকদের সাথে কথা বলে একটা সমাধানে আসবো।
এ বিষয়ে এ আর মালিক সীডস্ প্রাইভেট লিমিটেডের এরিয়া ম্যানেজার (মার্কেটিং ডেভেলপমেন্ট) আব্দুল হালিম বলেন যে ঘটনার কথা কৃষক ভায়েরা বলছেন তেনটি হবার কথা নয়, এর পরও আমরা আগামী রবিবার উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মনিরুজ্জামানসহ ভুক্তভোগী কৃষকদের মাঠে যেয়ে সরেজমিন তদন্ত করে দেখার পর প্রকৃত বিষয়টি জানার মাধ্যমে কৃষকদের সাথে কথা বলে সমাধান করবো।
দামুড়হুদা উপজেলা কৃষক সংগঠনের সভাপতি শামসুল আলম জানান- উপজেলার মজলিসপুর গ্রামের প্রায় ৩৫-৪০ বিঘা জমিতে লাগানো ফুলকপি বীজ কিনে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, এতে করে কৃষকদের আর্থিক ভাবে প্রায় ২০ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা পরিমান ক্ষতি হতে পারেন বলে ধারণা করছি। সাধারণ কৃষকরা তাদের নিজের জমি ছাড়াও অন্যের জমি লিজ নিয়ে কষ্টের ফসল ফলিয়ে থাকেন,কৃষকদের এ ক্ষতি অপূরনীয়। গতপরশু কৃষকেরা দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে হাজির হয়ে কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মনিরুজ্জামানের নিকট মজলিসপুর গ্রামের ২০ জন কৃষক অভিযোগ করে তাদের ক্ষতির একথা বলেন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মনিরুজ্জামান বলেন- কপির বীজ ক্রয় করে ফলন না হওয়ার জন্য উপজেলার মজলিসপুর গ্রামের কৃষকেরা স্ব-শরীরে হাজির হয়ে অভিযোগ করেছেন, বিষয় টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। উল্লেখিত বিষয় টি তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বজলুর রহমানকে সরেজমিন তদন্ত পূর্বক রিপোর্ট দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। কৃষকেরা এ আর মালিক সীডস্ কোম্পানির ফুলকপির বীজ ক্রয় করে যে ঘটনাটি ঘটেছে সেটা দুঃখ জনক। কোম্পানীটি অন্যআন্য কৃষকদের মাঝে কোন কোন স্থানে বীজ বিক্রয় করছেন এবং কৃষকরা তা রোপন করার পর কেমন কপি হয়েছে তা দেখার পরই বুঝা যাবে যে আবহাওয়া জনিত কোন সমস্যা না বীজের সমসা। কোম্পানীর দু’ জন প্রতিনিধি গত বৃহস্পতিবার অফিসে একটা কাজের জন্য এসেছিলেন, সে সময় কৃষকদের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।কোম্পানির প্রতিনিধিরা আমাদেরকে জানিয়েছেন আমাদের অন্যআন্য কৃষকদের লাগানো বীজের ফুলকপি এমন হয়নি, এরপরও যদি এমন সমস্যা সৃষ্টি হয়ে থাকেন বিষয় টি আমরা কর্তৃপক্ষের নিকট কথা বলে ডিলারদের মাধ্যমে কৃষকদের নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করবো। বিষয়টি যদি কৃষকদের সাথে সমঝোতায় আসতে পারেন ভালো কথা,আর যদি তা না হয় তদন্ত সাপেক্ষে প্রশাসনিক ভাবে এগিয়ে নেওয়া হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020 DailyAmaderChuadanga.com

 www.bdallbanglanewspaper.com

Design & Developed BY Creative Zoone IT