শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল ২০২১, ০৬:২১ পূর্বাহ্ন

তীব্র শীত আর কনকনে বাতাসে কাপছে চুয়াডাঙ্গাঃ বিপর্যস্ত জনজীবন

চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ দশমিক ৫ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ৬ দশমিক ৫৯ ডিগ্রী সেলসিয়াস

আহসান আলম: হাড় কাপানো তীব্র শীতের সাথে কনকনে বাতাসে অনকটা বিপর্যস্ত নেমে এসেছে চুয়াডাঙ্গার ছিন্নমূল ও খেটে খাওয়া মানুষের জনবীবনে। দিনের বেলা সূর্যের আলো থাকলেও তেমন উত্তাপ ছড়াচ্ছে না। সেই কারণে শীতের তীব্রতা বেশী মনে হচ্ছে। খেটে খাওয়া ছিন্নমূল মানুষগুলো সকালে কাজে বের হতে পারছেনা। খরখুটোর আগুনই তাদের একমাত্র ভরসা। সবচেয়ে বেশী বিপদে আছে বৃদ্ধ আর শিশুরা। শীত নিবারনের জন্য তারা ছুটছে কম দামের কাপড়ের দোকানে। গত ক’দিন ধরে কমদামের কাপড়ের দোকানগুলো উপচেপড়া ভীড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শীতের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে হাসপাতাল গুলোতে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা তেমন না বাড়লেও শীত মোকাবেলায় ইতোমধ্যে স্বাস্থ্যবিভাগ সকল প্রস্তুতি নিয়ে নিয়েছে। চুয়াডাঙ্গায় শুক্রবার মধ্যরাত থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ৯ টায় চুয়াডাঙ্গার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিলো কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ৬ দশমিক ৫৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চুয়াডাঙ্গার তাপমাত্রা আরও কমতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অফিস এবং সেই সাথে বাড়তে পারে ঘন কুয়াশা।


চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার জালশুকা গ্রামের দিনমজুর আব্দুল জলিল জানান, শীতের কারনে কোন মহাজন কাজ করাতে চাচ্ছেন না। সে কারনে শহরে এসে কোন কাজ পাইনি। কনকনে শীত হওয়ার কারনে কাজ পাচ্ছেননা বলে জানান তিনি।
একই কথা জানান, সদর উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামের দিনমজুর আবদার আলী মন্ডল। তিনি জানান, শীতের কারনে কোন মহাজনই কাজ করাতে চাচ্ছেন না। কাজ না পেলে পরিবারের সকলকে নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তিনি।
চুয়াডাঙ্গায় অবস্থিত আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সামাদুল হক জানান, আকস্মিক তাপমাত্রা কমে যাওয়া, মেঘলাভাব কেটে যাওয়া ও উত্তরের হিমেল হাওয়ার কারনে শীত বেশি অনুভুত হচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু কনসালটেন্ট ডা. মাহাবুবুর রহমান মিলন স্বাস্থ্য সচেতনতামুলক এক বক্তব্যে তিনি বলেন, শীত আসার সাথে সাথে শীতজনিত রোটাভাইরাল রোগে মানুষ বেশি আক্রান্ত হয়। বিশেষকরে শিশুরা এ রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। শীতে সকালে শিশুদের বাড়ির বাইরে বের করা যাবে না। বেশিরভাগ সময় শিশুদের গরম কাপড় গায়ে দিয়ে রাখতে হবে। শিশুদের ঠান্ডা পানি থেকে দুরে রাখতে হবে। রাতের বেলা শিশুদের খেয়াল রাখতে হবে যাতে ছোট্র শিশুদের ভেঁজা কাপড়গুলো দ্রুত পাল্টে দেয়া যায়।
জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার জানান, এ পর্যন্ত জেলায় ২০ হাজার ৭শ’ কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। তাছাড়া আরও ২৪ লাখ ৫০ হাজার টাকার কম্বল কেণা হয়েছে যা খুব তাড়াতাড়ি বিতরণ করা হবে।
চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা. এএসএম মারুফ হাসান জানান, শীতের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীরা হাসপাতালে আসে। বিশেষ করে বৃদ্ধ ও শিশুরাই এরোগে বেশি আক্রান্ত হয়। চলতি মৌসুমে শীত বাড়লেও এখনও হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা তেমন বাড়েনি। শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য আমরা সদর হাসপাতালসহ সকল স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020 DailyAmaderChuadanga.com

 www.bdallbanglanewspaper.com

Design & Developed BY Creative Zoone IT