শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:৪৮ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
গাংনীতে সড়ক দুর্ঘটনায় পা হারালেন ৬০ উধো্ এক নারী মেহেরপুর সড়ক দুর্ঘটনায় ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় কর্মী নিহত , আহত-৩ জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীর সাথে বিভিন্ন শ্রমিক নেতাদের মতবিনিময় গাংনীতে একজন মাদক কারবারীর কারাদন্ড স্বাস্থ্যবিধি মেনে শারদীয় দুর্গাপূজা উৎসব –জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আমঝুপির মাঠে কলার কাঁদি কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা মুকুট মণি সম্মানে ভূষিত হওয়ায় ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের আনন্দ মিছিল মেহেরপুরের রানা ১৫ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী আইপি টিভির রেজিস্ট্রেশন নির্দেশিকা শিঘ্রই: তথ্যমন্ত্রী

জানুয়ারীর শুরুতেই ভ্যাকসিন পাবে বাংলাদেশ : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

 আগামী জানুয়ারীর প্রথম দিকেই ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা টিকা আমদানি করা হবে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে। গতকাল রাজধানীর মহাখালীতে বিসিপিএস ভবনে ‘হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন, ২০২০’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, টিকা আনার জন্য অনেক আগেই চুক্তি করেছে সরকার। বিশ্বের অনেক দেশেরই চুক্তি না থাকায় টিকা নিতে বিলম্ব হবে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের ফলে এবং দ্রুত অর্থনৈতিক জোগান দেয়ায় বিশ্বের অনেক দেশের আগেই টিকা চলে আসছে বাংলাদেশে। এর পাশাপাশি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও বাংলাদেশকে কিছু টিকা দেবে। সেগুলোও সরকার সময়মতো হাতে পেয়ে যাবে। আশা করা হচ্ছে, এই প্রাপ্ত টিকাগুলো থেকে ক্রমান্বয়ে দেশের প্রায় ২৭ ভাগ মানুষের টিকাপ্রাপ্তি ঘটবে।

মন্ত্রী টিকাদানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নানা সাফল্যের চিত্র তুলে ধরেন। সঠিক নিয়মে ও দক্ষতার সঙ্গে টিকা দেওয়ার ফলে হাম-রুবেলা, পোলিওসহ ১০ ধরনের কঠিন সংক্রামক ব্যাধি দেশ থেকে নির্মূল হওয়ার পথে রয়েছে বলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান। স্বাস্থ্য খাতের সফলতায় দেশের প্রায় ৯০ ভাগ শিশুকে টিকা দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, অতীতে বেশ কয়েকবার দেশব্যাপী হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন পরিচালিত হওয়া সত্ত্বেও বিগত কয়েক বছরে দেশে হাম ও রুবেলা রোগের প্রকোপ এবং আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণকল্পে এবং ২০২৩ সাল নাগাদ দেশ থেকে হাম-রুবেলা দূরীকরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের নিমিত্তে সরকার আগামী ১২ ডিসেম্বর ২০২০ থেকে ২৪ জানুয়ারি ২০২১ পর্যন্ত সারা দেশে আরও একটি ‘হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন, ২০২০’ পরিচালনা করতে যাচ্ছে। এই ক্যাম্পেইনের আওতায় দেশব্যাপী ৯ মাস থেকে ১০ বছরের নিচের প্রায় তিন কোটি ৪০ লাখ শিশুকে এক ডোজ এমআর টিকা প্রদান করা হবে। এই ক্যাম্পেইনের মূল উদ্দেশ্য হলো ৯ মাস থেকে ১০ বছরের শতকরা ৯৫ ভাগের বেশি শিশুকে এক ডোজ এমআর টিকা প্রদান এবং চলমান কভিড-১৯ মহামারি বিবেচনা করে নিরাপদ পরিবেশে জনগণ বা স্বাস্থ্যকর্মী কারও ক্ষতিসাধন না করে গুণগত মানসম্পন্ন একটি টিকাদান ক্যাম্পেইন পরিচালনা নিশ্চিত করা।

উল্লেখ্য, ক্যাম্পেইনটি গত ১৮ মার্চ থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু কভিড-১৯ মহামারির কারণে তা শেষ মুহূর্তে স্থগিত করা হয়। বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে ক্যাম্পেইনটি পরিচালনার জন্য নতুন একটি কর্মকৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে। এই নতুন কর্মকৌশল অনুযায়ী ক্যাম্পেইনটি সারা দেশে কমিউনিটি পর্যায়ে পরিচালিত হবে। ক্যাম্পেইনটি চলাকালে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমও চালু থাকবে। আগে পরিকল্পিত তিন সপ্তাহের পরিবর্তে ক্যাম্পেইনের সময়কাল বাড়িয়ে ছয় সপ্তাহ করা হয়েছে। টিকা কেন্দ্রে ভিড় এড়াতে টিকা কেন্দ্রের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

প্রতিটি ইউনিয়নের একেকটি ওয়ার্ডে ক্যাম্পেইন টিকাদান কার্যক্রম সম্পন্ন করতে দুই সপ্তাহ সময় লাগবে (সপ্তাহে দুই দিন নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে)। সারা দেশের স্থায়ী, আউটরিচ তথা অস্থায়ী এবং সৃষ্ট অতিরিক্ত নতুন ক্যাম্পেইন টিকাদান কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে ক্যাম্পেইন টিকা প্রদান করা হবে। দুই বছরের নিচের কোনো শিশু নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির কোনো টিকা না পেয়ে থাকলে ক্যাম্পেইন চলাকালে তাদের শনাক্ত করে ওই টিকা প্রদানের ব্যবস্থাও করা হয়েছে, যা নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমকেও জোরদার করবে। ক্যাম্পেইন চলাকালে টিকাদান কেন্দ্রগুলো শুক্রবার ও অন্যান্য সরকারি ছুটি ব্যতীত একযোগে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের জন্য অতিরিক্ত টিকাদলের ব্যবস্থা থাকবে এবং প্রয়োজনে দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের জন্য গঠিত টিকাদল স্বাস্থ্যকালীন সেশন পরিচালনা করবে। প্রাত্যহিক ক্যাম্পেইন কার্যক্রম ও টিকা-পরবর্তী বিরূপ প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণের নিমিত্তে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ এবং এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের অধীন সব প্রশাসনিক স্তরে যথাক্রমে সার্বক্ষণিক কন্ট্রোল রুম চালু ও এইএফআই ব্যবস্থাপনা দল নিয়োজিত থাকবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আবদুল মান্নান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমএনসিঅ্যান্ডএইচ অপারেশনাল প্ল্যানের লাইন ডাইরেক্টর ডা. মো. শামসুল হক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. মওলা বকস চৌধুরী, ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি তমু হজুমি এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশের প্রতিনিধি ড. ভুপিন্দর কাউল প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম।

সূত্র:  শেয়ার বিজ নিউজ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020 DailyAmaderChuadanga.com

 www.bdallbanglanewspaper.com

Design & Developed BY Creative Zoone IT