শুক্রবার, ২১ জানুয়ারী ২০২২, ১০:৩৭ অপরাহ্ন

শিরোনাম
ভেড়ামারা থানা পুলিশের অভিযানে বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্টভূক্ত ১২ জন আসামী গ্রেফতার গাংনীতে ডি বি পুলিশের হাতে দুই পলাতক আসামি আটক গাংনীতে শীতবস্ত্র বিতরণ করোনা প্রতিরোধে ৬ দফা নির্দেশনা জারি করে প্রজ্ঞাপন সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা দর্শনায় শিক্ষার্থীদের মাঝে শীতবস্ত্র প্রদান “ভালোবাসার বন্ধন দর্শনার করোনার উচ্চ ঝুঁকিতে থাকায় ভেড়ামারা উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসনের তৎপরতা ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের রোগ মুক্তি কামনায় চুয়াডাঙ্গায় সুবিধা বঞ্চিতদের মাঝে খাবার বিতরণ দর্শনা থানা সেচ্ছাসেবক দলে আয়োজনে দোয়া ও মিলাদ রাতের আধারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৩ টি পরিবারের ৫০ ঘর পুরে ছাই

ঝিনাইদহ সদর থানার ওসির মানবতা, ফেলে যাওয়া সেই নারীকে ঠাঁই হলো চাইল্ড এন্ড ওল্ডেজ হোমে-

 আনোয়ার হোসেন, ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধিঃ

আলেয়া বেগম বয়স ৬৫ থেকে ৭০ বছরের মত। কয়েক সন্তানের জননী। তবে ঠায় হয়নি তাদের ঘরে। গত ৮ ডিসেম্বর রাতে ইজিবাইকে করে ঝিনাইদহ শহরের নতুন কোর্টপাড়ায় কে বা কারা তাকে ফেলে রেখে যায়। তিনি নিজের নাম আলেয়া ছাড়া আর কিছুই বলতে পারেন না। স্থানীয় ২ স্বেচ্ছাসেবীর সহযোগিতায় আলেয়া বেগমের খবর আসে ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি মিজানুর রহমানের কাছে। বৃদ্ধার দায়িত্ব নেন তিনি। ওসি মিজানুর রহমান বৃদ্ধা আলেয়া বেগমের চিকিৎসা করান সদর হাসপাতালে। চিকিৎসা শেষে নুতুন কোর্ট পাড়ার আব্দুল মজিদের বাড়িতে সাময়িক দেখভালের জন্য দায়িত্ব দেন। বৃদ্ধা আলেয়া বেগম বিছানায় প্রসব-পায়খানা করে। তা সত্বেও তারা ১৪ দিন বৃদ্ধা আলেয়ার দেখভাল করেন। এর মধ্যে ওসি মিজানুর রহমান আলেয়া বেগমের জন্য উপযুক্ত জায়গা খুজতে থাকেন। কথা হয় ঢাকার চাইল্ড এন্ড ওল্ডেজ হোম’র কর্তৃপক্ষের সাথে। ছিট খালী না থাকা সত্বেও ওসির অনুরোধে তারা বৃদ্ধা আলেয়াকে নিয়ে নেন। কিন্তু তাকে ঢাকায় পাঠাতে প্রয়োজন গাড়ি ভাড়া। ওসি নিজে ও ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের আর্থিক সহায়তায় অবশেষে আলেয়া বেগমের যায়গা হলো সেখানে। মঙ্গলবার দুপুরে চাইল্ড এন্ড ওল্ডেজ হোম’র প্রতিনিধিদের কাছে বৃদ্ধা আলেয়া বেগমকে হস্তন্তর করা হয়। বাড়ি থেকে ফেলে যাওয়া আলেয়া বেগম ১৪ দিনের আতিথিয়েতায় যাওয়ার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন। স্থানীয় লোকজনও বিদায়ের সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। ওসি মিজানুর রহমান জানান, আমাদের অনেকেরই বাবা-মা বেচে নেই। বাবা-মা কত কষ্ট করে সন্তান লালন-পালন করেন। মা সন্তান জন্মদানের সময় কত কষ্ট করেন। তিনি জানান, স্থানীয় দুই স্বেচ্ছাসেবী তরুণ-তরুণীর মাধ্যমে আমি জানতে পারি গত ৮ ডিসেম্বর রাতে নতুন কোর্ট পাড়ায় ইজিবাইকে করে বৃদ্ধা আলেয়া বেগমকে কে-বা কারা ফেলে রেখে যায়। শেষ পর্যন্ত আমি তাকে একটা গতি করতে পেরেছি। এর আগের ওসি মিজানুর রহমান শৈলকুপার এক প্রতিবন্ধী ব্যক্তির দায়িত্ব নেন। তাকেও পাঠানো হয়েছে এই চাইল্ড এন্ড ওল্ডেজ হোমে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020 DailyAmaderChuadanga.com এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি