শুক্রবার, ১৪ মে ২০২১, ০৭:১৭ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
ঝড়-বৃষ্টিতে ম্লান হতে পারে ঈদ আনন্দ ঈদ উদযাপন যেন সংক্রমণ বাড়ার উপলক্ষ না হয়: প্রধানমন্ত্রী মেহেরপুরের গাংনীতে মাংসের দােকান উচ্ছেদ করলেন মেয়র আহম্মেদ আলী ফিলিস্তিনিদের উপর হামলার প্রতিবাদে ঝিনাইদহে মানববন্ধন গাংনীতে দােকানদারের হামলায় বাবা-মেয়ে আহত ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে বজ্রপাতে গৃহবধু শেফালীর মৃত্যু কুষ্টিয়া মিরপুর থানা পরিদর্শন করলেন পুলিশ সুপার খাইরুল আলম মুজিবনগরে সিডিপি‘র স্পান্সার শিশুদের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী উপহার প্রদান গাংনীতে খাদ্য অনপোযুগী পঁচা চাল নিয়ে চালবাজি, মােটরশ্রমিকদের তােপের মুখে চাল বিতরণ বন্ধ চুয়াডাঙ্গায় ২১ বীর মুক্তিযোদ্ধা পুলিশ পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার সামগ্রী প্রদান

একটি কম্বলের আশায় পথে পথে ঘুরছে হতদরিদ্র সালেহা খাতুন

কাজী সামসুর রহমান, জীবননগর থেকে:

কন কনে হিমেল হাওয়ায় গায়ে একটি কাপড় জড়িয়ে এসে দাঁড়ালেন উপজেলা পরিষদ চত্বরে। সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা আরো ৭-৮জন হতদরিদ্র বৃদ্ধা নারী সারি বদ্ধভাবে বসে আছে শীত নিবারনের জন্য একটি কম্বলের আশায়। উপজেলা প্রশাসনিক ভবনে কেউ ঢুকলে তারা দৌঁড়ে গিয়ে বলছে, বাবা এখানে নাকি ইউএনও স্যার কম্বল দিচ্ছে। কেউ কেউ উত্তর না দিয়ে ঢুকে পড়ছেন প্রশাসনিক ভবনের ভিতর। আবার কেউবা বলছেন এখানে দাড়িয়ে থাকো ইউএনও স্যার বের হলে তার কাছে কম্বল চেঁয়ো।
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলা প্রশাসনিক ভবনের সামনে সকাল থেকে রাত অবধি এলাকার ছিন্নমুল হতদরিদ্র মানুষরা শীত বস্ত্রের জন্য জড়ো হতে থাকে। এদের মধ্যে কারও একটি কম্বল জুটলেও বাকীরা নিরাস হয়ে ফিরে যায় বাড়ীতে।
সড়ক ও জনপদ বিভাগের জীবননগর দত্তনগর সড়কের ধারে সরকারী জমিতে বসবাসকারী সালেহা খাতুন বলেন, ৪ মাস আগে স্বামী মহির উদ্দীন(৭৫) মারা গেছে। সংসারে ৪ ছেলে ও ২ মেয়ে স্বামীর মৃত্যুর আগে মেয়ে দুটির বিয়ে হয়েছে। অনেক আগে থেকে ৪ ছেলে তাদের পরিবার নিয়ে আলাদা ভাবে বসবাস করছে। ছেলেদের সংসারেও রয়েছে অভাব অনটন। স্বামীর মৃত্যুর পর সরকারী জায়গায় এক খুপড়ি ঘরে থাকি আর অন্যের বাড়ীতে কাজ করে কনো রকম দু’মুঠো ভাত খেয়ে বেঁচে আছি। শীতের কাপড় কেনবো তো টাকা কোথায়। চেয়ারম্যান ও মেম্বররা আমার কনো সাহায্য সহযোগিতা করিনি। তাই লোক মুখে শুনলাম ইউএনও অফিসে গেলে নাকি কম্বল পাওয়া যাবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জীবননগর উপজেলা ১টি পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। ২০১১ সালের আদম সুমারি অনুযায়ী মোট জনসংখ্যা ১লাখ ৭৯হাজার ৫’শ ৮১জন হলেও বর্তমানে তা দ্বিগুনেরও বেশী। এ বছর সরকারী ভাবে শীতার্থ মানুষের জন্য এ উপজেলায় ৪ হাজার ৩’শ ৩২টি কম্বল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও শীত বস্ত্র কেনার জন্য ৬লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সামাদুল হক জানান, গত চার দিন যাবত চুয়াডাঙ্গা জেলার ওপর দিয়ে শৈত প্রবাহ বইছে। চার দিনে জেলায় ৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৯.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা উঠা নামা করছে। আগামী কয়েক দিন শৈত প্রবাহের সাথে সাথে শীতের প্রকপ থাকতে পারে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020 DailyAmaderChuadanga.com

 www.bdallbanglanewspaper.com

Design & Developed BY Creative Zoone IT