শনিবার, ০৮ মে ২০২১, ০৬:২৬ অপরাহ্ন

শিরোনাম
বঙ্গবন্ধুর আদর্শ মনে প্রাণে ধারণ করি- জুয়েল চেয়ারম্যান কুষ্টিয়ায় সেফটি ট্যাংকের ভিতরে ২ নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের ইফতার বিতরণ মেহেরপুরের আমঝুপি গ্রামে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু চুয়াডাঙ্গায় গাঁজাসহ আটক ৩, ভ্রাম্যমাণ আদালতে জেল-জরিমানা ঝিনাইদহে ভারত ফেরত ১৪৭ বাংলাদেশী হোম কোয়ারেন্টাইনে কর্মহীন পরিবারের বাড়ীতে বাড়ীতে ইফতার সামগ্রী পৌঁছে দিলেন একদল যুবক চুয়াডাঙ্গার দর্শনা পৌরসভায় ভিজিএফ কার্ডধারীদের নগত অর্থ বিতরণ চুয়াডাঙ্গায় পূর্ব বিরোধের জেরে আ’লীগ কর্মী নজরুলকে কুপিয়ে জখম, আটক-১ ঝিনাইদহে বাম জোটের মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

স্কুলে ভর্তিতে লটারি, হতাশায় অভিভাবক

দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো স্কুলে সব শ্রেণিতেই লটারির মাধ্যমে ভর্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ইতিমধ্যে অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গত রোববার শুরু হওয়া এই আবেদন নেওয়া হবে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত। আগামী ৩০ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে লটারি অনুষ্ঠিত হবে। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর জানুয়ারিতে শুরু হবে ভর্তি কার্যক্রম। এরইমধ্যে ভর্তির নির্দেশনা জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

গত এক দশক ধরে শুধু প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি করা হতো লটারির মাধ্যমে। অন্য শ্রেণির ভর্তি হতো আগের ক্লাসের ফলের ভিত্তিতে। আর নবম শ্রেণির ক্ষেত্রে বিষয়টি নির্ভর করত জেএসসির ফলের ওপর। কিন্তু করোনা মহামারীর কারণে এবার সবাইকেই দিতে হবে ভাগ্যের পরীক্ষা।

গত শনিবার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের উপ-পরিদর্শক (কলেজ-২) মো. এনামুল হক হাওলাদার স্বাক্ষরিত নির্দেশনায় প্রথম শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত লটারির মাধ্যমে ছাত্রছাত্রী নির্বাচন করে ভর্তি করতে বলা হয়েছে। এতে লটারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নীতিমালা অনুযায়ী গঠিত ভর্তি তদারকি ও পরিবীক্ষণ, বিদ্যালয়ের ভর্তি পরিচালনা কমিটি, অভিভাবক প্রতিনিধি, ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রতিনিধি ও শিক্ষক প্রতিনিধির উপস্থিতিতে নিশ্চিত করতেও বলা হয়েছে।

তবে ভর্তির এই পদ্ধতির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা। ‘ভাগ্যনির্ভর’ এই ভর্তি পদ্ধতির সমালোচনা করছেন অনেকেই। আর যারা সন্তানকে ‘ভালো স্কুলে’ ভর্তি করানোর জন্য দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতি নেওয়াচ্ছিলেন তারা রীতিমতো হতাশ।

রাজধানীর মিরপুর পীরেরবাগের বাসিন্দা তানিয়া সুলতানা। তার ছেলে ত্বকী স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের ২য় শ্রেণির ছাত্র। তানিয়া সুলতানার প্রবল ইচ্ছে ছেলেকে ধানমন্ডি গভ. বয়েজ হাই স্কুলে ভর্তি করার। সে অনুযায়ী প্রায় এক বছর ধরে ছেলেকে প্রস্তুতি নেওয়াচ্ছিলেন তিনি। নিজে পড়ানোর পাশাপাশি প্রাইভেট টিউটরও রেখেছেন। কিন্তু লটারির মাধ্যমে ভর্তির ঘোষণা আসায় অনেকটাই হতাশ তিনি।
তানিয়া সুলতানা বলেন, ‘আমার দৃঢ় বিশ্বাস ও (ত্বকী) যেভাবে প্রস্তুতি নিয়েছে, তাতে চান্স পাওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ। এখন তো ভর্তির বিষয়টি পুরোপুরি ভাগ্য নির্ভর হয়ে গেল। যদি ভাগ্য ভালো হয় তবে টিকবে, না হলে আর কী করা যাবে? মেনে নিতে হবে।’

রাজধানীর শাহজানপুর এলাকার এক অভিভাবক বদরুল আলম বলেন, ‘তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত লটারির মাধ্যমে ভর্তি ঠিক আছে। কিন্তু উপরের ক্লাসগুলোতে শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাই করেই ভর্তি নেওয়া উচিত। শুধু লটারির মাধ্যমে ভর্তি করানো হলে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীই হয়তো ভালো স্কুলে ভর্তি হতে পারবে না।’ তিনি এ বিষয়ে পুনর্বিবেচনা করার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, সরকার যদি দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ালেখার মান নিশ্চিত করে তাহলে আর এই প্রতিযোগিতার বিষয়টি থাকে না।

আজিমপুর এলাকার বাসিন্দা লামিয়া আক্তার মেয়ে তৃণাকে ভর্তি করাবেন ভিকারুননিসা নূন স্কুলের আজিমপুর শাখায়। তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তির জন্য অনেক খেটেখুটে মেয়েকে প্রস্তুত করিয়েছেন তিনি। তৃণাও ভালো প্রস্তুতি নিয়েছে। কিন্তু এখন তাকে ভর্তি পরীক্ষার বদলে দিতে হবে ভাগ্যের পরীক্ষা! বিষয়টি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে লামিয়া আক্তার বলেন, ‘ভাগ্যের পরীক্ষায় যদি পাস না হয়, তাহলে তো আমার মেয়ের স্কুলে ভর্তি হওয়াটাই অনিশ্চিত হয়ে যাবে। এটা কোনো সিস্টেম হলো? এ বিষয়ে সরকারের আরও ভাবা উচিত ছিল।’

সৈয়দ আহসান কবীর নামের এক অভিভাবক বলেন, লটারি পদ্ধতিতে স্কুলে ভর্তি প্রহসনের মতো। এটা মেনে নেওয়া যায় না। এতে মেধার প্রতিযোগিতার যে কালচার, তা থেকে পিছিয়ে পড়বে শিক্ষার্থীরা। এমনও হতে পারে, এক সময় সবক্ষেত্রেই তারা লটারির দাবি করে বসতে পারে। আর একটি বিষয়, যারা লটারিতে চান্স পাবে না তারা নিজেকে ‘আনলাকি’ ভাবতে পারে; যা তাদের আত্মবিশ্বাসে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

অবশ্য লটারির মাধ্যমে স্কুলে ভর্তির পদক্ষেপকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অভিভাবক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ সুজন।

তিনি বলেন, রাজধানী ও দেশের নামকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে যে ভর্তি বাণিজ্য চলে, এর মাধ্যমে সেটা কমে আসবে। তাছাড়া করোনা পরিস্থিতিতে এর চেয়ে ভালো কোনো বিকল্পও নেই। তবে এটা ঠিক যে, এতে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী ভালো প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে বঞ্চিত হতে পারে। কিন্তু বর্তমান করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় এটা মেনে নেওয়া ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই।

অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি জিয়াউল কবির দুলু বলেন, আমরা এটা স্বীকার করি যে, লটারি মেধার বিকল্প হতে পারে না। তবে এই মহামারীতে কাউকে না কাউকে তো ছাড় দিতেই হবে। পরীক্ষা দিতে গিয়ে কোনো শিক্ষার্থী যদি করোনা আক্রান্ত হয়, তার থেকে বরং লটারিই ভালো।’

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিফতরের পরিচালক (মাধ্যমিক) অধ্যাপক মো. বেলাল হোসাইন বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও উপমন্ত্রী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, দুই মন্ত্রণালয়ের সচিবগণ, শিক্ষাবিদ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের নিয়ে এক ভার্চুয়াল মিটিংয়ে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। এখান থেকে সরে আসার কোনো সুযোগ নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘সাধারণত মেধাবী শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিয়ে তথাকথিত ভালো প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়; সে কারণেই ওই প্রতিষ্ঠানগুলো ভালো ফলাফল করে। আমাদের মন্ত্রী মহোদয় বলেছেন- এবার আমরা দেখতে চাই, এভারেজ স্টুডেন্ট ভর্তি হলে ওই প্রতিষ্ঠানগুলো কেমন রেজাল্ট করে। সেটারও একটা এক্সপেরিমেন্ট হবে।’

সূত্র: খোলা কাগজ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020 DailyAmaderChuadanga.com

 www.bdallbanglanewspaper.com

Design & Developed BY Creative Zoone IT