সোমবার, ০১ মার্চ ২০২১, ০৭:৪৭ অপরাহ্ন

শিরোনাম
‘তলাবিহীন ঝুড়ি’র অপবাদখ্যাত আমাদের মাতৃভূমি, আজ এক ‘লড়াকু বাংলাদেশ’ চুয়াডাঙ্গার মা নার্সিংহোমে সিজারিয়ানের পর সদর হাসপাতালে নবজাতকের মৃত্যু চুয়াডাঙ্গার কার্পাসডাঙ্গায় শাফা কেমিক্যালে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে তৈরী হচ্ছে ভেজাল ডিটারজেন্ট তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ডিজিটাল আইনের মামলা ১৮ বিক্ষোভকারীর রক্তে ভিজল মিয়ানমারের রাজপথ ঝিনাইদহ হরিণাকুন্ডুতে ৭৫ বিঘা পানবরজ আগুনে পুড়ে ছাই করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে বাটাগুরবাসকা একটি কচ্ছপ ডিম পেড়েছে ২৭টি চুয়াডাঙ্গার কার্পাসডাঙ্গায় বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি ছাড়াই তৈরী হচ্ছে ভেজাল ডিটারজেন্ট বিপুল ভোটে শৈলকুপায় নৌকা প্রার্থীর বিজয় ঝিনাইদহ হরিণাকুন্ডু পৌরসভার নব-নির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিরগণের দায়িক্ত হস্তান্তর ও গ্রহণ অনুষ্ঠিত 

চুয়াডাঙ্গা-আলমডাঙ্গা সড়কের বোয়ালমারী গ্রামে ৩ ডাকাত সদস্যকে গণপিটুনীর পর পুলিশে সপর্দ

ষ্টাফ রিপোর্টার:

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বোয়ালমারী গ্রামে ডাকাতির প্রস্তুতি বৈঠক শেষে ছাগল চুরি করার সময় গণপিটুনীর শিকার হয়েছে সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের ৩ সদস্য।  বুধবার বেলা সোয়া ৩ টার দিকে চুয়াডাঙ্গা-আলমডাঙ্গা সড়কের বোয়ালমারী গ্রামে ঘটে এ ঘটনা। প্রকাশ্য দিনের বেলায় উল্লেখিত ছাগল চুরির ঘটনাটি টের পেয়ে পথ চলতি লোকজন সংঘ্যবদ্ধ হয়ে ডাকাত দলের সদস্যদেরকে প্রতিরোধ করতে গেলে ডাকাতদের ধারালো অস্ত্রের কোপে মিল্টন নামে একজন রক্তাক্ত জখম হয়েছে। রক্তাক্ত জখম মিল্টন (৪৫) বোয়ালমারী গ্রামের আফতাব আলী মোল্লার ছেলে।


এদিকে, মিল্টনের উপর ডাকাতদের হামলার ঘটনায় উত্তেজিত মানুষ সংঘ্যবদ্ধ হয়ে তাৎক্ষণিক ধাওয়া দিয়ে ৩ ডাকাত সদস্য ধরে গণপিটুনী দেয়। ওই সময়ে অবস্থা বেগতিক উপলদ্ধি করে ডাকাত দলের অন্যান্য সদস্যরা পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল ওই বোয়ালমারী গ্রামে পৌঁছে উত্তেজিত জনতাকে স্তমিত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। পুলিশ গণপিটুনীর শিকার ডাকাত দলের ৩ সদস্যকে উদ্ধার চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর আটক দেখিয়ে পুলিশ হেফাজতে নেয় ওই ৩ ডাকাত সদস্যকে।
আটককৃত ডাকাত সদস্যরা হলো চুয়াডাঙ্গা শহরের বাগানপাড়ার মিরাজুল ইসলামের ছেলে আকাশ (২০) ও অহিদুল ইসলামের ছেলে অমিত (১৯)। আটক অপরজন হলো চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শংকরচন্দ্র গ্রামের স্কুলপাড়ার মৃত সাজু মন্ডলের ছেলে হৃদয় (২২)।
জানা যায়, এই চক্রটি চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন স্থানে চুরি-ডাকাতি ও ছিলতাই করে বেড়ায়। স্বীকারক্তিমতে, আটককৃত এই ডাকাত সদস্যরা ডাকাতির লক্ষ্যে ঘটনার আগে থেকেই বোয়ালমারী গ্রামে অবস্থান করছিল। পুলিশ ডাকাত সদস্যদের কাছ থেকে একটি চাপাতি ও একটি ছোড়া উদ্ধার করেছে।
এদিকে, গতকাল বুধবার বিকেলের দিকে ঘটনায় সময় আলমডাঙ্গা-চুয়াডাঙ্গা সড়কে প্রায় একঘন্টাকাল যানবাহন ও লোক চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে থাকে।


গ্রামবাসী জানায়, গতকাল বুধবার বিকেল ৩ টার দিকে বোয়ালমারী গ্রামের একটি মাঠের মধ্যে থেকে ৮ থেকে ১০ জন মিলে গ্রামের অতিয়ারের একটি ছাগল চুরি করে অটোরিক্সায় তুলছিল। বিষয়টি গ্রামের মিল্টন দেখে ফেললে সে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ডাকাত সদস্যরা মিল্টনকে এলোপাথারী কুপিয়ে জখম করে। এদিকে, আহত মিল্টনের চিৎকারে পথ চলতি ও গ্রামের লোকজন ঘটনাস্থল ওই বোয়ালমারী গ্রামের রাস্তায় ছুটে আছে। উপস্থিত উত্তেজিত প্রতিবাদী জনতা ঘটনাস্থল থেকে ৩ জন ডাকাত সদস্যকে ধরে গণপিটুনী দেয়।
খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে পৌছে ১ ঘন্টার ব্যবধানে উত্তেজিত প্রতিবাদী জনতাকে স্তমিত করে পরিস্থিতি শান্ত করে। একই সময়ে গণপিটুনীর শিকার জনতার হাতে আটক ৩ ডাকাত সদস্যকে উদ্ধার করে।
এদিকে, ডাকাতদের কোপানিতে আহত মিল্টন জানায়, ‘ঘটনার সময় গতকাল বুধবার বিকেল ৩ টার দিকে ক’একজন ডাকাত সদস্য মিলে গ্রামের অতিয়ারের একটি ছাগল চুরি করে অটোতে তুলছিল। এ সময় আমি কাছে গিয়ে প্রতিবাদ করলে ডাকাত সদস্যরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আমাকে এলোপাথাড়ী কুপিয়ে জখম করে’।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, আহত মিল্টনের অবস্থা আশংকাজনক। তার বুকের ডাক দিকে কোপের আঘাতে গভীর ক্ষত হয়েছে। তার শরীরের প্রায়ই ২০টা সেলাই দেয়া হয়েছে। প্রাথমিক চিকিতসা শেষে বাসায় পাঠানো হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ আবু জিহাদ ফখরুল আলম খান বলেন, এরা একটি ডাকাত চক্র। এই চক্রটি চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন স্থানে চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাই করে বেড়ায়। বিকেলে একটি ছাগল চুরির সময় গ্রামের মিল্টন নামের এক যুবক দেখে ফেলায় তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। পরে পথ চলতি ও গ্রামের মানুষ প্রতিবাদী ও উত্তেজিত হয়ে উঠে। এ সময় উত্তেজিত ও প্রতিবাদী লোকজন ৩ ডাকাত সদস্যকে আটক করে গণপিটুনী দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উত্তেজিত ও প্রতিবাদী জনতার কাছ থেকে গণপিটুনীর শিকার ৩ ডাকাত সদস্যকে উদ্ধার করে। তাদের নিকট থেকে একটি চাপাতি ও ছোরা পাওয়া যায়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদেরকে আটক করা হয়। এ বিষয়ে সদর থানায় একটি মামলা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
অফিসার ইনচার্জ আরও বলেন, ঘটনাস্থলে কোন পুলিশ সদস্য আহত হয় নি। তবে, জনরোষে ধাক্কাধাক্কির শিকার হয়েছে ক’একজন পুলিশ সদস্য।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020 DailyAmaderChuadanga.com

 www.bdallbanglanewspaper.com

Design & Developed BY Creative Zoone IT