বৃহস্পতিবার, ১৭ Jun ২০২১, ১২:১২ অপরাহ্ন

শিরোনাম
করোনা ভাইরাস সংক্রমণরোধে ঝিনাইদহের ৬টি পৌর এলাকায় বিশেষ বিধি নিষেধ জারী সাংবাদিক জনির মুক্তির দাবিতে মেহেরপুরে মানববন্ধন আজ প্রিয় ঋতু বর্ষার প্রথম দিন চুয়াডাঙ্গায় স্বাস্থ্য সচেতনতার বিভিন্ন প্রচারণামূলক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত মেহেরপুরে কোলড্রিংস ভেবে বিষপানে শিশুর মৃত্যু মেহেরপুরের ৩টি গ্রাম লকডাউন ঘোষণা, রাজশাহীগামী বিআরটিসি বাস বন্ধ চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় ১৪দিনের সর্বাত্মক লকডাউন ঘোষণা চুয়াডাঙ্গায় নতুন করে ৫০ জনের করোনা শনাক্ত চুয়াডাঙ্গায় ভূমি সেবা সপ্তাহ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠিত ঝিনাইদহের শৈলকুপায় প্রতিবন্ধী সন্তান নিয়ে বিপাকে প্রতিবন্ধী পিতা, চান আর্থিক সহায়তা

মেট্রোরেল-বিআরটির পরও আগের ব্যবস্থায় চলাচল করতে হবে বেশির ভাগ মানুষকে

ঢাকায় পাঁচটি মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে সরকার। একইভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে দুটি বাস র্যাপিড ট্রানজিট বা বিআরটি। একটি করে মেট্রোরেল ও বিআরটি চালু হবে ২০২৫ সালের আগে। আর ‘সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে’ ২০৩০ সালের মধ্যেই ঢাকার সবক’টি মেট্রোরেল ও বিআরটি চালুর লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। নির্মাণাধীন ও নকশার কাজ চলমান থাকা তিন মেট্রোরেল আর একটি বিআরটিএর প্রাক্কলিত নির্মাণব্যয় ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা। বাকি দুটি মেট্রো, একটি বিআরটির ব্যয় এখনো চূড়ান্ত হয়নি। রাজধানীকে ঘিরে মেট্রোরেল আর বিআরটি প্রকল্পে সরকার বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করলেও এসব মেগা প্রকল্পের সুফল পাবে কেবল ১৭ শতাংশ যাত্রী। ফলে বাকি ৮০ শতাংশেরও বেশি মানুষকে বিদ্যমান পরিবহন ব্যবস্থাতেই গন্তব্যে যেতে হবে।

২০৩৫ সালে ঢাকায় প্রতিদিন ৫১ মিলিয়ন ট্রিপ তৈরি হবে। একই সময়ে পুরোদমে চালু থাকবে ঢাকার পাঁচটি মেট্রোরেল ও দুটি বিআরটি। ২০৩৫ সালে মেট্রোরেল আর বিআরটির মাধ্যমে যাত্রী পরিবহন করা যাবে সর্বোচ্চ ৯ মিলিয়ন। এ হিসাব সরকারের কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনার (আরএসটিপি)।

তবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. মো. হাদিউজ্জামান মনে করছেন, ২০৩৫ সালে মেট্রোরেল ও বিআরটিতে যত যাত্রীর যাতায়াতের প্রাক্কলন করা হয়েছে বাস্তবে তত যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হবে না। তার মতে, তখন ১০-১২ শতাংশের বেশি যাত্রী মেট্রোরেল ও বিআরটি মিলে পরিবহন করতে পারবে না।

বিষয়টি ব্যাখ্যা করে অধ্যাপক হাদিউজ্জামান বলেন, মেট্রোরেল বা বিআরটির মতো প্রকল্পের সুফল পাওয়ার জন্য প্রয়োজন ট্রান্সপোর্ট ওরিয়েন্টেড ডেভেলপমেন্ট বা টিওডি। এর মাধ্যমে মেট্রো বা বিআরটি স্টেশনকে কেন্দ্র করে অন্তত আধা বর্গকিলোমিটার এলাকায় মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলবে হবে। স্টেশনের আশপাশে বিপুলসংখ্যক মানুষের জন্য গড়ে তুলতে হবে বাসস্থান, প্রয়োজনীয় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানসহ আনুষঙ্গিক সব ধরনের অবকাঠামো। কিন্তু ঢাকায় উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত যে এমআরটি-৬ নির্মাণ করা হচ্ছে, তার স্টেশনগুলোকে ঘিরে এ ধরনের অবকাঠামো গড়ে তোলা বলতে গেলে অসম্ভব। কেননা এসব এলাকায় এরই মধ্যে অনেক অবকাঠামো গড়ে উঠেছে, যেগুলো স্থানান্তর করা যাবে না। ফলে এখানে ট্রানজিট ওরিয়েন্টেড ডেভেলপমেন্টের সুযোগ নেই। আর এটি না হলে এই রুটে যত যাত্রী পরিবহনের প্রাক্কলন করা হয়েছিল, বাস্তবে তার চেয়ে কম হবে।

উত্তরা থেকে মতিঝিল হয়ে কমলাপুর পর্যন্ত নির্মাণ করা হচ্ছে দেশের প্রথম মেট্রোরেল। সম্পূর্ণ উড়ালপথে নির্মাণাধীন এই লাইনটি এমআরটি-৬ নামে পরিচিত। এই মেট্রো লাইনটি নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা। বর্তমানে এমআরটি-৬-এর নির্মাণকাজের অগ্রগতি ৫০ শতাংশের বেশি।

এমআরটি-৬ ছাড়াও ঢাকায় আরো দুটি মেট্রোরেলের চূড়ান্ত নকশাসহ আনুষঙ্গিক কাজ এগিয়ে নেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে আমিনবাজার-গাবতলী থেকে নতুনবাজার-ভাটারা পর্যন্ত নির্মাণ করা হবে মেট্রোরেল-৫। এটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৫২ হাজার কোটি টাকার বেশি। অন্যদিকে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকায় নির্মাণ করা হবে বিমানবন্দর-কমলাপুর; বিমানবন্দর-পূর্বাচল মেট্রোরেল (এমআরটি-১)। এর মধ্যে এমআরটি-১ ২০২৬ সালে ও এমআরটি-৫ ২০২৮ সালে চালু হওয়ার কথা রয়েছে।

গাবতলী থেকে চট্টগ্রাম রোড পর্যন্ত নির্মাণ করা হবে এমআরটি-২। আর এমআরটি-৪ হবে কমলাপুর থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত। এ দুটি প্রকল্পের সম্ভাব্য সমাপ্তির সাল ধরা হয়েছে ২০৩০।

মেট্রোরেলের মতো ঢাকায় একটি বিআরটি লাইনও নির্মাণ করা হচ্ছে গাজীপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত, যার নাম দেয়া হয়েছে বিআরটি-২। এটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হচ্ছে ২ হাজার কোটি টাকার বেশি। অন্যদিকে বিআরটি লাইন-৭-এর সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজ চলছে, যার নির্মাণ ব্যয় এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সব মিলিয়ে ঢাকার এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে ২ লাখ কোটি টাকার বেশি অর্থ ব্যয় হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সরকারি তথ্য বলছে, ২০৩৫ সালে ঢাকায় ট্রিপের সংখ্যা বেড়ে গিয়ে দাঁড়াবে প্রতিদিন ৫ কোটি ১০ লাখে। সে সময় পর্যন্ত সবক’টি মেট্রোরেল ও বিআরটি চালু হলে তা দিয়ে সর্বোচ্চ ৮৯ লাখ ৫৫ হাজার যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব। এর মধ্যে মেট্রোরেল-১-এ প্রতিদিন ১৮ লাখ ৮৭ হাজার, মেট্রোরেল-২-এ প্রতিদিন ১০ লাখ ৮৪ হাজার, বিআরটি-৩-এ প্রতিদিন ১৮ লাখ ১৪ হাজার, মেট্রোরেল-৪-এ প্রতিদিন ৩৩ হাজার, মেট্রোরেল-৫-এ প্রতিদিন ১৪ লাখ ৭৮ হাজার, মেট্রোরেল-৬-এ প্রতিদিন ১৮ লাখ ১৬ হাজার এবং বিআরটি-৭-এ প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৫ লাখ ৪১ হাজার যাত্রী পরিবহন করতে পারবে। অর্থাৎ এসব অবকাঠামো হওয়ার পর ঢাকায় প্রতিদিন প্রায় সোয়া ৪ কোটি মানুষকে যাতায়াতের জন্য অন্য যানবাহন ব্যবহার করতে হবে।

দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ‘অপেশাদারি’ মনোভাবের কারণে মেট্রোরেল ও বিআরটির মতো প্রকল্পগুলোর সুফল পাওয়া নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. সামছুল হক। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থা আধুনিকায়নের একটি সুবর্ণ সুযোগ ছিল মেট্রোরেল ও বিআরটির মতো প্রকল্প, যে সুযোগ একবারই আসে। বড় বিনিয়োগের বড় রিটার্ন পেতে গেলে কৌশলী পরিকল্পনা নিতে হয়। কিন্তু আমরা সেটা করতে বারবার ব্যর্থ হচ্ছি। মেট্রোরেল ও বিআরটি হবে নির্দিষ্ট করিডোরে। সব যাত্রীকে এর সুবিধা দেয়া সম্ভব নয়। এজন্য উন্নত দেশগুলো এসব প্রকল্পের আগে তাদের বাস ব্যবস্থাটি উন্নত করে। কিন্তু আমরা ২০০৫ সাল থেকে চেষ্টা করছি, এখনো বাস রুট র্যাশনাইজেশন করতে পারলাম না। গণপরিবহনকে জনপ্রিয় করতে হলে মানুষের হাঁটার পথটি ঠিক রাখতে হয়। আমরা সেখানেও গুরুত্ব দিচ্ছি না। মেট্রো বা বিআরটি কিন্তু শুধু কোনো পরিবহন ব্যবস্থা না, এটা হলো টাউন প্ল্যানিংয়ের গাইডলাইন। আমরা এই নগর পরিকল্পনায়ও বিশৃঙ্খলা তৈরি করে যাচ্ছি। ফলে বড় বড় প্রকল্প হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু যানজট আর কমছে না।

সূত্র: বণিক বার্তা

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020 DailyAmaderChuadanga.com

 www.bdallbanglanewspaper.com

Design & Developed BY Creative Zoone IT